আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

১৮- বিবিধ প্রসঙ্গ।

হাদীস নং: ১০০২
- বিবিধ প্রসঙ্গ।
কুরআনের কতিপয় আয়াতের তাফসীর।

মধ্যবর্তী নামায
১০০২। আয়েশা (রাযিঃ)-র মুক্তদাস আবু ইউনুস (রাহঃ) বলেন, আয়েশা (রাযিঃ) আমাকে তার জন্য কুরআন মজীদের একটি পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি আরও বলেন, তুমি যখন ★★ আয়াতে পৌঁছবে তখন আমাকে অবহিত করবে। আমি তার নির্দেশিত আয়াতে পৌঁছে তাকে অবহিত করলাম। তিনি আমাকে আয়াতটি এভাবে লেখার নির্দেশ দিলেনঃ (হাদীসের মূল পাঠে উল্লেখিত)। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর কাছে আয়াতটি এরূপই শুনেছি।**
الابواب الجامعة
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي يُونُسَ مَوْلَى عَائِشَةَ، قَالَ: أَمَرَتْنِي أَنْ أَكْتُبَ لَهَا مُصْحَفًا، قَالَتْ: إِذَا بَلَغْتَ هَذِهِ الآيَةَ فَآذِنِّي {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاةِ الْوُسْطَى} [البقرة: 238] ، فَلَمَّا بَلَغْتُهَا آذنْتُهَا، وَأَمْلَتْ عَلَيَّ «حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاةِ الْوُسْطَى وَصَلاةِ الْعَصْرِ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ» ، سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** উম্মুল মুমিনীন হযরত হাফসা ও হযরত আয়েশা (রা)-র বর্ণনায় আয়াতটি একইরূপ উল্লেখিত হয়েছে। বর্তমানে গোটা দুনিয়ায় প্রচলিত কুরআনের পাঠে وصلاة العصر কথাটুকু নেই (সূরা বাকারা, ২৩৮ নম্বর আয়াত দ্রষ্টব্য)। কুরআনের কোন কোন আয়াতের একাধিক বিকল্প পাঠ রয়েছে। উল্লেখিত আয়াতটিও তার অন্তর্ভুক্ত। এসব পাঠ হাদীস ও তাফসীরের গ্রন্থসমূহে উল্লেখ আছে। কিন্তু হযরত উছমান (রা)-র আমল থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত মূল কুরআনের একটি মাত্র পাঠ প্রচলিত আছে এবং এটাই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পাঠ হিসাবে গোটা মুসলিম উম্মাতের কাছে স্বীকৃত ।
‘সালাতুল উসতা' বা 'মধ্যবর্তী নামায' কোনটি এ নিয়ে সাহাবা, তাবিঈ এবং তৎপরবর্তী যুগের বিশেষজ্ঞ আলেমদের মধ্যে মতভেদ লক্ষ্য করা যায়। এ সম্পর্কে হাদীসে বিভিন্নরূপ বর্ণনা এসেছে। (১) ইবনে আব্বাস, ইবনে উমার (রা), ইসহাক ইবনে রাহওয়ায়হ, আতা, জাবের ইবনে যায়েদ, তাঊস ও ইকরিমার মতে তা ফজরের নামায। আলী (রা) থেকেও অনুরূপ একটি মত বর্ণিত আছে। (২) যায়েদ ইবনে ছাবিত, ইবনে উমার (তাবারানীর বর্ণনায়), আবু সাঈদ আল-খুদরী ও আলী (ইবনুল মুনযিরের বর্ণনা অনুযায়ী) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মতে তা যুহরের নামায। (৩) আলী (পরিবর্তিত মত), ইবনে উমার (ইবনুল মুনযিরের বর্ণনায়), উম্মে সালামা, আয়েশা এবং হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মতে তা আসরের নামায। এই শেষোক্ত মতটিই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ । অধিকাংশ সাহাবী, তাবিঈ ও বিশেষজ্ঞ আলেমদের কাছে এই মতটিই গৃহীত হয়েছে। হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবের লোকেরা এই মত গ্রহণ করেছে। শাফিঈ মাযহাবের অধিকাংশ এবং মালেকী মাযহাবের কিছু সংখ্যক লোকের মতে তা ফজরের নামায। (৪) ইবনে আব্বাস (রা)-র মতে (ইবনে আবু হাতিমের বর্ণনায়) তা মাগরিবের নামায (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)