আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

১৮- বিবিধ প্রসঙ্গ।

হাদীস নং: ৯২৪
- বিবিধ প্রসঙ্গ।
বিভিন্ন মাসায়েল সম্পর্কিত হাদীস।
৯২৪ । আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, নবী ﷺ ক্রয়-বিক্রয়ের দু'টি পদ্ধতি, বস্ত্র পরিধানের দু'টি প্রণালী, দুই সময়ে নামায পড়া এবং দুই দিন রোযা রাখা নিষিদ্ধ করেছেন । ক্রয়-বিক্রয়ের নিষিদ্ধ পদ্ধতি দু'টি হচ্ছে, মুনাবাযা ও মুলামাসা।** বস্ত্র পরিধানের নিষিদ্ধ প্রণালী দু'টি হচ্ছে, অন্য কোন কাপড় পরা ব্যতিরেকে শুধু একটি চাদরে সর্ব শরীর আবৃত করা এবং চাদরের একদিক কাঁধের উপর তুলে রাখা। অপরটি হচ্ছে, লুঙ্গি জাতীয় কাপড় পরিধান করে হাঁটুদ্বয় খাড়া করে বসা। এতে গুপ্তাঙ্গ অনাবৃত হয়ে যেতে পারে। আর যে দুই সময়ে নামায পড়া নিষিদ্ধ (মাকরূহ) তা হচ্ছে আসরের নামাযের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এবং ফজরের নামাযের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নামায পড়া (মাকরূহ)। আর যে দুই দিন রোযা রাখা নিষেধ তা হচ্ছে, ঈদুল ফিতরের দিন এবং ঈদুল আযহার দিন।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীসের গোটা বক্তব্যের উপর আমল করি। ইমাম আবু হানীফারও এই মত।
الابواب الجامعة
بَابُ: جَامِعِ الْحَدِيثِ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حِبَّانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: " نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعَتَيْنِ، وَعَن لِبْسَتَيْنِ، وَعَنْ صَلاتَيْنِ، وَعَنْ صَوْمِ يَوْمَيْنِ، فَأَمَّا الْبَيْعَتَانِ: الْمُنَابَذَةُ وَالْمُلامَسَةُ، وَأَمَّا اللِّبْسَتَانِ: فَاشْتِمَالُ الصَّمَّاءِ وَالاحْتِبَاءُ بِثَوْبٍ وَاحِدٍ كَاشِفًا عَنْ فَرْجِهِ، وَأَمَّا الصَّلاتَانِ: فَالصَّلاةُ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسِ، وَالصَّلاةُ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، وَأَمَّا الصِّيَامَانِ: فَصِيَامُ يَوْمِ الأَضْحَى وَيَوْمِ الْفِطْرِ ".
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا كُلِّهِ نَأْخُذُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** মুনাবাযা এই যে, কোন বস্তু ক্রয়-বিক্রয়ের আলোচনা চলাকালে ক্রেতা বা বিক্রেতা যে কোন একজন অপরজনের দিকে কোন কিছু ছুড়ে মারলেই তাদের মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে, পণ্যদ্রব্য দেখার সুযোগ থাকবে না এবং উভয়ের সম্মতিরও প্রয়োজন বোধ করা হবে না। 'মুলামাসা' হচ্ছে, রাতে বা দিনে ক্রেতা বিক্রেতার কাপড় স্পর্শ করলেই তা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে, তা দেখে বিবেচনা করার সুযোগ থাকবে না। জাহিলী আরবে এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয়ের প্রচলন ছিলো। ইসলামে তা বাতিল করা হয় (অনুবাদক)।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী, হযরত আবু হুরায়রা ও হযরত উমর রাযি.-এর হাদীসগুলোতে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনে রোযা রাখতে স্পষ্ট নিষেধ করা হয়েছে। হযরত উমর রাযি.-এর বক্তব্যে এদিকেও ইঙ্গিত রয়েছে যে, ঈদুল ফিতরের দিন রোযা রাখা এজন্য নিষেধ যে, আল্লাহ তা'আলা এ দিনটিকে রমযানের পর 'ইফতারের দিন' অর্থাৎ, রোযা না রেখে পানাহার করার দিন বানিয়েছেন। এই কারণে এ দিন রোযা রাখাতে আল্লাহর অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধাচরণ করা হয়। আর কুরবানীর দিন রোযা রাখা এজন্য নিষেধ যে, এটা হচ্ছে কুরবানীর গোশত খাওয়ার দিন। আল্লাহর অভিপ্রায় যেন এই যে, এ দিন আল্লাহর নামে যেসব কুরবানী করা হয়, আল্লাহর বান্দারা যেন এগুলোর গোশত আল্লাহর মেহমানী মনে করে এবং তার দুয়ারের ভিখারী সেজে শুকরিয়ার সাথে খেয়ে নেয়। নিঃসন্দেহে ঐ বান্দা খুবই অহংকারী ও অকৃতজ্ঞ বিবেচিত হবে, যে আল্লাহর এই আম মেহমানীর দিন জেনে শুনে রোযা রাখে। তথা পানাহার বর্জন করে আর যিলহজ্বের ১১ ও ১২ তারিখও যেহেতু কুরবানীর দিন, সুতরাং এগুলোর বিধানও তাই হবে। অর্থাৎ, এ দু'দিনও রোযা রাখা যাবে না। নুবাইশা হুযালীর হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, হুযুর (ﷺ) আইয়ামে তাশরীকের সবকটি দিনকেই পানাহার অর্থাৎ, আল্লাহর মেহমানীর দিন বলেছেন, যার মধ্যে ১৩ই যিলহজ্বও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই ১০ ই যিলহজ্ব থেকে ১৩ ই যিলহজ্ব পর্যন্ত ৪ দিনই রোযা রাখা নিষিদ্ধ সাব্যস্ত করা হয়েছে। অতএব, এ দিনগুলোতে রোযা রাখা আর ইবাদত হবে না; বরং গুনাহর কাজ হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান