আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ
১৮- বিবিধ প্রসঙ্গ।
হাদীস নং: ৮৮৩
- বিবিধ প্রসঙ্গ।
দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করা।
৮৮৩। ইমাম মালেক (রাহঃ) বলেন, এক ব্যক্তি আমাকে অবহিত করেছেন যে, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ), উছমান ইবনে আফ্ফান (রাযিঃ) এবং আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করতেন।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমাদেরও এই মত। দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করায় কোন দোষ নেই। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের ফিকহবিদ সাধারণেরও এই মত ।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমাদেরও এই মত। দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করায় কোন দোষ নেই। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের ফিকহবিদ সাধারণেরও এই মত ।**
الابواب الجامعة
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنِي مُخْبِرٌ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، وَعُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، وَعَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمْ كَانُوا يَشْرَبُونَ قِيَامًا.
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، لا نَرَى بِالشُّرْبِ قَائِمًا بَأْسًا، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، لا نَرَى بِالشُّرْبِ قَائِمًا بَأْسًا، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
** দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করা এবং আহার করা সম্পর্কে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের হাদীস রয়েছে। নাযযাল (র) থেকে বর্ণিত আছে যে, কৃষ্ণা মসজিদের দরজায় হযরত আলী (রা)-এর নিকট পানি আনা হলো। তিনি তা দাঁড়িয়ে পান করেন, অতঃপর বলেন, কোন কোন লোক দাঁড়িয়ে পানি পান করে না। তোমরা আমাকে যেরূপ করতে দেখলে, আমিও রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে তদ্রূপ করতে দেখেছি" (বুখারী, আবু দাউদ)। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, “নবী ﷺ দাঁড়ানো অবস্থায় যমযমের পানি পান করেছেন” (বুখারী, তিরমিযী)।
আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) বলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর যুগে আমরা হাঁটতাম আর আহার করতাম এবং দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করতাম" (তিরমিযী, মুসনাদে আহমাদ)।
আমর ইবনে শুআইব (র) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার (পিতার) দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (আবদুল্লাহ ইবনে আমর) বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে দাঁড়ানো ও বসা উভয় অবস্থায় পানি পান করতে দেখেছি" (তিরমিযী)।
অপরদিকে হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। “রাসূলুল্লাহ ﷺ কোন ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন” (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজা, মুসলিম)। সহীহ মুসলিমে আবু সাঈদ (রা) ও আবু হুরায়রা (রা)-র সূত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। তিরমিযীতে আনাস (রা) বর্ণিত হাদীসের শেষে আছেঃ “অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে জিজ্ঞেস করা হলো, দাঁড়িয়ে আহার করার ব্যাপারে (আপনার কি মত)? তিনি বলেনঃ তা তো আরো অধিক খারাপ।
আল-জারুদ ইবনে আলা (রা) থেকে বর্ণিত। “নবী ﷺ দাঁড়িয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন” (তিরমিযী)।
মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে পানি পান করতে দেখে বলেনঃ পানি রেখে দাও। সে বললো, কেন? তিনি বলেনঃ তোমাদের সাথে বিড়াল একত্রে পানি পান করলে তুমি কি খুশি হবে? সে বললো, না। তিনি বলেনঃ তোমার সাথে বিড়ালের চেয়েও নিকৃষ্ট জীব শয়তান পানি পান করেছে।
এসব হাদীসের ভিত্তিতে একদল বিশেষজ্ঞ আলেম দাঁড়িয়ে পানি পান করা মাকরূহ বলেছেন এবং অপর দল জায়েয বলেছেন। এ ব্যাপারে ইমাম বায়হাকী, নববী, আইনী, সুয়ূতী প্রমুখ ভারসাম্যপূর্ণ মত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর নিষেধাজ্ঞা মাকরূহ তানযিহী পর্যায়ের এবং দাঁড়িয়ে পানি পান করার বৈধতা প্রকাশের জন্য তিনি দাঁড়িয়ে পানি পান করেছেন (অনুবাদক)।
আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) বলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর যুগে আমরা হাঁটতাম আর আহার করতাম এবং দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করতাম" (তিরমিযী, মুসনাদে আহমাদ)।
আমর ইবনে শুআইব (র) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার (পিতার) দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (আবদুল্লাহ ইবনে আমর) বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে দাঁড়ানো ও বসা উভয় অবস্থায় পানি পান করতে দেখেছি" (তিরমিযী)।
অপরদিকে হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। “রাসূলুল্লাহ ﷺ কোন ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন” (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজা, মুসলিম)। সহীহ মুসলিমে আবু সাঈদ (রা) ও আবু হুরায়রা (রা)-র সূত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। তিরমিযীতে আনাস (রা) বর্ণিত হাদীসের শেষে আছেঃ “অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে জিজ্ঞেস করা হলো, দাঁড়িয়ে আহার করার ব্যাপারে (আপনার কি মত)? তিনি বলেনঃ তা তো আরো অধিক খারাপ।
আল-জারুদ ইবনে আলা (রা) থেকে বর্ণিত। “নবী ﷺ দাঁড়িয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন” (তিরমিযী)।
মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে পানি পান করতে দেখে বলেনঃ পানি রেখে দাও। সে বললো, কেন? তিনি বলেনঃ তোমাদের সাথে বিড়াল একত্রে পানি পান করলে তুমি কি খুশি হবে? সে বললো, না। তিনি বলেনঃ তোমার সাথে বিড়ালের চেয়েও নিকৃষ্ট জীব শয়তান পানি পান করেছে।
এসব হাদীসের ভিত্তিতে একদল বিশেষজ্ঞ আলেম দাঁড়িয়ে পানি পান করা মাকরূহ বলেছেন এবং অপর দল জায়েয বলেছেন। এ ব্যাপারে ইমাম বায়হাকী, নববী, আইনী, সুয়ূতী প্রমুখ ভারসাম্যপূর্ণ মত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর নিষেধাজ্ঞা মাকরূহ তানযিহী পর্যায়ের এবং দাঁড়িয়ে পানি পান করার বৈধতা প্রকাশের জন্য তিনি দাঁড়িয়ে পানি পান করেছেন (অনুবাদক)।