আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

১৫- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়

হাদীস নং: ৮৪৯
- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
বন্ধকের বর্ণনা।
৮৪৯। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ "বন্ধকী জিনিস বাজেয়াপ্ত করা যাবে না।"১
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীস অনুযায়ী আমল করি। “বন্ধকী জিনিস আটকে রাখা যাবে না” কথার ব্যাখ্যা এই যে, কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির কাছে কোন জিনিস বন্ধক রাখার সময় বলে, আমি যদি এই সময়ের মধ্যে তোমার কাছ থেকে নেয়া মাল ফেরত দিতে পারি তবে তো ঠিক আছে, অন্যথায় এই বন্ধকী জিনিস তোমার দেয়া মালের পরিবর্তে তোমার মালিকানাধীন হয়ে যাবে।' রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ
لا يغلق الرهن ولا يكون للمرتهن بماله

“বন্ধকী জিনিস বাজেয়াপ্ত করা যাবে না এবং তা বন্ধক গ্রহীতার দেয়া মালের পরিবর্তে তার মালও হবে না।"
আমরাও এই কথা বলি । ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-র এই মত। ইমাম মালেক (রাহঃ)-ও অনুরূপ ব্যাখ্যা করেছেন।২
كتاب البيوع في التجارات والسلم
بَابُ: الرَّهْنِ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لا يُغْلَقُ الرَّهْنُ» .
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، وَتَفْسِيرُ قَوْلِهِ: «لا يُغْلَقُ الرَّهْنُ» ، أَنَّ الرَّجُلَ كَانَ يَرْهَنُ الرَّهْنَ عِنْدَ الرَّجُلِ، فَيَقُولُ لَهُ: إِنْ جِئْتُكَ بِمَالِكَ إِلَى كَذَا وَكَذَا، وَإِلا فَالرَّهْنُ لَكَ بِمَالِكَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لا يُغْلَقُ الرَّهْنُ» ، وَلا يَكُونُ لِلْمُرْتَهِنِ بِمَالِهِ، وَكَذَلِكَ نَقُولُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَكَذَلِكَ فَسَّرَهُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

১. অর্থাৎ কোন জিনিস বন্ধক রাখার কারণে তা থেকে মূল মালিকের মালিকানা স্বত্ব বিলুপ্ত হবে না। ইবনে হিব্বান, দারু কুতনী, হাকেম ও বায়হাকীতে আবু হুরায়রা (রা)-র সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ

لا يغلق الرهن من راهنه له غنمه وعليه غرمه

“বন্ধকী বস্তু বাজেয়াপ্ত করা যাবে না। ঐ বস্তুর আয়-উৎপাদনের মালিকও সে হবে এবং তাকেই তার ব্যয়ভার বহন করতে হবে।”
ইমাম শাফিঈ, ইবনে আবু শাইবা ও আবদুর রায্যাকের মুসনাদসমূহের ভাষা নিম্নরূপঃ

لا يغلق الرهن من صاحبه الذي رهنه له غنمه وعليه غرمه

“বন্ধকদাতার মালিকানা স্বত্ব রহিত হয় না। বন্ধকী বস্তুর আয়-উৎপাদন সে পাবে এবং এর ব্যয়ভার তাকেই বহন করতে হবে।"
জাহিলী যুগের প্রথা ছিলো, কোন ব্যক্তি কোন জিনিস বন্ধক রাখার সময় বলতো, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তোমার পাওনা ফেরত না দিতে পারলে এই বন্ধকী মাল তোমার মালিকানাভুক্ত হবে। অতঃপর বন্ধকদাতা মালিকের পাওনা ফেরত দিতে না পারলে বন্ধকী জিনিস গ্রহীতার মালিকানায় চলে যেতো। ইসলাম এই প্রথাকে বাতিল করে দিয়েছে। বন্ধকদাতা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বন্ধক গ্রহীতার প্রাপ্য পরিশোধ করতে না পারলেও বন্ধকী জিনিসের মালিকানা স্বত্ব হস্তান্তরিত হবে না। মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ার পরও যদি বন্ধকদাতা হাযির না হয়, তবে বন্ধক গ্রহীতা তার প্রাপ্য পাওয়া সাপেক্ষে তাকে বন্ধকী জিনিস ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে। বন্ধকী জিনিস গ্রহীতার জন্য ব্যবহার করা জায়েয নয় (অনুবাদক)।

২. ইমাম মালেকের ব্যাখ্যাঃ ‘এক ব্যক্তি কোন বস্তু তার প্রকৃত মূল্য অপেক্ষা কম মূল্যে বন্ধক রাখলো এবং বললো, আমি এই মেয়াদের মধ্যে বন্ধক ছাড়িয়ে নিতে না পারলে তা তোমার (বন্ধক গ্রহীতার) হয়ে যাবে। এভাবে বন্ধক রাখা জায়েয নয়। আর এরূপ কথা বললেও মেয়াদশেষে বন্ধক গ্রহীতা এর মালিক হবে না এবং ঐ শর্তটি মূল্যহীন গণ্য হবে” (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান