আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ
১৫- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
হাদীস নং: ৮১৯
- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
সোনা-রূপার বিনিময়ে সোনা-রূপার ক্রয়-বিক্রয় ও সূদের বর্ণনা।
৮১৯ । আতা ইবনে ইয়াসার অথবা সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত । মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) সোনা অথবা রূপার একটি পানপাত্র তার ওজনের চেয়ে অধিক মূল্যে বিক্রি করলেন। আবু দারদা (রাযিঃ) তাকে বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে এই ধরনের ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করতে শুনেছি। তবে ওজনে সমতা থাকলে তা জায়েয।” মুআবিয়া (রাযিঃ) বলেন, এ ধরনের বিনিময়ে আমি কোন দোষ দেখছি না। আবু দারদা (রাযিঃ) বলেন, মুআবিয়ার বিরুদ্ধে আমার ওজর কে কবুল করবে? আমি তাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর হাদীস সম্পর্কে অবহিত করছি আর সে আমাকে (রাসূলের নির্দেশের পরিপন্থী) নিজের ব্যক্তিগত মত সম্পর্কে অবহিত করছে, যে দেশে (সিরিয়া) তুমি বসবাস করছো সেখানে আমি আর বসবাস করবো না। রাবী বলেন, অতঃপর আবু দারদা (রাযিঃ) উমার (রাযিঃ)-র কাছে (মদীনায়) ফিরে আসেন এবং তাকে এ সম্পর্কে অবহিত করেন। অতঃপর খলীফা উমার (রাযিঃ) তাকে লিখে পাঠান, “ওজনে ও পরিমাণে সমতা ব্যতীত ভবিষ্যতে আর এ ধরনের লেনদেন করবে না।"
كتاب البيوع في التجارات والسلم
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَوْ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ، أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ، بَاعَ سِقَايَةً مِنْ وَرِقٍ، أَوْ ذَهَبٍ بِأَكْثَرَ مِنْ وَزْنِهَا، فَقَالَ لَهُ أَبُو الدَّرْدَاءِ: «سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى عَنْ مِثْلِ هَذَا إِلا مِثْلا بِمِثْلٍ» ، قَالَ لَهُ مُعَاوِيَةُ: مَا نَرَى بِهِ بَأْسًا، فَقَالَ لَهُ أَبُو الدَّرْدَاءِ: مَنْ يَعْذِرُنِي مِنْ مُعَاوِيَةَ، أُخْبِرُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُخْبِرُنِي عَنْ رَأْيِهِ، لا أُسَاكِنُكَ بِأَرْضٍ أَنْتَ بِهَا، قَالَ: فَقَدِمَ أَبُو الدَّرْدَاءِ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَأَخْبَرَهُ، فَكَتَبَ إِلَى مُعَاوِيَةَ أَنْ لا يَبِيعَ ذَلِكَ إِلا مِثْلا بِمِثْلٍ، أَوْ وَزْنًا بِوَزْنٍ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত উমর (রা)-এর শাসনামলে হযরত মু'আবিয়া (রা) সিরিয়ার গভর্নর ছিলেন। হযরত আবুদ দারদা (রা)-এর অবস্থান তথায় ছিল। সে সময়ে হযরত মু'আবিয়া সোনা অথবা রূপার তৈরি পানির এক পেয়ালা (অথবা জগ) মূল্য হিসেবে অনুরূপ জাতীয় দ্রব্য ওজনে কিছু বেশি নিয়ে বিক্রি করলেন। এবং তাতে কোন দোষ মনে করেন নি। হযরত আবুদ দারদা তাঁকে বললেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরূপ ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন। নির্দেশ এরূপ যে, সোনা-রূপার কোন জিনিস যদি অনুরূপ জাতীয় জিনিসের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। তবে ওজনে কম-বেশি না হওয়া চাই। ওজন সমান সমান হবে। হযরত মু'আবিয়া (রা)-এর সম্ভবত ধারণা এই ছিল, সোনা অথবা রূপার তৈরি জিনিস (অলংকার বা পাত্র) যদি বিক্রয় করা হয় তবে তো তৈরির পারিশ্রমিক ধরে কিছু বেশি গ্রহণ করা নাজায়েয হবে না। এই ভিত্তিতে তিনি বললেন, "আমার নিকট এটাতো কোন গুনাহ নয়"। কিন্তু হয়রত আবুদ দারদা (রা) হযরত মু'আবিয়ার (রা) একথা খুবই অপসন্দ করলেন। কেননা, তিনি হুজুর ﷺ থেকে যা শুনেছিলেন তার আলোকে এ অভিমত অথবা ইজতিহাদের কোন অবকাশ আছে বলে তিনি মনে করতেন না। বস্তুত তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে সেখানের বসবাস পরিত্যাগ করে মদীনায় চলে আসেন এবং হযরত ওমর (রা)-এর নিকট ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি হযরত মু'আবিয়াকে লিখেন শরীয়তের নির্দেশ সেটাই, যা আবুদ দারদা বলেছেন। সুতরাং এ জাতীয় ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না।
এ বর্ণনা থেকে জানা গেল যে, 'রিবা' (সুদ)-এর দ্বিতীয় প্রকার (পরোক্ষ সুদ)-এর ব্যাপারে সাহাবা কিরাম এর মধ্যে কত কঠোরতা ছিল। আর এ বিষয়ে কারো ইজতিহাদী ভুল তাঁদের জন্য সহনীয় ছিল না।
এ বর্ণনা থেকে জানা গেল যে, 'রিবা' (সুদ)-এর দ্বিতীয় প্রকার (পরোক্ষ সুদ)-এর ব্যাপারে সাহাবা কিরাম এর মধ্যে কত কঠোরতা ছিল। আর এ বিষয়ে কারো ইজতিহাদী ভুল তাঁদের জন্য সহনীয় ছিল না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)