আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ
১৫- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
হাদীস নং: ৮১৩
- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
উমরা (জীবনস্বত্ব) এবং সুকনা (বাসস্থান)।
৮১৩। নাফে (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাযিঃ) উম্মুল মুমিনীন হযরত হাফসা (রাযিঃ)-র ঘরের ওয়ারিস হলেন। তিনি নিজের ঘরটি যায়েদ ইবনুল খাত্তাবের কন্যাকে তার জীবদ্দশা পর্যন্ত দিয়ে গিয়েছিলেন। যায়েদের কন্যা মারা যাওয়ার পর, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাযিঃ) ঘরটি নিজ দখলে নিলেন। তিনি মনে করেন, এই ঘর এখন তারই।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীস অনুযায়ী আমল করি। জীবনস্বত্ব হচ্ছে এক প্রকারের হেবা (দান)। তা যাকে দেয়া হয়, তারই হয়ে যায়। আর বাসস্থান দেয়া হলে তা ধার বা কর্জ হিসাবে গণ্য হয় এবং তা মূল মালিকের নিকট বা তার ওয়ারিসদের অধিকারে ফিরে আসতে পারে । ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং অন্যান্য ফিকহবিদ সাধারণের এই মত । উমরা বা জীবনস্বত্ব এই যে, বলা হলো, এটা তার জন্য এবং তার ওয়ারিসদের জন্য।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীস অনুযায়ী আমল করি। জীবনস্বত্ব হচ্ছে এক প্রকারের হেবা (দান)। তা যাকে দেয়া হয়, তারই হয়ে যায়। আর বাসস্থান দেয়া হলে তা ধার বা কর্জ হিসাবে গণ্য হয় এবং তা মূল মালিকের নিকট বা তার ওয়ারিসদের অধিকারে ফিরে আসতে পারে । ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং অন্যান্য ফিকহবিদ সাধারণের এই মত । উমরা বা জীবনস্বত্ব এই যে, বলা হলো, এটা তার জন্য এবং তার ওয়ারিসদের জন্য।**
كتاب البيوع في التجارات والسلم
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، «وَرَّثَ حَفْصَةَ دَارَهَا، وَكَانَتْ حَفْصَةُ قَدْ أَسْكَنَتْ بِنْتَ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ مَا عَاشَتْ، فَلَمَّا تُوُفِّيَتْ بِنْتُ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ قَبَضَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْمَسْكَنَ، وَرَأَى أَنَّهُ لَهُ» .
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، الْعُمْرَى هِبَةٌ، فَمَنْ أُعْمِرَ شَيْئًا فَهُوَ لَهُ، وَالسُّكْنَى لَهُ عَارِيَةٌ تُرْجَعُ إِلَى الَّذِي أَسْكَنَهَا، وَإِلَى وَارِثِهِ مِنْ بَعْدِهِ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا.
وَالْعُمْرَى أَنْ قَالَ هِيَ لَهُ وَلِعَقِبِهِ، أَوْ لَمْ يَقُلْ وَلِعَقِبِهِ فَهُوَ سَوَاءٌ
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، الْعُمْرَى هِبَةٌ، فَمَنْ أُعْمِرَ شَيْئًا فَهُوَ لَهُ، وَالسُّكْنَى لَهُ عَارِيَةٌ تُرْجَعُ إِلَى الَّذِي أَسْكَنَهَا، وَإِلَى وَارِثِهِ مِنْ بَعْدِهِ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا.
وَالْعُمْرَى أَنْ قَالَ هِيَ لَهُ وَلِعَقِبِهِ، أَوْ لَمْ يَقُلْ وَلِعَقِبِهِ فَهُوَ سَوَاءٌ
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
** 'জীবনস্বত্ব’ এই যে, “কোন ব্যক্তি বললো, আমার এই ঘরটি তোমাকে আমার জীবদ্দশার জন্য দান করলাম অথবা আমি যতো দিন জীবিত থাকবো তুমি তা ব্যবহার করবে অথবা তুমি যতো দিন জীবিত থাকবে ততো দিন এটা তোমার ভোগদখলে থাকবে অথবা তোমার জীবনকাল পর্যন্ত তা তোমাকে দেয়া হলো। তুমি মারা গেলে তা পুনরায় আমার স্বত্বাধিকারে ফিরে আসবে।” জমহূরের মতে এই ধরনের দান জায়েয। তবে ফেরত পাওয়ার শর্ত আরোপ করলে তা (শর্ত) বাতিল গণ্য হবে। যাকে দান করা হয়েছে সে নিজের জীবদ্দশায় এটা ভোগ করবে। তার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিসগণ এর মালিক হবে। কিন্তু তা কখনো দানকারীর স্বত্বাধিকারে ফিরে যাবে না। হানাফী মাযহাবের বিশেষজ্ঞ আলেমদের এই মত। ইমাম শাফিঈর সর্বশেষ মতও তাই। ইবনে উমার, ইবনে আব্বাস, আলী (রা), শুরায়হ, মুজাহিদ, তাউস ও সুফিয়ান সাওরীরও এই মত বর্ণিত হয়েছে। অপরদিকে ইমাম মালেক, লাইছ ও শাফিঈর (প্রাচীন) মত অনুযায়ী, যাকে জীবনস্বত্ব দেয়া হয়েছে, সে মূল জিনিসের স্বত্বাধিকার হবে না, বরং সে কেবল তা ব্যবহার করতে পারবে মাত্র (অনুবাদক)।