আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

১৫- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়

হাদীস নং: ৮০৮
- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
নুহলা (উপঢৌকন)।
৮০৮। নুমান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) বলেন যে, তার পিতা তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর কাছে উপস্থিত হয়ে বলেন, আমার এই পুত্রকে আমি আমার একটি গোলাম দান করেছি। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে বলেনঃ তুমি কি তোমার সকল সন্তানকে এরূপ দান করেছ? তিনি বলেন, না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ তাহলে তুমি তা ফেরত নাও।**
كتاب البيوع في التجارات والسلم
بَابُ: النُّحْلَى
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ يُحَدِّثَانِهِ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ: إِنَّ أَبَاهُ أَتَى بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: إِنِّي نَحَلْتُ ابْنِي هَذَا غُلامًا كَانَ لِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَكُلُّ وَلَدِكَ نَحَلْتَهُ مِثْلَ هَذَا؟» قَالَ: لا، قَالَ: «فَأَرْجِعْهُ»

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** হাদীসটি সহীহ বুখারী, আবু দাঊদ, নাসাঈ, আহমাদ ও মুসলিমেও বর্ণিত হয়েছে। বুখারী ও মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ “তুমি কি আশা করো যে, তোমার সকল সন্তান তোমার সাথে সমানভাবে সদ্ব্যবহার করুক? তিনি বলেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন তবে তো এরূপ হওয়া উচিৎ নয়।" জাবের (রা)-র সূত্রে সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় আছেঃ “বশীরের স্ত্রী (আমরাহ) বশীরকে বললো, আপনার গোলামটি আমার পুত্রকে দান করুন এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে এর সাক্ষী রাখুন। অতএব তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর কাছে উপস্থিত হয়ে বলেন, অমুকের কন্যা অমুক (আমার স্ত্রী) চাচ্ছে যে, আমি তার ছেলেকে আমার গোলামটি দান করি এবং এর অনুকূলে সে আপনাকে সাক্ষী করার জন্য বলেছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞেস করেনঃ এর আরো ভাই আছে কি? বশীর বলেন, হ্যাঁ, আছে। তিনি বলেনঃ তাদের প্রত্যেককেই কি তুমি এর অনুরূপ দান করেছ? তিনি বলেন, না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ তাহলে এটা ঠিক নয়। আর আমি সঠিক বিষয় ছাড়া অন্য কিছুর সাক্ষী হই না।”
বুখারী-মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে, নুমান (র) বলেন, “আমার পিতা আমাকে কিছু দান করলেন। তখন আমার মা আমরাহ বিনতে রওয়াহা (আমার পিতাকে) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ কে এর সাক্ষী না করা পর্যন্ত আমি সন্তুষ্ট হবো না। অতএব তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর নিকট এসে বলেন, আমি (আমার স্ত্রী) আমরাহ বিনতে রওয়াহার গর্ভজাত আমার এই সন্তানকে একটি উপঢৌকন দিয়েছি। হে আল্লাহর রাসূল! সে এর অনুকূলে আপনাকে সাক্ষী করার জন্য আমার কাছে বায়না ধরেছে। তিনি বলেনঃ তুমি কি তোমার সকল সন্তানকে এর অনুরূপ উপঢৌকন দিয়েছঃ তিনি বলেন, না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ তবে আল্লাহ্‌কে ভয় করো এবং সকল সন্তানের সাথে ইনসাফপূর্ণ ব্যবহার করো। নুমান (রা) বলেন, তিনি ফিরে এসে উপঢৌকনটি ফেরত নিলেন।” বুখারী-মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ বলেনঃ “আমি অন্যায়ের পক্ষে সাক্ষী হই না”।
তাঊস, সুফিয়ান সাওরী, আহমাদ (তার একমত অনুযায়ী), ইসহাক ও ইমাম বুখারীর মতে হাদীসে উপঢৌকন ফেরত নেয়ার যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা বাধ্যতামূলক নির্দেশ। তাদের মতে দান ও উপঢৌকনের বেলায় সন্তানদের মধ্যে সমতা বিধান করা ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক)। তারা আরো বলেন, এ ব্যাপারে সমতা বিধান না করা হলে দান বাতিল গণ্য হবে। পক্ষান্তরে ইমাম আবু হানীফা, মালেক, শাফিঈ ও জমহূর আলেমদের মতে, দান, উপঢৌকন ইত্যাদি মুস্তাহাব ও ঐচ্ছিক পর্যায়ের ব্যাপার। তবে সমতা বিধান না করা মাকরূহ। এতে দান বাতিল গণ্য হবে না।
ইমাম তহাবী (র) তার ‘শারহু মাআানিল আছার' গ্রন্থে লিখেছেন, ইমাম আবু ইউসুফ বলেন, দান ও উপঢৌকনের ক্ষেত্রে পুত্র সন্তান ও কন্যা সন্তানদের মধ্যে সমতা বিধান করতে হবে। ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে হাসান (র) বলেন, উত্তরাধিকার আইনের বিধান “এক পুত্র দুই কন্যার সমান অংশ পাবে” দান ও উপঢৌকনের ক্ষেত্রেও অনুসরণ করতে হবে। ইমাম তহাবী অতঃপর ইমাম আবু ইউসুফের মতকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
ইমাম শাফিঈর মতে পিতা পুত্রকে যা দান করে তা ফেরত নেয়া তার জন্য জায়েয। কিন্তু অন্যকে দান করে তা ফেরত নেয়া হারাম। আর ইমাম আবু হানীফার মতৈ তা হারাম নয়, বরং মাকরূহ (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)
আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ - হাদীস নং ৮০৮ | মুসলিম বাংলা