আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

১৫- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়

হাদীস নং: ৭৭৭
- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
অনিশ্চিত বস্তুর ক্রয়-বিক্রয়।
৭৭৭। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ অনিশ্চিত বস্তুর ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীসের উপর আমর করি। যে কোন অনিশ্চিত বস্তুর ক্রয়-বিক্রয় বাতিল গণ্য হবে। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং অধিকাংশ ফিকহবিদের এটাই সাধারণ মত।
كتاب البيوع في التجارات والسلم
بَابُ: بَيْعِ الْغَرَرِ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو حَازِمِ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «نَهَى عَنْ بَيْعِ الْغَرَرِ» .
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا كُلِّهِ نَأْخُذُ، بَيْعُ الْغَرَرِ كُلُّهُ فَاسِدٌ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** অনিশ্চিত বস্তুর ক্রয়-বিক্রয়, যেমন মাছ ধরার পূর্বে বা পাখি শিকার করার পূর্বে তা বিক্রি করা ইত্যাদি। কোন কোন এলাকায় অগ্রিম টিকেট কেটে ছিপ ফেলে মাছ ধরার যে প্রথা চালু আছে, তা এই নিষিদ্ধ শ্রেণীর ক্রয়-বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ এমন কোন জিনিস বিক্রি করো না যা প্রকৃতপক্ষে তোমার নিকট নেই (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজা, মুসনাদে আহমাদ)।
ইমাম মালেকের বর্ণনা অনুযায়ী হাদীসটি মুরসাল এবং এটাই সঠিক। কেননা সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (র) হচ্ছেন একজন প্রসিদ্ধ তাবিঈ, সাহাবী নন। আবু খিযাফা নিজস্ব সূত্র পরস্পরায় এ হাদীস ইবনে উমার (রা)-র কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আবু খিযাফা হলেন একজন প্রত্যাখ্যাত রাবী। তবে আবু হুরায়রা (রা)-র সূত্রে এই মর্মে একটি সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ কাঁকর নিক্ষেপ করে ক্রয়-বিক্রয় নির্ধারণ করতে এবং অনিশ্চিত বস্তুর ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন" (মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, ইবনে হিব্বান)। অনিশ্চিত বস্তুর ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত হাদীস নিম্নোক্ত গ্রন্থগুলোতেও উল্লেখ আছেঃ ইবনে মাজা ও মুসনাদে আহমাদে ইবনে আব্বাস (রা)-র সূত্রে, দারু কুতনী ও তাবারানীতে সাহল ইবনে সাদ (রা)-র সূত্রে, মুসনাদে আবু ইয়ালায় আনাস (রা)-র সূত্রে, মুসনাদে আহমাদ ও আবু দাউদে আলী ইবনে আবু তালিব (রা)-র সূত্রে, ইবনে আবু আসীমে ইমরান ইবনে হুসাইন (রা)-র সূত্রে এবং বায়হাকী ও ইবনে হিব্বানে আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা)-র সূত্রে (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান