আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

১৩- উত্তরাধিকার সম্পত্তির অধ্যায়

হাদীস নং: ৭৩১
- উত্তরাধিকার সম্পত্তির অধ্যায়
মুসলমানগণ কাফেরদের ওয়ারিস হবে না।
৭৩১ ৷ আলী (যয়নুল আবেদীন) ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) বলেন, আকীল ও তালিব খাজা আবু তালিবের ওয়ারিস হন, কিন্তু আলী (রাযিঃ) তার ওয়ারিস হননি।**
كتاب الفرائض
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، قَالَ: «وَرِثَ أَبَا طَالِبٍ عَقِيلٌ وَطَالِبٌ، وَلَمْ يَرِثْهُ عَلِيٌّ»

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** আবু তালিবের মৃত্যুর সময় পুত্র আকীল ও তালিব কাফের ছিল। তাই তারা পিতার পরিত্যক্ত সম্পত্তির ওয়ারিস হয়। তালিব বদর যুদ্ধের পূর্বে কাফের অবস্থায় মারা যায়। আর আকীল (রা) হুদাইবিয়ার সন্ধির যুগে মুসলমান হন। মতান্তরে তিনি মক্কা বিজয়ের সময় মুসলমান হন এবং অষ্টম হিজরীর প্রথমদিকে মদীনায় হিজরত করেন। পুত্র আলী ও জাফর (রা) পিতার মৃত্যুর পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তাই তারা উভয়ে তার ওয়ারিস হতে পারেননি। কাফের ব্যক্তি মুসলিম ব্যক্তির ওয়ারিস হবে না, এ ব্যাপারে সকল ফিকহবিদ একমত। কেননা মহান আল্লাহ বলেনঃ

ولن يجعل الله للكافرين على المؤمنين سبيلا

“মুসলমানদের উপর কাফেরদের স্থায়ী জয়লাভ করার কোন পথই আল্লাহ অবশিষ্ট রাখেননি" (সূরা নিসাঃ ১৪১)।
কিন্তু মুসলিম ব্যক্তি কাফের ব্যক্তির ওয়ারিস হবে কিনা তা নিয়ে মতভেদ আছে। হযরত আলী (রা)-সহ প্রায় সকল সাহাবী, তাবিঈন এবং ফিকহবিদের মতে মুসলিম ব্যক্তিও কাফের ব্যক্তির ওয়ারিস হবে না। জাবের (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ لا يتوارث اهل ملتين شتى “দুই ভিন্ন ধর্মের লোকেরা পরস্পরের ওয়ারিস হবে না” (তিরমিযী)। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ, لا يتوارث اهل ملتين شتى "দুই ভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা পরস্পরের ওয়ারিস হবে না" (আবু দাউদ, ইবনে মাজা)।
কিন্তু হযরত মুআয ইবনে জাবাল (রা), মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রা), সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব, মাসরূক, হাসান বসরী, মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়া ও মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইনের মতে, মুসলিম ব্যক্তি কাফের ব্যক্তির ওয়ারিস হবে। তারা নিম্নোক্ত হাদীস নিজেদের মতের সপক্ষে দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেনঃ মুআয ইবনে জাবাল (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে বলতে শুনেছিঃ الاسلام يزيد ولا ينقص "ইসলাম বৃদ্ধি পায়, কিন্তু কমে না” (আবু দাউদ)। অপর একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ الاسلام يعلوا ولا يعلى "ইসলাম উপরে থাকে, নিচে থাকে না” (তাবারানী ও বায়হাকী উমার (রা) থেকে এবং দারু কুতনী আয়েয ইবনে আমর (রা)-র সূত্রে)। এই শেষোক্ত হাদীস দু'টির জওয়াবে বলা হয়েছে, তা মীরাস সম্পর্কে নয়, বরং আদর্শগত। অকাট্য প্রমাণ পেশের দিক থেকে এবং দুর্দমনীয় শক্তি হিসাবে ইসলাম সবার উপরে এবং সর্বোন্নত ও সর্বোচ্চ। ইবনে আবদুল বার (৩৬২-৪৬৩ হি.) বলেন, মুসলমান যে কাফেরের ওয়ারিস হতে পারে না তা সিকাহ রাবীদের মাধ্যমে মরফূ সনদে বর্ণিত হয়ে এসেছে। এর বিরোধী দলীল বিবেচনার যোগ্য নয়।
কোন মুসলমান মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হয়ে গেলে সে অপর কোন মুসলমানের ওয়ারিস হবে না, এ ব্যাপারে সমস্ত বিশেষজ্ঞ আলেম একমত। কিন্তু মুসলিম ব্যক্তি তার ওয়ারিস হবে কি না, এ নিয়ে মতভেদ আছে। ইমাম মালেক, শাফিঈ ও ইবনে আবু লায়লার মতে, সে তার ওয়ারিস হবে না। ইমাম আবু হানীফার মতে মুরতাদ মুসলমান থাকা অবস্থায় যে সম্পদ উপার্জন করেছে তাতে মুসলিম ব্যক্তি ওয়ারিস হবে। আর মুরতাদ অবস্থায় যা উপার্জন করেছে, তা বাইতুল মালে (সরকারী কোষাগারে) জমা হবে (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান