আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

৮- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়

হাদীস নং: ৬২৯
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
দুধপান সম্পর্কিত বর্ণনা।
৬২৯ ৷ ইয়াহ্ইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছেন, দোলনায় থাকাকালীন দুধপানই নির্ভরযোগ্য। যে দুধপান রক্ত-মাংস বৃদ্ধি করে তাই নির্ভরযোগ্য।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, দুই বছর বয়সসীমার মধ্যে দুধ পান করলে তাতেই কেবল দুধপান সম্পর্কিত হুরমাত প্রতিষ্ঠিত হবে। দুই বছরের মধ্যে দুধ পান করাটাই হুরমাত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণ, তা একবার স্তন চুষলেও। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ), সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব এবং উরওয়া ইবনুয যুবায়ের তাই বলেছেন। দুই বছর বয়স হওয়ার পর দুধ পান করলে তাতে দুধপান জনিত হুরমাত প্রতিষ্ঠিত হয় না। কেননা মহান আল্লাহ বলেনঃ

والوالدات يرضعن أولادهن حولين كاملين لمن أراد أن يتم الرضاعة
“যে পিতা চায় যে, তার সন্তান পূর্ণ মুদ্দতকাল পর্যন্ত দুধ পান করতে থাকুক—তখন মায়েরা নিজেদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে” (সূরা বাকারাঃ ২৩৩)।
অতএব দুধপানের পূর্ণ মেয়াদ হচ্ছে দুই বছর। এই মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোন দুধপান নেই—যা হুরমাত প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) সতর্কতা বিধানের জন্য দুই বছরের পর আরো ছয় মাস বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং বলেছেন, এই হচ্ছে তিরিশ মাস এবং তিরিশ মাস শেষ হওয়ার পর আর দুধপান সম্পর্কিত হুরমাত প্রতিষ্ঠিত হবে না। কিন্তু আমাদের মতে দুই বছরের পর আর হুরমাত প্রতিষ্ঠিত হবে না।
স্তনদায়িনীর স্বামীও স্তন পানকারিণীর মাহরাম হয়ে যায়। আমাদের মতে বংশীয় সম্পর্কের কারণে যা হারাম হয় —–দুধপান জনিত কারণেও তাই হারাম হয়। অতএব দুধ-ভাইয়ের জন্য দুধবোন (উভয়ের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন) হারাম। তাদের উভয়ের মা ভিন্ন ভিন্ন স্ত্রীলোক হওয়া সত্ত্বেও দুধপিতা একই ব্যক্তি হওয়ার কারণে তারা পরস্পরের জন্য হারাম। যেমন ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন, 'একই স্ত্রীর দুধ হতে হবে।' আমরা এই মত গ্রহণ করেছি এবং ইমাম আবু হানীফারও এই মত।**
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ: لا رَضَاعَةَ إِلا فِي الْمَهْدِ، وَلا رَضَاعَةَ إِلا مَا أَنْبَتَ اللَّحْمُ وَالدَّمُ، قَالَ مُحَمَّدٌ: لا يُحَرِّمُ الرَّضَاعُ إِلا مَا كَانَ فِي الْحَوْلَيْنِ، فَمَا كَانَ فِيهَا مِنَ الرَّضَاعِ، وَإِنْ كَانَ مَصَّةً وَاحِدَةً فَهِيَ تُحَرِّمُ كَمَا قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ، وَسَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، وَعُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، وَمَا كَانَ بَعْدَ الْحَوْلَيْنِ لَمْ يُحَرِّمْ شَيْئًا لأَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ: وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ فَتَمَامُ الرَّضَاعَةِ الْحَوْلانِ، فَلا رَضَاعَةَ بَعْدَ تَمَامِهِمَا تُحَرِّمُ شَيْئًا، وَكَانَ أَبُو حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ يَحْتَاطُ بِسِتَّةِ أَشْهُرٍ بَعْدَ الْحَوْلَيْنِ، فَيَقُولُ: يُحَرِّمُ مَا كَانَ فِي الْحَوْلَيْنِ وَبَعْدَهُمَا إِلَى تَمَامِ سِتَّةِ أَشْهُرٍ، وَذَلِكَ ثَلاثُونَ شَهْرًا، وَلا يُحَرِّمُ مَا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ، وَنَحْنُ لا نَرَى أَنَّهُ يُحَرِّمُ، وَنَرَى أَنَّهُ لا يُحَرِّمُ مَا كَانَ بَعْدَ الْحَوْلَيْنِ، وَأَمَّا لَبَنُ الْفَحْلِ فَإِنَّا نَرَاهُ يُحَرِّمُ، وَنَرَى أَنَّهُ يَحْرُمُ مِنَ الرَّضَاعِ مَا يَحْرُمُ مِنَ النَّسَبِ، فَالأَخُ مِنَ الرَّضَاعَةِ مِنَ الأَبِ تَحْرُمُ عَلَيْهِ أُخْتُهُ مِنَ الرَّضَاعَةِ مِنَ الأَبِ، وَإِنْ كَانَتِ الأُمَّانِ مُخْتَلِفَتَيْنِ إِذَا كَانَ لَبَنُهُمَا مِنْ رَجُلٍ وَاحِدٍ، كَمَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: اللِّقَاحُ وَاحِدٌ، فَبِهَذَا نَأْخُذُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** অপর স্ত্রীলোকের স্তনের দুধ পান করিয়ে শিশু সন্তান লালন-পালনের প্রচলন আমাদের দেশে নেই। কিন্তু মাসআলাটি জেনে রাখা একান্ত প্রয়োজন। কারণ অনেক সময় বিভিন্ন প্রয়োজনে শিশুকে অন্য মহিলার দুধ পান করানো হয়ে থাকে। আর একবার-দু’বার দুধ পান করলেই দুধপান সম্পর্কিত হুরমাত কায়েম হয়। তা শিশুকে ইচ্ছা করেই পান করানো হোক অথবা অসতর্ক মুহূর্তে শিশু নিজে পান করে নিক। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদের মতে দুই বছর বয়সের মধ্যে যে কোন সময় শিশু অন্যের দুধ পান করলে দুধপান সম্পর্কিত হুরমাত প্রতিষ্ঠিত হবে। দুই বছরের পর পান করলে আর এ হুরমাত প্রতিষ্ঠিত হবে না। ইমাম মালেক থেকেও এরূপ একটি উক্তি বর্ণিত আছে । কিন্তু ইমাম আবু হানীফার মতে দুধ পানের এই মেয়াদ আড়াই বছর। সূরা বাকারার ২৩৩ নম্বর আয়াত, সূরা লোকমানের ১৪ নম্বর আয়াত এবং সূরা আকাফের ১৫ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কিত বিধান বর্ণিত হয়েছে।
দুই অথবা আড়াই বছর বয়স হওয়ার পর সন্তানের জন্য মায়ের বুকের দুধ পান করানো হারাম হয় কিনা এ ব্যাপারে মতভেদ লক্ষ্য করা যায়। একদল বিশেষজ্ঞ আলেম তা হারাম বলেছেন। অপর একদল আলেমের মতে ঐ বয়সের পরও সন্তানকে মায়ের বুকের দুধ পান করানো জায়েয। সম্প্রতি ও.আই.সি.-র ফিকহ একাডেমী সার্বিক দিক বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, শিশু চার বছর পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ পান করতে পারে (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান