আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

৮- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৮৬
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
মুতআ বিবাহ।
৫৮৬। উরওয়া ইবনুয যুবাইর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। হাকীম কন্যা খাওলা (রাযিঃ) উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-র কাছে এসে বলেন, উমাইয়্যার পুত্র রবীআ এক কুজন্মা নারীর সাথে মুতআ করেছে এবং সে তার দ্বারা গর্ভবতী হয়েছে। একথা শুনে হযরত উমার (রাযিঃ) সন্ত্রস্ত অবস্থায় নিজের চাদর হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে বাইরে বেরিয়ে এলেন এবং বলতে লাগলেন, এই ব্যক্তি মুতআ করেছে। আমি যদি পূর্বেই (তা হারাম হওয়ার কথা) ঘোষণা করে দিতাম, তাহলে আজ আমি তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করতাম।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, মুতআ করা মাকরূহ। অতএব তা করা ঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বিভিন্ন হাদীসের মাধ্যমে মুতআ করতে নিষেধ করেছেন। হযরত উমার (রাযিঃ) যে বলেছেন, “আমি যদি পূর্বেই (তার হারাম হওয়ার কথা) ঘোষণা করে দিতাম, তাহলে আজ রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) করতাম" এই কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য এবং সতর্ক করার জন্য বলেছেন। ইমাম আবু হানীফা এবং আমাদের সকল ফিকহবিদের এটাই সাধারণ মত।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ خَوْلَةَ بِنْتِ حَكِيمٍ دَخَلَتْ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَقَالَتْ: أَنَّ رَبِيعَةَ بْنَ أُمَيَّةَ اسْتَمْتَعَ بِامْرَأَةٍ مُوَلَّدَةٍ فَحَمَلَتْ مِنْهُ، فَخَرَجَ عُمَرُ فَزِعًا يَجُرُّ رِدَاءَهُ، فَقَالَ: «هَذِهِ الْمُتْعَةُ لَوْ كُنْتُ تَقَدَّمْتُ فِيهَا لَرَجَمْتُ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: الْمُتْعَةُ مَكْرُوهَةٌ، فَلا يَنْبَغِي، فَقَدْ نَهَى عَنْهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا جَاءَ فِي غَيْرِ حَدِيثٍ، وَلا اثْنَيْنِ، وَقَوْلُ عُمَرَ: لَوْ كُنْتُ تَقَدَّمْتُ فِيهَا لَرَجَمْتُ، إِنَّمَا نَضَعُهُ مِنْ عُمَرَ عَلَى التَّهْدِيدِ، وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কোন নারীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে মুতআ বিবাহ বলে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে এই ধরনের বিবাহ জায়েয ছিলো। কিন্তু পরবর্তী কালে রাসূলুল্লাহ তা চিরকালের জন্য হারাম ঘোষণা করেন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের এটাই মত। ইমাম নববী (র) বলেন, মুতআ বিবাহ দুইবার জায়েয করা হয় এবং দুইবার হারাম করা হয়। এক, খায়বারের যুদ্ধের পূর্বে তা জায়েয ছিলো এবং এই যুদ্ধের দিন তা হারাম ঘোষণা করা হয়। দুই, মক্কা বিজয়ের সময় আওতাসের যুদ্ধ চলাকালে তা তিন দিনের জন্য হালাল করা হয়েছিলো। অতঃপর কিয়ামত পর্যন্ত তা হারাম করা হয়েছে। রাফেযীগণ (শিয়া) মুতআ বিবাহ এখনো জায়েয মনে করে। তারা এই বিবাহ জায়েয সম্পর্কিত হাদীসগুলো নিজেদের মতের সমর্থনে গ্রহণ করেছে (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান