আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ
৮- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৮৩
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
কোন মহিলা প্রথম স্বামী তালাক দেয়ার পর দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করেছে এবং সেও সহবাস করার পূর্বে তাকে তালাক দিয়েছে।
৫৮৩। যুবাইর ইবনে আব্দুর রহমান ইবনুয যুবাইর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। রিফাআ ইবনে সিমওয়াল তার স্ত্রী তামীমা বিনতে ওয়াহ্বকে রাসূলুল্লাহ -এর যুগে তিন তালাক দেন। অতঃপর আব্দুর রহমান ইবনুয যুবাইর তাকে বিবাহ করেন। কিন্তু তিনি অসুখের কারণে সংগম করতে সক্ষম হননি। অতএব তিনি তাকে সহবাসের পূর্বে তালাক দেন। রিফাআ তাকে পুনর্বার বিবাহ করতে চাইলেন। তিনিই ছিলেন তার প্রথম স্বামী, যিনি তাকে তালাক দিয়েছিলেন । ব্যাপারটি তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর কাছে বললেন। তিনি তাকে ঐ মহিলাকে বিবাহ করতে নিষেধ করেন এবং বলেনঃ “দ্বিতীয় স্বামী তার সাথে সহবাস না করা পর্যন্ত সে তোমার জন্য হালাল হবে না।”১
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই হাদীস অনুযায়ী আমল করি। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের সকল ফিব্বিদের এই মত। কেননা দ্বিতীয় স্বামী তার সাথে সহবাস করেনি। অতএব দ্বিতীয় স্বামীর সহবাস করার পূর্বে সে প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে আসতে পারবে না।২
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই হাদীস অনুযায়ী আমল করি। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের সকল ফিব্বিদের এই মত। কেননা দ্বিতীয় স্বামী তার সাথে সহবাস করেনি। অতএব দ্বিতীয় স্বামীর সহবাস করার পূর্বে সে প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে আসতে পারবে না।২
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا الْمِسْوَرُ بْنُ رِفَاعَةَ الْقُرَظِيُّ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ رِفَاعَةَ بْنَ سِمْوَالٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ تَمِيمَةَ بِنْتَ وَهْبٍ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلاثًا، فَنَكَحَهَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الزُّبَيْرِ، فَأَعْرَضَ عَنْهَا، فَلَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يَمَسَّهَا، فَفَارَقَهَا وَلَمْ يَمَسَّهَا، " فَأَرَادَ رِفَاعَةُ أَنْ يَنْكِحَهَا، وَهُوَ زَوْجُهَا الأَوَّلُ الَّذِي طَلَّقَهَا، فَذَكَرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَنَهَاهُ عَنْ تَزْوِيجِهَا، وَقَالَ: «لا تَحِلُّ لَكَ حَتَّى تَذُوقَ الْعُسَيْلَةَ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا، لأَنَّ الثَّانِيَ لَمْ يُجَامِعْهَا، فَلا يَحِلُّ أَنْ تَرْجِعَ إِلَى الأَوَّلِ حَتَّى يُجَامِعَهَا الثَّانِي
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
১. হাদীসটি সামান্য শাব্দিক পার্থক্য সহকারে বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, আবু দাঊদ, বায়হাকী, ইবনে জারীর, শাফিঈ, ইবনে সাদ, বাযযার, তাবারানী প্রমুখ নিজ নিজ গ্রন্থে সংকলন করেছেন । আল্লামা সুয়ূতী তার আদ-দুররুল মানছুর গ্রন্থে হাদীসটি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন। এই মাসআলাটিতে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব ছাড়া আর কেউই ভিন্নমত ব্যক্ত করেননি। তিনি বলেছেন, দ্বিতীয় স্বামীর বিবাহই যথেষ্ট, সংগম শর্ত নয়। তিনি কুরআনের আয়াতের প্রকাশ্য অর্থ এবং এজাতীয় হাদীস নিজ মতের সমর্থনে দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন (অনুবাদক)।
২এই অনুচ্ছেদে তাহলীল (তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করার পন্থা) সম্পর্কে আংশিক আলোচনা করা হয়েছে। আমরা পূর্বেই বলেছি যে, তিন তালাক দেয়ার পর স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণের ব্যাপারটি অত্যন্ত জটিল। স্ত্রীলোকটি ইদ্দাতশেষে দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করবে স্বাভাবিক পন্থায়। অতঃপর স্বামী মারা গেলে বা স্বেচ্ছায় তালাক দিলে পুনরায় ইদ্দাত পালন করার পর ইচ্ছা করলে সে প্রথম স্বামীর সাথে আবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে তাহলীল করার নামে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিবাহের যে মহড়া অনুষ্ঠিত হয়, তা সম্পূর্ণ নাজায়েয কাজ। একে মূলত বিবাহই বলা যায় না । প্রকারান্তরে তা এক ধরনের যেনা। এটা ছল-চাতুরীর মাধ্যমে আল্লাহর আয়াত নিয়ে খেল-তামাশা এবং আইনের আক্ষরিক মারপ্যাচের সুযোগ নিয়ে তার মূল লক্ষ্য ভাবধারাকে বিনষ্ট করারই নামান্তর। ইমাম আবু হানীফার মতে এ ধরনের পূর্বপরিকল্পিত বিবাহ জায়েয হলেও তা মাকরূহ তাহরিমী। ইমাম আবু ইউসুফ, মালেক (এক বর্ণনা অনুযায়ী), শাফিঈ এবং আহমাদের মতে এ ধরনের বিবাহ বাতিল। তা স্ত্রীকে প্রথম স্বামীর জন্য হালাল করবে না। রাসূলুল্লাহ (স) এ ধরনের লোকদের অভিসম্পাত করেছেন। তিনি বলেনঃ “যে লোক তাহলীল করলো এবং যার জন্য করলো উভয়ের উপর আল্লাহর অভিশাপ" (তিরমিযী, নাসাঈ)। তিনি সাহাবীদের সম্বোধন করে বলেনঃ “ভাড়ায় আনা ষাঁড় কে, তা আমি তোমার বলবো কি? তারা বলেন, অবশ্যই বলুন হে আল্লাহ্ রাসূল! তিনি বলেনঃ সে হলো হালালকারী ব্যক্তি। যে ব্যক্তি তা করে এবং যার জন্য করে, তাদের উভয়ের উপর আল্লাহ অভিসম্পাত করেন" (ইবনে মাজা, দারু কুতনী) (অনুবাদক)।
২এই অনুচ্ছেদে তাহলীল (তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করার পন্থা) সম্পর্কে আংশিক আলোচনা করা হয়েছে। আমরা পূর্বেই বলেছি যে, তিন তালাক দেয়ার পর স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণের ব্যাপারটি অত্যন্ত জটিল। স্ত্রীলোকটি ইদ্দাতশেষে দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করবে স্বাভাবিক পন্থায়। অতঃপর স্বামী মারা গেলে বা স্বেচ্ছায় তালাক দিলে পুনরায় ইদ্দাত পালন করার পর ইচ্ছা করলে সে প্রথম স্বামীর সাথে আবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে তাহলীল করার নামে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিবাহের যে মহড়া অনুষ্ঠিত হয়, তা সম্পূর্ণ নাজায়েয কাজ। একে মূলত বিবাহই বলা যায় না । প্রকারান্তরে তা এক ধরনের যেনা। এটা ছল-চাতুরীর মাধ্যমে আল্লাহর আয়াত নিয়ে খেল-তামাশা এবং আইনের আক্ষরিক মারপ্যাচের সুযোগ নিয়ে তার মূল লক্ষ্য ভাবধারাকে বিনষ্ট করারই নামান্তর। ইমাম আবু হানীফার মতে এ ধরনের পূর্বপরিকল্পিত বিবাহ জায়েয হলেও তা মাকরূহ তাহরিমী। ইমাম আবু ইউসুফ, মালেক (এক বর্ণনা অনুযায়ী), শাফিঈ এবং আহমাদের মতে এ ধরনের বিবাহ বাতিল। তা স্ত্রীকে প্রথম স্বামীর জন্য হালাল করবে না। রাসূলুল্লাহ (স) এ ধরনের লোকদের অভিসম্পাত করেছেন। তিনি বলেনঃ “যে লোক তাহলীল করলো এবং যার জন্য করলো উভয়ের উপর আল্লাহর অভিশাপ" (তিরমিযী, নাসাঈ)। তিনি সাহাবীদের সম্বোধন করে বলেনঃ “ভাড়ায় আনা ষাঁড় কে, তা আমি তোমার বলবো কি? তারা বলেন, অবশ্যই বলুন হে আল্লাহ্ রাসূল! তিনি বলেনঃ সে হলো হালালকারী ব্যক্তি। যে ব্যক্তি তা করে এবং যার জন্য করে, তাদের উভয়ের উপর আল্লাহ অভিসম্পাত করেন" (ইবনে মাজা, দারু কুতনী) (অনুবাদক)।