আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ
৭- বিবাহ-শাদী সম্পর্কিত অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৪৮
- বিবাহ-শাদী সম্পর্কিত অধ্যায়
কোন মহিলা ইদ্দাত চলাকালে বিবাহ করলে।
৫৪৮। আব্দুল্লাহ ইবনে আবু উমাইয়্যা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। এক মহিলার স্বামী মারা গেলো। সে চার মাস দশ দিন ইদ্দাত পূর্ণ করলো। হালাল হওয়ার পর সে অন্য পুরুষের কাছে বিবাহ বসলো। এই স্বামীর কাছে সাড়ে চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পর সে একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা প্রসব করে। তার স্বামী হযরত উমার (রাযিঃ)-র কাছে এলে তিনি জাহিলী যুগের কয়েকজন প্রবীণ স্ত্রীলোককে ডেকে তাদের কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তাদের মধ্যকার এক প্রবীণ মহিলা বললো, আমি আপনাকে বলে দিতে পারি। তার স্বামী যখন মারা যায় তখন সে গর্ভবতী ছিলো। অতঃপর রক্তস্রাবের কারণে তার পেটের মধ্যে সন্তান শুকিয়ে যায়। অতঃপর সে যখন তার নতুন স্বামীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয় এবং বাচ্চাকে তার বীর্য স্পর্শ করে, তখন তার মধ্যে স্পন্দন ফিরে আসে এবং তা বড়ো হতে থাকে।** উমার (রাযিঃ) এই স্ত্রীলোকটির কথা বিশ্বাস করলেন, অতঃপর তাদের উভয়ের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলেন এবং বললেন, তোমাদের উভয়ের কোন দোষ নেই। তিনি বাচ্চাকে পূর্ব-স্বামীর সাথে সম্পৃক্ত করলেন।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই মত গ্রহণ করেছি। সন্তান প্রথম স্বামীর ঔরসজাত। কেননা স্ত্রীলোকটি দ্বিতীয় স্বামীর কাছে এসেছে, তার সময় ছয় মাসেরও কম। কোন স্ত্রীলোক ছয় মাসের কম সময়ে পূর্ণাংগ বাচ্চা প্রসব করতে পারে না। এজন্য ভূমিষ্ঠ শিশুটি প্রথম স্বামীর ঔরসজাত। অতঃপর এই দ্বিতীয় স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ করে দিতে হবে। স্ত্রীলোকটির নির্ধারিত মুহর অথবা মুহরে মিসালের মধ্যে যেটির পরিমাণ কম হবে, সে তা পাবে। কেননা দ্বিতীয় স্বামী তার লজ্জাস্থানকে ব্যবহার করেছে।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই মত গ্রহণ করেছি। সন্তান প্রথম স্বামীর ঔরসজাত। কেননা স্ত্রীলোকটি দ্বিতীয় স্বামীর কাছে এসেছে, তার সময় ছয় মাসেরও কম। কোন স্ত্রীলোক ছয় মাসের কম সময়ে পূর্ণাংগ বাচ্চা প্রসব করতে পারে না। এজন্য ভূমিষ্ঠ শিশুটি প্রথম স্বামীর ঔরসজাত। অতঃপর এই দ্বিতীয় স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ করে দিতে হবে। স্ত্রীলোকটির নির্ধারিত মুহর অথবা মুহরে মিসালের মধ্যে যেটির পরিমাণ কম হবে, সে তা পাবে। কেননা দ্বিতীয় স্বামী তার লজ্জাস্থানকে ব্যবহার করেছে।
كتاب النكاح
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ، أَنَّ امْرَأَةً هَلَكَ عَنْهَا زَوْجُهَا، فَاعْتَدَّتْ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا، ثُمَّ تَزَوَّجَتْ حِينَ حَلَّتْ فَمَكَثَتْ عِنْدَ زَوْجِهَا أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَنِصْفًا، ثُمَّ وَلَدَتْ وَلَدًا تَامًّا، فَجَاءَ زَوْجُهَا إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ: " فَدَعَا عُمَرُ نِسَاءً مِنْ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَاهِلِيَّةِ قُدَمَاءَ، فَسَأَلَهُنَّ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَتِ الْمَرْأَةُ مِنْهُنَّ: أَنَا أُخْبِرُكَ، أَمَّا هَذِهِ الْمَرْأَةُ هَلَكَ زَوْجُهَا حِينَ حَمَلَتْ، فَأُهْرِيقَتِ الدِّمَاءُ فَحَشَفَ وَلَدُهَا فِي بَطْنِهَا، فَلَمَّا أَصَابَهَا زَوْجُهَا الَّذِي نَكَحَتْهُ، وَأَصَابَ الْوَلَدَ الْمَاءُ تَحَرَّكَ الْوَلَدُ فِي بَطْنِهَا، وَكَبِرَ فَصَدَّقَهَا عُمَرُ بِذَلِكَ وَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا "، وَقَالَ عُمَرُ: «أَمَا إِنَّهُ لَمْ يَبْلُغْنِي عَنْهُمَا إِلا خَيْرًا، وَأَلْحَقَ الْوَلَدَ بِالأَوَّلِ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، الْوَلَدُ وَلَدُ الأَوَّلِ، لأَنَّهَا جَاءَتْ بِهِ عِنْدَ الآخَرِ لِأَقَلَّ مِنْ سِتَّةِ أَشْهُرٍ، فَلا تَلِدُ الْمَرْأَةُ وَلَدًا تَامًّا لِأَقَلَّ مِنْ سِتَّةِ أَشْهُرٍ، فَهُوَ ابْنُ الأَوَّلِ، وَيُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا وَبَيْنَ الآخَرِ، وَلَهَا الْمَهْرُ بِمَا اسْتَحَلَّ مِنْ فَرْجِهَا: الأَقَلُّ مِمَّا سُمِّيَ لَهَا وَمِنْ مَهْرِ مِثْلِهَا، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
** উল্লেখিত বক্তব্য আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কারণ গর্ভ সঞ্চারের পর স্বামীর স্খলিত বীর্য গর্ভস্থ সন্তানের কোন উপকারে আসে না। বীর্য জরায়ুর অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারলেও বাচ্চাকে স্পর্শ করতে পারে না। কেননা বাচ্চা জরায়ুর অভ্যন্তরে একটি শক্ত আবরণের মধ্যে অবস্থান করে, যা বীর্য কখনো ভেদ করতে পারে না, বরং বীর্য পরে যোনীমুখ দিয়ে বাইরে বের হয়ে যায়। অন্তঃসত্তা নির্ণিত না হওয়ার অন্য কোন দৈহিক কারণ থাকতে পারে (অনুবাদক)।