আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

৩- জানাযা-কাফন-দাফন সম্পর্কিত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩২২
- জানাযা-কাফন-দাফন সম্পর্কিত অধ্যায়
কবরকে সিজদার জায়গায় পরিণত করা, কবর সামনে রেখে নামায পড়া অথবা কবরের সাথে হেলান দিয়ে বসা।
৩২২। ইমাম মালেক (রাহঃ) বলেন, হযরত আলী (রাযিঃ) তার সাথে ঠেস দিয়ে বসতেন এবং তার উপর শয়ন করতেন। বিশর (রাহঃ) বলেন, আর্থাৎ কবরের উপর।**
أبواب الجنائز
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، قَالَ: بَلَغَنِي، أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ «كَانَ يَتَوَسَّدُ عَلَيْهَا وَيَضْطَجِعُ عَلَيْهَا» ، قَالَ بِشْرٌ: يَعْنِي الْقُبُورَ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** শেরেক অনুপ্রবেশের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে এই কবর। বর্তমানে পীর-আওলিয়া বলে কথিত লোকদের কবরকে কেন্দ্র করে যা কিছু করা হচ্ছে তা ইসলাম বিরোধী এবং সুস্পষ্ট শেরেক। এজন্য নবী ﷺ তাঁর ইন্তেকালের পূর্বে এই সম্পর্কে উম্মাতকে সতর্ক করে দিয়েছেন। হযরত জুনদুব (রা) বলেন, আমি নবী ﷺ -কে তার ইন্তেকালের পাঁচ দিন পূর্বে একথা বলতে শুনেছিঃ “সাবধান! তোমাদের পূর্বেকার উম্মাতগণ তাদের নবী-রাসূল ও নেককার লোকদের কবরকে সিজদার স্থান বনিয়ে নিয়েছিল। সাবধান! তোমরা কখনো কবরকে সিজদার স্থানে পরিণত করবে না। মনে রেখো, আমি তোমাদের এরূপ করতে নিষেধ করছি” (মুসলিম)। হযরত আয়েশা (রা) ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী ﷺ যখন মৃত্যুকালীন রোগে আক্রান্ত হলেন, তখন তিনি মুখ চাদর দিয়ে (ঢেকে) রাখতেন। যখন তাঁর বেশী কষ্ট হতো, মুখের উপর থেকে চাদর সরিয়ে ফেলতেন। এরূপ অবস্থায় একবার তিনি বলেনঃ “ইহুদী ও খৃষ্টানদের উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক। তারা নিজেদের নবী-রাসূলদের কবরকে সিজদার স্থান বানিয়ে নিয়েছে"। তিনি ইহুদী-খৃস্টানদের এসব কাজের পরিণতি সম্পর্কে ভয় প্রদর্শন করছিলেন (বুখারী, মুসলিম)। হযরত জাবের (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ কবর পাকা করতে, এর পাশে আসন গ্রহণ করতে এবং এর উপর কোঠা নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, আহমাদ)। আবু মারসাদ আল-গানাবী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ “তোমরা কবরের উপর বসো না এবং এর দিকে মুখ করে নামাযও পড়ো না” (মুসলিম)। নবী ﷺ তাঁর নিজের কবর সম্পর্কে বলেছেনঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার কবরকে পূজনীয় মূর্তি বানিও না। যে জাতি নিজেদের নবী-রাসূলদের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে তাদের উপর আল্লাহর গযব তীব্রতর হয়েছে (মালেক, বাযযার)। এ পর্যায়ে শাহ ওলিউল্লাহ দেহলবী (র) বলেন, 'আমি বলছি, শুরুতে কবর যিয়ারত নিষিদ্ধ ছিল। কেননা তা কবর পূজার দ্বার খুলে দিতো। কিন্তু যখন ইসলামের নীতিমালা সুপ্রতিষ্ঠিত হলো এবং আল্লাহ ছাড়া অপর কিছুর ইবাদত হারাম হওয়ার ব্যাপারে মানুষের মনমগজ আশ্বস্ত হলো, তখন কবর যিয়ারতের অনুমতি দেয়া হয়" (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা, ১ম খণ্ড, অনুচ্ছেদঃ কবর যিয়ারত) (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান