আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

৩- জানাযা-কাফন-দাফন সম্পর্কিত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩১৮
- জানাযা-কাফন-দাফন সম্পর্কিত অধ্যায়
লাশ দাফন করার পর জানাযার নামায পড়া।
৩১৮ । আবু উমামা ইবনে সাহল ইবনে হুনাইফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে এক দরিদ্র নিঃস্ব মহিলার অসুখ সম্পর্কে অবহিত করা হলো। রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর অভ্যাস ছিল রুগ্ন-দরিদ্রদের দেখতে যাওয়া ও তাদের খোঁজ-খবর নেয়া। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ “সে মারা গেলে তোমরা আমাকে খবর দিও”। রাবী বলেন, ঘটনাক্রমে সেই মহিলা (রাতে) মারা যায় এবং রাতেই তার জানাযা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। লোকেরা রাতের বেলা রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে খবর দিয়ে তাঁকে কষ্ট দেয়া সমীচীন মনে করলো না। ভোরবেলা রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে তার মৃত্যুসংবাদ শুনানো হলো। তখন তিনি বলেনঃ “আমি কি তোমাদের নির্দেশ দেইনি যে, সে মারা গেলে আমাকে অবহিত করবে?” তারা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! রাতের বেলা আপনাকে ঘর থেকে বের করা বা আপনার ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টি করা আমরা পছন্দ করিনি। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বের হলেন এবং তার কবরের পাশে লোকদের কাতারবন্দী করলেন, অতঃপর তার কবরকে সামনে রেখে চার তাকবীরের সাথে তার জানাযা পড়লেন।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমাদের মতেও জানাযার নামায চার তাকবীরের সাথে পড়তে হবে। যার একবার জানাযা পড়া হয়েছে, তার উপর পুনর্বার জানাযা না পড়াই উচিৎ। এক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর উদাহরণ পেশ করা ঠিক নয় যে, তিনি মদীনায় নাজ্জাশীর জানাযা পড়েছেন, অথচ তিনি মারা গেছেন হাবশায় (আবিসিনিয়া, বর্তমান নাম ইথিওপিয়া)। অন্য লোকদের নামাযের সাথে তাঁর নামাযের তুলনা হয় না। তাঁর নামায তাদের জন্য পবিত্রতা ও বরকতের কারণ ছিল। সুতরাং তাঁর নামায অন্যদের নামাযের সাথে তুলনীয় নয়। ইমাম আবু হানীফারও এই মত।
أبواب الجنائز
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ، أَنَّ أَبَا أُمَامَةَ بْنَ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّ مِسْكِينَةً مَرِضَتْ، فَأُخْبِرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَرَضِهَا، قَالَ: وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُ الْمَسَاكِينَ، وَيَسْأَلُ عَنْهُمْ، قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا مَاتَتْ فَآذِنُونِي بِهَا» ، قَالَ: فَأُتِيَ بِجِنَازَتِهَا لَيْلا، فَكَرِهُوا أَنْ يُؤْذِنُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِاللَّيْلِ، فَلَمَّا أَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أُخْبِرَ بِالَّذِي كَانَ مِنْ شَأْنِهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَمْ آمُرُكُمْ أَنْ تُؤْذِنُونِي؟» ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَرِهْنَا أَنْ نُخْرِجَكَ لَيْلا، أَوْ نُوقِظَكَ، [ص:113] قَالَ: «فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى صَفَّ بِالنَّاسِ عَلَى قَبْرِهَا، فَصَلَّى عَلَى قَبْرِهَا، فَكَبَّرَ أَرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، التَّكْبِيرُ عَلَى الْجِنَازَةِ أَرْبَعُ تَكْبِيرَاتٍ، وَلا يَنْبَغِي أَنْ يُصَلَّى عَلَى جِنَازَةٍ قَدْ صُلِّيَ عَلَيْهَا، وَلَيْسَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا كَغَيْرِهِ، أَلا يُرَى أَنَّهُ صَلَّى عَلَى النَّجَاشِيِّ بِالْمَدِينَةِ، وَقَدْ مَاتَ بِالْحَبَشَةِ، فَصَلاةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَرَكَةٌ، وَطَهُورٌ فَلَيْسَتْ كَغَيْرِهَا مِنَ الصَّلَوَاتِ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** ইমাম শাফিঈ ও জমহূর আলেমদের মতে, কবরের উপর জানাযা পড়া জায়েয। ইমাম আবু হানীফা, মালেক (তার প্রসিদ্ধ মত) ও ইবরাহীম নাখঈর মতে, দাফনের পূর্বে জানাযা না পড়া হয়ে থাকলে কবরের উপর জানাযা পড়া জায়েয, অন্যথায় জায়েয নয়।

জানাযার তাকবীর সংখ্যা
হযরত উমার, হাসান, হুসাইন, যায়েদ ইবনে ছাবিত, ইবনে আবু আওফা, ইবনে উমার, সুহাইব, উবাই ইবনে কাব, বারাআ ইবনে আয়েব, আবু হুরায়রা, উকবা ইবনে আমর (রা), মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যা, শাবী, আলকামা, আতা, উমার ইবনে আবদুল আযীয মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন, সুফিয়ান সাওরী, কুফার অধিকাংশ আলেম, মালেক, হেজাযের অধিকাংশ আলেম, আওযাঈ, সিরিয়ার অধিকাংশ আলেম, শাফিঈ, আহমাদ (তার প্রসিদ্ধ মত) ও ইসহাকের মতে, জানাযার তাকবীর সংখ্যা চার । ইবনে মাসউদ, হুযায়ফা ও যায়েদ ইবনে আরকাম (রা)-র মতে তাকবীর সংখ্যা পাঁচ, আলী (রা)-র মতে ছয়, যির ইবনে হুবাইশ (র)-র মতে সাত এবং আনাস ও জাবের (রা)-র মতে তিন। ইবরাহীম নাখঈ বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর যুগ থেকে আবু বাকর (রা)-র খেলাফতকাল পর্যন্ত চার, পাঁচ ও ছয় তাকবীরের সাথে জানাযা পড়তো। অতঃপর উমার (রা)-র খেলাফতকালে তার আহবানে অনুসন্ধান করে দেখা গেলো, রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর সর্বশেষ আমল ছিলো চার তাকবীর। অতঃপর এটাই গৃহীত হয় (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান