আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ
২- নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১১১
- নামাযের অধ্যায়
নামায শুরু করা (ইফতিতাহুস সালাত)।
১১১। ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) কেবল নামায শুরু করার সময় রফউল ইয়াদাইন করতেন।
أبواب الصلاة
قَالَ مُحَمَّدٌ , أَخْبَرَنَا الثَّوْرِيُّ، حَدَّثَنَا حُصَيْنُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ , أَنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاةَ
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
তাকবীরে তাহরীমা (অর্থাৎ নামায শুরু করার তাকবীর) ছাড়া নামাযের কোন জায়গায় রফউল ইয়াদাইন (কান পর্যন্ত দুই হাত উত্তোলন) সম্পর্কে ইমামদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ইমাম আবু হানীফা, সুফিয়ান সাওরী ও কুফার আলেমদের মতে রুকূতে যাওয়া ও উঠার সময় রফউল ইয়াদাইন করবে না। তারা আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা)-র হাদীস নিজেদের মতের স্বপক্ষে দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। তাতে বলা হয়েছেঃ
عن علقمة قال قال ابن مسعود الا أصلى بكم صلوة رسول اللہ ﷺ فصلى فلم يرفع يديه الأ في أول مرة (ترمذى كتاب الصلوة باب رفع اليدين عند الركوع) قال أبو عيسى هذا حديث حسن
“আলকামা (র) বলেন, ইবনে মাসউদ (রা) বললেন, আমি কি তোমাদের সাথে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর অনুরূপ নিয়মে নামায পড়বো না? (আলকামা বলেন) অতঃপর তিনি নামায পড়লেন, কিন্তু তাকবীর ঊলা (তাহরীমা) ছাড়া আর কোথাও রফউল ইয়াদইন করেননি” (তিরমিযী)।
কিন্তু ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং সকল মুহাদ্দিসের মতে তাকবীরে ঊলা ছাড়াও রুকূতে যাওয়ার সময় এবং রুকূ থেকে উঠার সময় রফউল ইয়াদাইন করা সুন্নাত। তারা আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা), আবু হুমাইদ আস-সাইদী (রা), ওয়াইল ইবনে হুজর (রা) ও আবু হুরায়রা (রা) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসসমূহ নিজেদের মতের স্বপক্ষে দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা)-র হাদীসে দুই রাআত শেষে তৃতীয় রাআতের জন্য উঠার সময়ও রফউল ইয়াদাইন করার কথা উল্লেখ আছে।
এতে সন্দেহ নেই যে, হাদীসে উভয় মতই স্বপ্রমাণিত। মতবিরোধ কেবল রাফউল ইয়াদাইন করা উত্তম, না না করা উত্তম এই বিষয়ে। ইমাম শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিস দিহলাবী (র) তার “হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা” নামক গ্রন্থে বলেছেন, “আমার কাছে রফউল ইয়াদাইনকারী ব্যক্তিই রফউল ইয়াদাইন বর্জনকারীর চেয়ে অধিক পছন্দনীয়। তবে এই সুন্নাতের ব্যাপারটি নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া মোটেই সমীচীন নয়। কেননা ঝগড়া-বিবাদকে আল্লাহ তাআলা হারাম করেছেন। তাই সুন্নাত পালনের ব্যাপার নিয়ে মতভেদ করে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া জায়েয নয়" (অনুবাদক)।
عن علقمة قال قال ابن مسعود الا أصلى بكم صلوة رسول اللہ ﷺ فصلى فلم يرفع يديه الأ في أول مرة (ترمذى كتاب الصلوة باب رفع اليدين عند الركوع) قال أبو عيسى هذا حديث حسن
“আলকামা (র) বলেন, ইবনে মাসউদ (রা) বললেন, আমি কি তোমাদের সাথে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর অনুরূপ নিয়মে নামায পড়বো না? (আলকামা বলেন) অতঃপর তিনি নামায পড়লেন, কিন্তু তাকবীর ঊলা (তাহরীমা) ছাড়া আর কোথাও রফউল ইয়াদইন করেননি” (তিরমিযী)।
কিন্তু ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং সকল মুহাদ্দিসের মতে তাকবীরে ঊলা ছাড়াও রুকূতে যাওয়ার সময় এবং রুকূ থেকে উঠার সময় রফউল ইয়াদাইন করা সুন্নাত। তারা আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা), আবু হুমাইদ আস-সাইদী (রা), ওয়াইল ইবনে হুজর (রা) ও আবু হুরায়রা (রা) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসসমূহ নিজেদের মতের স্বপক্ষে দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা)-র হাদীসে দুই রাআত শেষে তৃতীয় রাআতের জন্য উঠার সময়ও রফউল ইয়াদাইন করার কথা উল্লেখ আছে।
এতে সন্দেহ নেই যে, হাদীসে উভয় মতই স্বপ্রমাণিত। মতবিরোধ কেবল রাফউল ইয়াদাইন করা উত্তম, না না করা উত্তম এই বিষয়ে। ইমাম শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিস দিহলাবী (র) তার “হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা” নামক গ্রন্থে বলেছেন, “আমার কাছে রফউল ইয়াদাইনকারী ব্যক্তিই রফউল ইয়াদাইন বর্জনকারীর চেয়ে অধিক পছন্দনীয়। তবে এই সুন্নাতের ব্যাপারটি নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া মোটেই সমীচীন নয়। কেননা ঝগড়া-বিবাদকে আল্লাহ তাআলা হারাম করেছেন। তাই সুন্নাত পালনের ব্যাপার নিয়ে মতভেদ করে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া জায়েয নয়" (অনুবাদক)।