আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৫৭- আকীকার অধ্যায়

হাদীস নং: ৫০৭৩
আন্তর্জাতিক নং: ৫৪৬৯
- আকীকার অধ্যায়
২৮৯৪. যে সন্তানের ‘আকীকা দেওয়া হবে না, জন্মগ্রহণের দিনেই তার নাম রাখা ও ‘তাহনীক’ করা (কিছু চিবিয়ে তার মুখে দেয়া)
৫০৭৩। ইসহাক ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ‘আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরকে মক্কায় গর্ভে ধারণ করেন। তিনি বলেনঃ গর্ভকাল পূর্ণ হওয়া অবস্থায় আমি বেরিয়ে মদীনায় আসলাম এবং কুবায় অবতরণ করলাম। কুবাতেই আমি তাকে প্রসব করি। তারপর তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে এসে তাকে তার কোলে রাখলাম। তিনি একটি খেজুর আনতে বললেন। তা চিবিয়ে তিনি তার মুখে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর এই লালাই সর্ব প্রথম তার পেটে প্রবেশ করল। তারপর তিনি খেজুর চিবিয়ে তাহনীক করলেন এবং তার জন্য বরকতের দু‘আ করলেন। (হিজরতের পরে) ইসলামে সে-ই ছিল প্রথম জন্মগ্রহণকারী। তাই তার জন্য মুসলিমরা অত্যন্ত খুশী হয়েছিলেন কারণ, তাদের বলা হতো, ইয়াহুদীরা তোমাদের যাদু করেছে তাই তোমাদের সন্তান হয় না।
كتاب العقيقة
باب تَسْمِيَةِ الْمَوْلُودِ غَدَاةَ يُولَدُ، لِمَنْ لَمْ يَعُقَّ عَنْهُ، وَتَحْنِيكِهِ
5469 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّهَا حَمَلَتْ بِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ بِمَكَّةَ، قَالَتْ: فَخَرَجْتُ وَأَنَا مُتِمٌّ، فَأَتَيْتُ المَدِينَةَ فَنَزَلْتُ قُبَاءً، فَوَلَدْتُ بِقُبَاءٍ، ثُمَّ «أَتَيْتُ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَضَعْتُهُ فِي حَجْرِهِ، ثُمَّ دَعَا بِتَمْرَةٍ فَمَضَغَهَا، ثُمَّ تَفَلَ فِي فِيهِ، فَكَانَ أَوَّلَ شَيْءٍ دَخَلَ جَوْفَهُ رِيقُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ حَنَّكَهُ بِالتَّمْرَةِ، ثُمَّ دَعَا لَهُ فَبَرَّكَ عَلَيْهِ» وَكَانَ أَوَّلَ مَوْلُودٍ وُلِدَ فِي الإِسْلاَمِ، فَفَرِحُوا بِهِ فَرَحًا شَدِيدًا، لِأَنَّهُمْ قِيلَ لَهُمْ: إِنَّ اليَهُودَ قَدْ سَحَرَتْكُمْ فَلاَ يُولَدُ لَكُمْ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসের এক রেওয়ায়াতে এই অতিরিক্ত সংযোজন রয়েছে যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাযি.-এর জন্ম গ্রহণে মুসলমানগণ অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন, বিশেষভাবে এই কারণে যে, একথা প্রচারিত হয়ে গিয়েছিল যে, ইয়াহুদীরা মুসলমানদের উপর এমন যাদু করে ফেলেছে যে, তাদের সন্তানই হবে না। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাযি.-এর জন্ম এটাকে ভুল প্রমাণিত করে দিল, আর মুসলমানদের যেসব শত্রু এ যাদুর কথা প্রচার করেছিল তারা লাঞ্ছিত হল।

হাদীস গ্রন্থসমূহে “তাহনীক” সম্পর্কে অনেক ঘটনা বর্ণিত রয়েছে। এগুলো দ্বারা জানা গেল যে, যখন কোন পরিবারে সন্তান জন্ম গ্রহণ করে, তখন তাকে নিয়ে আল্লাহর কোন মকবুল ও নেককার বান্দার কাছে যাওয়া চাই, তার জন্য মঙ্গল ও বরকতের দু‘আ করানো চাই এবং তাহনীকও করা চাই। এটা ঐসব সুন্নতের একটি, যার প্রচলন এখন খুবই কমে গেছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)