শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৭. শুফআ এবং ইজারা অধ্যায়

হাদীস নং: ৬০৩১
শুফআ এবং ইজারা অধ্যায়
তালীমুল কুরআন-এর ওপর উজরাত গ্রহণ কি জায়েয, এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতে যা বর্ণিত
৬০৩১। আবুল আওয়াম মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্দুল জাব্বার ….. আবুল মুতাওয়াক্কিল আন-নাজী হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, একবার রাসূলুল্লাহ্(ﷺ)-এর সাহাবীগণ এক যুদ্ধে ছিলেন। অতঃপর তারা এক আরব গােত্রের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন তারা জিজ্ঞেস করল, তােমাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে, যে ঝাড়ফুঁক করতে পারে? কারণ আমাদের গােত্রের সর্দার দংশিত হয়েছেন। অথবা , তিনি এক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। রাবী বলেন, অতঃপর এক ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়ে তাকে ফুঁক দিলে সে সুস্থ হয়ে গেল। তখন সে তাকে একপাল ছাগল দিল। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন। তারপর তিনি রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) -এর নিকট জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, কিসের মাধ্যমে তুমি তাকে ফুঁক দিয়েছ? তিনি বললেন, সূরা ফাতিহা পড়ে। তিনি বললেন, কি করে জান যে, এটা (জাহিলী যুগের) মন্ত্র? রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) বললেন, তােমরা ঐসব ছাগল নিয়ে নাও এবং তার মধ্যে আমারও একটা অংশ রেখ।

এসব হাদীসের মাধ্যমে একদল উলামা-ই কিরাম দলীল পেশ করে বলেন, তালীমুল কুরআন-এর বিনিময় গ্রহণ করায় কোন অসুবিধা নেই।

আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, এ উলামা-ই কিরাম দ্বারা আবু ক্বিলাবা, তাউস ইব্‌ন কায়সান, আতা ইব্‌ন আবু রাবাহ্, ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ) উদ্দেশ্য।

অপরপক্ষে উলামা-ই কিরামের অন্য একটি জামাত তাদের বিপরীত মত পােষণ করেন এবং তারা তালীমুল কুরআনের বিনিময় গ্রহণ করা মাকরূহ মনে করেন। যেমন নামাযের তালীম দিয়ে তার বিনিময় গ্রহণ করা মাকরূহ।

আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, এ উলামা-ই কিরাম হলেন, আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন শাক্বীক্ব, আসওয়াদ ইব্‌ন সা'লাবা, ইবরাহীম নাখঈ, আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন ইয়াযীদ, শুরাইহ্ ইব্‌নুল হারিস আল-ক্বাযী, হাসান ইব্‌ন হাই, আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)।

প্রথম মতের প্রবক্তা উলামা-ই-কিরামের বিরুদ্ধে তাদের দলীল হলাে, পূর্বে যে সব হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে পারিশ্রমিকের কথা বর্ণিত হয়েছে। মূলত তা তালীমুল কুরআনের ওপর পারিশ্রমিক ছিল না। বস্তুত তা ছিল ঝাড়ফুঁকের পারিশ্রমিক। তা দ্বারা ইজারা গ্রহণকালে তা'লীমুল কুরআন উদ্দেশ্য হয় না। অনুরূপভাবে আমরা এ কথা বলি যে, মন্ত্র ও ঝাড়ফুঁক এবং যাবতীয় চিকিৎসা করে তার উজরাত ও বিনিময় গ্রহণ করায় কোন অসুবিধা নেই। যদিও আমরা জানি যে, ঝাড়ফুঁকের বিনিময়ে উজরাত গ্রহণকারী কোন কোন সময় তার ঝাড়ফুঁকের মধ্যে কুরআনের কিছু অংশ দাখিল করে।

অতএব যখন তারা এমন এক কাজের ওপর বিনিময় গ্রহণ করবে যা তাদের ওপর ওয়াজিব নয়, সেক্ষেত্রে তাদের জন্য উজরাত ও বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয আছে।

তা'লীমুল কুরআন যেহেতু এমন এক কাজ, যা মানুষের ওপর একজন অন্যজনকে শিক্ষা দেয়া ওয়াজিব। কারণ এর মধ্যে আল্লাহর পক্ষ হতে যে তাবলীগের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, তা পালন করা হয়। অবশ্য একজন যদি কুরআন শিক্ষা দেয়, তবে তা অবশিষ্ট লােকদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়। যেমন সালাতুল জানাযা, যা সকল মুসলমানের ওপর ফরয। কিন্তু যদি তাদের একজন ফরয পালন করে, তবে অবশিষ্ট সকলের পক্ষে তা যথেষ্ট হবে। তা'লীমুল কুরআনের ব্যাপারটাও ঠিক অনুরূপ যা তাদের সকলের ওপর ফরয, কিন্তু যদি তাদের একজন এ দায়িত্ব পালন করে, তবে অবশিষ্ট সকলের পক্ষ হতে তা যথেষ্ট হবে। অতএব যখন তাদের একজন অন্যজন হতে তা'লীমুল কুরআনের ওপর উজরাত ও বিনিময় গ্রহণ করবে, তখন উজরাত দেয়া ও উজরাত গ্রহণ করা দুটোই বাতিল হবে। কারণ সে তার নিকট হতে উজরাত ও বিনিময় গ্রহণ করেছে এই শর্তে ওপর যে, সে এক ফরয কাজ পালন করবে যা তার ওপর আল্লাহর জন্য ওয়াজিব। আর সে এ ফরয পালন করে তবে নিজের জন্যই। কারণ তার এ কাজের মাধ্যমে তার ওপর যে ফরয অর্পিত ছিল, তা হতে সে মুক্ত হচ্ছে। আর ইজারাসমূহ তাে এমন বিষয় যে, উজরাত গ্রহণকারী শ্ৰমদাতারা যে শ্রম দান করে, তার বিনিময় গ্রহণ করা ও তার মালিক হওয়া তাদের জন্য জায়েয।

যদি কেউ এ প্রশ্ন করে যে, তালীমুল কুরআনের ওপর বিনিময় গ্রহণ করা নিষিদ্ধ যা আপনি উল্লেখ করেছেন, আপনার এ কথা প্রমাণ করে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতে কি এমন কিছু বর্ণিত আছে?

জবাবে তাকে বলা হবে, হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতে বর্ণিত لا تاکلوا بالقران অর্থাৎ ‘তােমরা কুরআনের বিনিময়ে গ্রহণ করে খেও না।’

হযরত উবাদা ইব্‌ন সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আহ্লুস-সুফ্ফাহর কিছু লােককে কুরআন শিক্ষা দিতাম। অতঃপর তাদের একজন জিহাদের জন্য আমাকে একটা ধনুক হাদিয়া ছিল। আমি রাসূলুল্লাহ্(ﷺ)-এর নিকট তার উল্লেখ করলে তিনি বললেন : ان اردت ان يطوقك الله بها قوسا من نار فاقبلها অর্থাৎ ‘তােমার যদি ইচ্ছা হয় যে, আল্লাহ্ তা'আলা এর কারণে তােমার গলায় আগুনের একটি তাওক পরিয়ে দেন, তবে তুমি তা গ্রহণ কর।'

আমরা এ সব রিওয়ায়াত পূর্বেই আমাদের এই গ্রন্থের নিকাহ্ পর্বের باب التزويج على سورة من القرآن -এ সনদসহ রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতে বর্ণনা করেছি।
এছাড়াও এ সম্পর্কে নবী(ﷺ) হতে আরাে বর্ণিত হয়েছে :
كتاب الشفعة و الإجارات
6031 - وَقَدْ حَدَّثَنَا أَبُو الْعَوَّامِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْمُرَادِيُّ قَالَ: ثنا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ قَالَ: ثنا هُشَيْمٌ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ النَّاجِي عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ أَصْحَابَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ كَانُوا فِي غُزَاةٍ فَمَرُّوا بِحَيٍّ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ فَقَالُوا: هَلْ فِيكُمْ مِنْ رَاقٍ؟ فَإِنَّ سَيِّدَ الْحَيِّ قَدْ لُدِغَ أَوْ قَدْ عَرَضَ لَهُ شَيْءٌ. [ص:127] قَالَ: فَرَقَاهُ رَجُلٌ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَبَرَأَ فَأُعْطِيَ قَطِيعًا مِنَ الْغَنَمِ فَأَبَى أَنْ يَقْبَلَهُ. فَسَأَلَ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهُ: «بِمَ رَقِيَتْهُ؟» فَقَالَ: بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ. قَالَ: «وَمَا يُدْرِيكَ أَنَّهَا رُقْيَةٌ؟» قَالَ: ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خُذُوهَا وَاضْرِبُوا لِي مَعَكُمْ فِيهَا بِسَهْمٍ» فَاحْتَجَّ قَوْمٌ بِهَذِهِ الْآثَارِ فَقَالُوا لَا بَأْسَ بِالْجُعْلِ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ. وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ فَكَرِهُوا الْجُعْلَ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ كَمَا قَدْ يُكْرَهُ الْجُعْلُ عَلَى تَعْلِيمِ الصَّلَاةِ. وَقَدْ كَانَ مِنَ الْحُجَّةِ لَهُمْ عَلَى أَهْلِ الْمَقَالَةِ الْأُولَى فِي ذَلِكَ أَنَّ الْآثَارَ الْأُوَلَ فِي ذَلِكَ لَمْ يَكُنِ الْجُعْلُ الْمَذْكُورُ فِيهَا عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ وَإِنَّمَا كَانَ عَلَى الرُّقَى الَّتِي لَمْ يَقْصِدْ بِالِاسْتِئْجَارِ عَلَيْهَا إِلَى الْقُرْآنِ. وَكَذَلِكَ نَقُولُ نَحْنُ أَيْضًا: لَا بَأْسَ بِالِاسْتِئْجَارِ عَلَى الرُّقَى وَالْعِلَاجَاتِ كُلِّهَا وَإِنْ كُنَّا نَعْلَمُ أَنَّ الْمُسْتَأْجَرَ عَلَى ذَلِكَ قَدْ يَدْخُلُ فِيمَا يَرْقِي بِهِ بَعْضُ الْقُرْآنِ لِأَنَّهُ لَيْسَ عَلَى النَّاسِ أَنْ يَرْقِيَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا فَإِذَا اسْتُؤْجِرُوا فِيهِ عَلَى أَنْ يَعْمَلُوا مَا لَيْسَ عَلَيْهِمْ أَنْ يَعْمَلُوهُ جَازَ ذَلِكَ. وَتَعْلِيمُ الْقُرْآنِ عَلَى النَّاسِ وَاجِبٌ أَنْ يُعَلِّمَهُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا لِأَنَّ فِي ذَلِكَ التَّبْلِيغَ عَنِ اللهِ تَعَالَى إِلَّا أَنَّ مَنْ عَلِمَهُ مِنْهُمْ أَجْزَى ذَلِكَ عَنْ بَقِيَّتِهِمْ كَالصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَائِزِ إِنَّمَا هِيَ فَرْضٌ عَلَى النَّاسِ جَمِيعًا إِلَّا أَنَّ مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ مِنْهُمْ أَجْزَى عَنْ بَقِيَّتِهِمْ. وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا أَسْتَأْجَرَ رَجُلًا لِيُصَلِّيَ عَلَى وَلِيٍّ لَهُ قَدْ مَاتَ لَمْ يَجُزْ ذَلِكَ لِأَنَّهُ إِنَّمَا اسْتَأْجَرَهُ عَلَى أَنْ يَفْعَلَ مَا عَلَيْهِ أَنْ يَفْعَلَ ذَلِكَ. فَكَذَلِكَ تَعْلِيمُ النَّاسِ الْقُرْآنَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا هُوَ عَلَيْهِمْ فَرْضٌ إِلَّا أَنَّ مَنْ فَعَلَهُ مِنْهُمْ فَقَدْ أَجْزَى فِعْلُهُ ذَلِكَ عَنْ بَقِيَّتِهِمْ. فَإِذَا اسْتَأْجَرَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا عَلَى تَعْلِيمِ ذَلِكَ كَانَتْ إِجَارَتُهُ تِلْكَ وَاسْتِئْجَارُهُ إِيَّاهُ بَاطِلًا لِأَنَّهُ إِنَّمَا اسْتَأْجَرَهُ عَلَى أَنْ يُؤَدِّيَ فَرْضًا هُوَ عَلَيْهِ لِلَّهِ تَعَالَى وَفِيمَا يَفْعَلُهُ لِنَفْسِهِ لِأَنَّهُ إِنَّمَا يَسْقُطُ عَنْهُ الْفَرْضُ بِفِعْلِهِ إِيَّاهُ وَالْإِجَارَاتُ إِنَّمَا تَجُوزُ وَتُمْلَكُ بِهَا الْأَبْدَالُ فِيمَا يَفْعَلُهُ الْمُسْتَأْجِرُونَ لِلْمُسْتَأْجَرَيْنِ. فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: فَهَلْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْءٌ يَدُلُّ عَلَى مَا ذَكَرْتَ فِي الْمَنْعِ مِنَ الِاسْتِئْجَارِ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ؟ قِيلَ لَهُ: نَعَمْ قَدْ رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ أَنَّهُ قَالَ: «لَا تَأْكُلُوا بِالْقُرْآنِ» . وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: كُنْتُ أُقْرِئُ نَاسًا مِنْ أَهْلِ الصُّفَّةِ الْقُرْآنَ فَأَهْدَى إِلَيَّ رَجُلٌ مِنْهُمْ قَوْسًا عَلَى أَنْ أَقْبَلَهَا فِي سَبِيلِ اللهِ تَعَالَى. فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِي: «إِنْ أَرَدْتَ أَنْ يُطَوِّقَكَ اللهُ بِهَا قَوْسًا مِنْ نَارٍ فَاقْبَلْهَا» . [ص:128] وَقَدْ ذَكَرْنَا ذَلِكَ كُلَّهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَسَانِيدِهَا فِيمَا تَقَدَّمَ مِنَّا مِنْ كِتَابِنَا هَذَا فِي بَابِ التَّزْوِيجِ عَلَى سُورَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ مِنْ كِتَابِ النِّكَاحِ. ثُمَّ قَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ أَيْضًا
مَا قَدْ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান