শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৪. উপহার ও সাদ্‌কা প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৮৫১
উপহার ও সাদ্‌কা প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়
কোন পুত্রকে বাদ দিয়ে যে ব্যক্তি তার অপর কোন পুত্রকে দান করে
৫৮৫১। ইব্‌ন আবু দাউদ ..... শা'বী হযরত নু'মান ইব্‌ন বশীর হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন : আমার আব্বা আমাকে কোলে করে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) -এর নিকট গমন করলেন। অতঃপর তিনি বললেন : ইয়া রাসূলাল্লাহ(ﷺ) আপনি সাক্ষী থাকুন,আমি নু'মানকে আমার মাল হতে এই এই বস্তু দান করেছি। তখন তাকে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) তাকে বললেন : তােমার প্রত্যেক সন্তানকে কি দান করেছ? তিনি বললেন, জী না। তিনি বললেন : তােমার কি এতে আনন্দ হয় যে, তােমার প্রতি সদাচারের ক্ষেত্রে ওরা সকলেই সমান হােক? তিনি বললেন, জী, হ্যাঁ। তিনি বললেন : তা হলে না।

দাউদ হতে এ হাদীসে মুরাসী যে বর্ণনা পেশ করেছেন, তার শব্দ এবং এ অনুচ্ছেদেই পূর্বে ওহায়ব দাউদ হতে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তার শব্দের পার্থক্য রয়েছে। শা'বী নু'মান হতে এরূপই বর্ণনা করেছেন। আবুয-যুহাও নু'মান হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি বর্ণনা করেছেন এরূপ :
كتاب الهبة والصدقة
5851 - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ، قَالَ: ثنا أَبُو عُمَرَ الْحَوْضِيُّ، قَالَ: ثنا مُرَجَّى، قَالَ: ثنا دَاوُدُ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ: انْطَلَقَ بِي أَبِي يَحْمِلُنِي إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ اشْهَدْ أَنِّي قَدْ نَحَلْتُ النُّعْمَانَ مِنْ مَالِي كَذَا وَكَذَا. فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَكُلَّ وَلَدِكَ نَحَلْتَهُ» ، قَالَ: لَا، قَالَ: «أَمَا يَسُرُّكَ أَنْ يَكُونُوا لَكَ فِي الْبِرِّ سَوَاءً» . قَالَ: بَلَى، قَالَ: «فَلَا إِذًا» فَقَدِ اخْتَلَفَ لَفْظُ حَدِيثِ دَاوُدَ هَذَا فِيمَا رَوَى عَنْهُ مُرَجَّى هَاهُنَا وَفِيمَا رَوَى عَنْهُ وُهَيْبٌ فِيمَا قَدْ تَقَدَّمَ فِي هَذَا الْبَابِ. وَهَكَذَا رَوَاهُ الشَّعْبِيُّ عَنِ النُّعْمَانِ وَقَدْ رَوَاهُ أَبُو الضُّحَى عَنِ النُّعْمَانِ أَيْضًا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

একথা স্পষ্ট যে, এ হাদীসে সন্তানদের সাথে অসম আচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং এটাকে বেইনসাফী সাব্যস্ত করা হয়েছে। কোন কোন ফকীহ এটাকে হারাম পর্যন্ত বলেছেন। তবে অধিকাংশ ফকীহ এবং ইমাম চতুষ্টয়ের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ী (রহ) কিছু কিছু দলীল ও ইঙ্গিতের ভিত্তিতে এটাকে হারাম তো বলেননি; কিন্তু মাকরূহ ও অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ সাব্যস্ত করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, এ বিধানটি কেবল ঐ অবস্থায়, যখন কাউকে প্রাধান্য দান শরী‘আতসম্মত কোন কারণ ছাড়াই হয়। কিন্তু যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে এ কারণ অনুসারে কাউকে প্রাধান্য দেওয়া বৈধ হবে। যেমন, সন্তানদের মধ্যে কেউ যদি চিররোগী হয় এবং সে অন্য ভাইদের মত জীবিকা উপার্জনের চেষ্টা-সাধনা করতে না পারে, তাহলে তার সাথে বিশেষ আচরণ ন্যায়-নীতির পরিপন্থী হবে না; বরং এক পর্যায়ে জরুরী ও সওয়াবের কাজ বিবেচিত হবে। অনুরূপভাবে সন্তানদের মধ্য থেকে কেউ যদি নিজেকে দ্বীন ও জাতির খেদমতে এভাবে নিয়োজিত করে দেয় যে, জীবিকার চেষ্টায় বেশী অংশগ্রহণ করতে পারে না, তাহলে তার সাথেও উপযোগী পর্যায় পর্যন্ত বিশেষ আচরণ কেবল জায়েযই নয়; বরং সওয়াবের কাজ হবে। অনুরূপভাবে এক ভাইয়ের প্রতি বিশেষ ও প্রাধান্যমূলক আচরণ করাতে অন্য ভাইয়েরা যদি সন্তুষ্ট থাকে, তাহলেও এটা জায়েয হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান