শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১৪. উপহার ও সাদ্কা প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৮২১
উপহার ও সাদ্কা প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়
অধ্যায়: হেবা ও সদকা পর্ব
হেবা প্রত্যাহার প্রসঙ্গ
হেবা প্রত্যাহার প্রসঙ্গ
৫৮২১। ইবরাহীম ইবন মারযূক …. সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব হযরত ইবন আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন : যে ব্যক্তি হেবা করে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ ব্যক্তির মত যে বমি করে (মুখের মধ্যে) ফিরিয়ে নেয়।
আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, এ উলামা-ই কিরাম দ্বারা তাউস ইবন কায়সান, ইকরিমা, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক উদ্দেশ্য।
আলোচনা : আবু জাফর (রাহঃ) বলেন : উলামা-ই কিরামের একটি দল এ মত পোষণ করেন যে, হেবাকারীর জন্য তার হেবা করা বস্তু ফিরিয়ে নেয়া জায়েয নয়। তারা উল্লেখিত হাদীস প্রমান হিসেবে পেশ করেন। তারা বলেন : রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন হেবা করে ফিরিয়ে নেয়াকে বমি করে তা ফিরিয়ে নেয়ার সমতুল্য বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ বমি করে তা পুনরায় (মুখের মধ্যে) ফিরিয়ে নেয় তার জন্য হারাম। সুতরাং হেবা করে তার পুনরায় ফিরিয়ে নেয়াও হারাম হবে।
অপর পক্ষে উলামা-ই কিরামের অন্য একটি দল এর বিপরীত মত পোষন করেন। তারা বলেন, হেবাকারীর জন্য তার হেবা করা মাল পুনরায় ফিরিয়ে নেয়া জায়েয আছে (১) যদি তা অপরিবর্তিত অবস্থায় বহাল থাকে, (২) যদি তা নষ্ট করে ফেলা না হয়ে থাকে, (৩) এবং তার যদি তার মধ্যে কোন বৃদ্ধিও না করা হয়ে থাকে, (৪) যাকে হেবা করা হয়েছে সে তার কোন 'মাহরাম' (রক্ত সম্পর্কিত ঘনিষ্ট আত্নীয়)-ও নয়, (৫) এবং হেবা করার পর সে কোন বিনিময়ও গ্রহণ করে নি। যাকে হেবা করা হয়েছে সে যদি হেবাকারীকে কোন বিনিময় দান করে থাকে এবং হেবাকারী বিনিময় গ্রহন করে থাকে অথবা যাকে হেবা করা হয়েছে সে যদি হেবাকারীর কোন 'মাহরাম' হয়ে থাকে, তবে হেবাকারীর জন্য তার হেবা করা বস্তু ফিরিয়ে নেয়া জায়েয হবে না। আর যদি হেবাকারী হেবাকৃত ব্যক্তির মাহরাম' না হয়, তবে কোন মহিলা তার স্বামীকে কিংবা স্বামী তার স্ত্রীকে হেবা করলে তারা দু'জনই এ ক্ষেত্রে 'মাহরাম'-এর মতই। তাদের কারো পক্ষেই ঐ মাল ফিরিয়ে নেয়া জায়েয নয় যা সে তার সাথীকে হেবা করেছে। আর এ ব্যাপারে তাদের দলীল হলো, রাসূলুল্লাহ ﷺ হেবা করার পর যে ব্যক্তি পুনরায় তা ফিরিয়ে নেয় তাকে তার সমতুল্য করেছেন যে বমি করার পর তা পুনরায় মুখে ফিরিয়ে নেয়। তবে তিনি একথা স্পষ্ট করেননি যে, সে কে, যে তার বমি ফিরিয়ে নেয়? এখানে এ সম্ভাবনা আছে যে, সে হলো ঐ মানুষটি, যে তার নিজের বমি পুনরায় মুখে ফিরিয়ে নেয়। সে ক্ষেত্রে তিনি হেবার মাল যে ব্যক্তি ফিরিয়ে নিল তাকে ঐ ব্যক্তির সমতুল্য সাব্যস্ত করলেন, যে ব্যক্তি হারাম বস্তু ফিরিয়ে নিল। অতএব এ হাদীস দ্বারা যারা প্রথম বক্তব্য পেশ করেছেন, তাদের মত প্রমাণিত হলো।
আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, এ উলামা-ই কিরাম হলেন, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, উমর ইবন আব্দুল আযীয, শুরায়হ আল- কাযী, আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ, হাসান বসরী, আমের আশ-শা'বী, ইমাম আবু হানীফা আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)। অতঃপর তিনি বলেন : এ মত হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব, ফুযালা ইবন উবায়দ ও হযরত আলী ইবন আবী তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত।
আর এ সম্ভাবনা আছে যে, তিনি কুকুরকেই উদ্দেশ্য করেছেন, যে কুকুর বমি করে তার বমি পুনরায় মুখে ফিরিয়ে নেয় অথচ কুকুর তো আর হারাম-হালালের মুকাল্লাফ নয়।
অতএব হাদীসের অর্থ হবে যে ব্যক্তি হেবা করার পর পুনরায় তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঘৃনিত বস্তু ফিরিয়ে নেয়। আর এটা ঐ ঘৃণিত বস্তুর মতই ঘৃণিত, যা কুকুর তার মুখে ফিরিয়ে নেয়। অতএব এ অর্থের প্রেক্ষিতে হেবাকারীর জন্য তার হেবা করা বস্তু ফিরিয়ে নেয়া নিষিদ্ধ হওয়া প্রমানিত হবে না।
অতঃপর আমরা এ ব্যাপারে দৃষ্টি দিয়েছি যে, প্রথম হাদীস দ্বারা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর উদ্দেশ্য কি, তা প্রমাণ করে, এমন কোন হাদীস পাই কিনা। এ প্রচেষ্টার পর আমরা দেখতে পাই যে,
আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, এ উলামা-ই কিরাম দ্বারা তাউস ইবন কায়সান, ইকরিমা, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক উদ্দেশ্য।
আলোচনা : আবু জাফর (রাহঃ) বলেন : উলামা-ই কিরামের একটি দল এ মত পোষণ করেন যে, হেবাকারীর জন্য তার হেবা করা বস্তু ফিরিয়ে নেয়া জায়েয নয়। তারা উল্লেখিত হাদীস প্রমান হিসেবে পেশ করেন। তারা বলেন : রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন হেবা করে ফিরিয়ে নেয়াকে বমি করে তা ফিরিয়ে নেয়ার সমতুল্য বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ বমি করে তা পুনরায় (মুখের মধ্যে) ফিরিয়ে নেয় তার জন্য হারাম। সুতরাং হেবা করে তার পুনরায় ফিরিয়ে নেয়াও হারাম হবে।
অপর পক্ষে উলামা-ই কিরামের অন্য একটি দল এর বিপরীত মত পোষন করেন। তারা বলেন, হেবাকারীর জন্য তার হেবা করা মাল পুনরায় ফিরিয়ে নেয়া জায়েয আছে (১) যদি তা অপরিবর্তিত অবস্থায় বহাল থাকে, (২) যদি তা নষ্ট করে ফেলা না হয়ে থাকে, (৩) এবং তার যদি তার মধ্যে কোন বৃদ্ধিও না করা হয়ে থাকে, (৪) যাকে হেবা করা হয়েছে সে তার কোন 'মাহরাম' (রক্ত সম্পর্কিত ঘনিষ্ট আত্নীয়)-ও নয়, (৫) এবং হেবা করার পর সে কোন বিনিময়ও গ্রহণ করে নি। যাকে হেবা করা হয়েছে সে যদি হেবাকারীকে কোন বিনিময় দান করে থাকে এবং হেবাকারী বিনিময় গ্রহন করে থাকে অথবা যাকে হেবা করা হয়েছে সে যদি হেবাকারীর কোন 'মাহরাম' হয়ে থাকে, তবে হেবাকারীর জন্য তার হেবা করা বস্তু ফিরিয়ে নেয়া জায়েয হবে না। আর যদি হেবাকারী হেবাকৃত ব্যক্তির মাহরাম' না হয়, তবে কোন মহিলা তার স্বামীকে কিংবা স্বামী তার স্ত্রীকে হেবা করলে তারা দু'জনই এ ক্ষেত্রে 'মাহরাম'-এর মতই। তাদের কারো পক্ষেই ঐ মাল ফিরিয়ে নেয়া জায়েয নয় যা সে তার সাথীকে হেবা করেছে। আর এ ব্যাপারে তাদের দলীল হলো, রাসূলুল্লাহ ﷺ হেবা করার পর যে ব্যক্তি পুনরায় তা ফিরিয়ে নেয় তাকে তার সমতুল্য করেছেন যে বমি করার পর তা পুনরায় মুখে ফিরিয়ে নেয়। তবে তিনি একথা স্পষ্ট করেননি যে, সে কে, যে তার বমি ফিরিয়ে নেয়? এখানে এ সম্ভাবনা আছে যে, সে হলো ঐ মানুষটি, যে তার নিজের বমি পুনরায় মুখে ফিরিয়ে নেয়। সে ক্ষেত্রে তিনি হেবার মাল যে ব্যক্তি ফিরিয়ে নিল তাকে ঐ ব্যক্তির সমতুল্য সাব্যস্ত করলেন, যে ব্যক্তি হারাম বস্তু ফিরিয়ে নিল। অতএব এ হাদীস দ্বারা যারা প্রথম বক্তব্য পেশ করেছেন, তাদের মত প্রমাণিত হলো।
আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, এ উলামা-ই কিরাম হলেন, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, উমর ইবন আব্দুল আযীয, শুরায়হ আল- কাযী, আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ, হাসান বসরী, আমের আশ-শা'বী, ইমাম আবু হানীফা আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)। অতঃপর তিনি বলেন : এ মত হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব, ফুযালা ইবন উবায়দ ও হযরত আলী ইবন আবী তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত।
আর এ সম্ভাবনা আছে যে, তিনি কুকুরকেই উদ্দেশ্য করেছেন, যে কুকুর বমি করে তার বমি পুনরায় মুখে ফিরিয়ে নেয় অথচ কুকুর তো আর হারাম-হালালের মুকাল্লাফ নয়।
অতএব হাদীসের অর্থ হবে যে ব্যক্তি হেবা করার পর পুনরায় তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঘৃনিত বস্তু ফিরিয়ে নেয়। আর এটা ঐ ঘৃণিত বস্তুর মতই ঘৃণিত, যা কুকুর তার মুখে ফিরিয়ে নেয়। অতএব এ অর্থের প্রেক্ষিতে হেবাকারীর জন্য তার হেবা করা বস্তু ফিরিয়ে নেয়া নিষিদ্ধ হওয়া প্রমানিত হবে না।
অতঃপর আমরা এ ব্যাপারে দৃষ্টি দিয়েছি যে, প্রথম হাদীস দ্বারা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর উদ্দেশ্য কি, তা প্রমাণ করে, এমন কোন হাদীস পাই কিনা। এ প্রচেষ্টার পর আমরা দেখতে পাই যে,
كتاب الهبة والصدقة
كِتَابُ الْهِبَةِ وَالصَّدَقَةِ بَابُ الرُّجُوعِ فِي الْهِبَةِ
5821 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ قَالَ: ثنا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ , قَالَ: ثنا شُعْبَةُ وَهِشَامٌ عَنْ قَتَادَةَ , عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ , عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْعَائِدُ فِي هِبَتِهِ , كَالْعَائِدِ فِي قَيْئِهِ» قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى أَنَّ الْوَاهِبَ لَيْسَ لَهُ أَنْ يَرْجِعَ فِيمَا وَهَبَ وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِهَذَا الْحَدِيثِ. وَقَالُوا: لَمَّا كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ جَعَلَ الرُّجُوعَ فِي الْهِبَةِ كَالرُّجُوعِ فِي الْقَيْءِ وَكَانَ رُجُوعُ الرَّجُلِ فِي قَيْئِهِ حَرَامًا عَلَيْهِ كَانَ كَذَلِكَ رُجُوعُهُ فِي هِبَتِهِ. وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ فَقَالُوا: لِلْوَاهِبِ أَنْ يَرْجِعَ فِي هِبَتِهِ إِذَا كَانَتْ قَائِمَةً عَلَى حَالِهَا لَمْ تُسْتَهْلَكْ وَلَمْ يَزِدْ فِي بَدَنِهَا بَعْدَ أَنْ يَكُونَ الْمَوْهُوبُ لَهُ لَيْسَ بِذِي رَحِمٍ مَحْرَمٍ مِنَ الْوَاهِبِ وَبَعْدَ أَنْ يَكُونَ لَمْ يُثِبْهُ أَيْ: لَمْ يُعْطِهِ مِنْهَا ثَوَابًا. فَإِنْ كَانَ أَثَابَهُ مِنْهَا ثَوَابًا وَقَبِلَ ذَلِكَ الثَّوَابَ مِنْهُ أَوْ كَانَ الْمَوْهُوبُ لَهُ ذَا رَحِمٍ مَحْرَمٍ مِنَ الْوَاهِبِ فَلَيْسَ لِلْوَاهِبِ أَنْ يَرْجِعَ فِيهَا. فَإِنْ لَمْ يَكُنِ الْوَاهِبُ ذَا رَحِمٍ مَحْرَمٍ لِلْمَوْهُوبِ لَهُ وَلَكِنَّهَا امْرَأَةٌ وَهَبَتْ لِزَوْجِهَا أَوْ زَوْجٌ وَهَبَ لِامْرَأَتِهِ فَهُمَا فِي ذَلِكَ كَذِي الرَّحِمِ الْمَحْرَمِ وَلَيْسَ لِوَاحِدٍ مِنْهُمَا أَنْ يَرْجِعَ فِيمَا وَهَبَ لِصَاحِبِهِ. وَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ لَهُمْ فِي ذَلِكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَعَلَ الْعَائِدَ فِي هِبَتِهِ وَلَمْ يُبَيِّنْ لَنَا مَنِ الْعَائِدُ فِي قَيْئِهِ. فَقَدْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ أَرَادَ الرَّجُلَ الْعَائِدَ فِي قَيْئِهِ فَيَكُونَ قَدْ جَعَلَ الْعَائِدَ فِي هِبَتِهِ كَالْعَائِدِ فِيمَا هُوَ حَرَامٌ عَلَيْهِ. فَثَبَتَ بِذَلِكَ مَا قَالَ أَهْلُ الْمَقَالَةِ الْأُولَى. [ص:78] وَقَدْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ أَرَادَ الْكَلْبَ الْعَائِدَ فِي قَيْئِهِ وَالْكَلْبُ غَيْرُ مُتَعَبِّدٍ بِتَحْرِيمٍ وَلَا تَحْلِيلٍ فَيَكُونُ الْعَائِدُ فِي قَيْئِهِ عَائِدًا فِي قَذَرٍ كَالْقَذَرِ الَّذِي يَعُودُ فِيهِ الْكَلْبُ فَلَا يَثْبُتُ بِذَلِكَ مَنْعُ الْوَاهِبِ مِنَ الرُّجُوعِ فِي الْهِبَةِ. فَنَظَرْنَا فِي ذَلِكَ هَلْ نَجِدُ فِي الْآثَارِ مَا يَدُلُّنَا عَلَى مُرَادِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ مَا هُوَ؟