শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৬৮১
আন্তর্জাতিক নং: ৫৬৮২
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
১১. মক্কার জমীন বিক্রয় করা ও ভাড়া দেয়া
৫৬৮১-৮২। ইউনুস বলেন, .... আমর ইবন উসমান হযরত উসামা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) আপনি মক্কায় আপনার বাড়ীর কোন্ স্থানে অবস্থান করবেন? জবাবে তিনি বললেন, আক্বীল কি আর আমাদের জন্য কোন বাড়ী অবশিষ্ট রেখেছে।” বস্তুতঃ আক্বীল ও তা-লিব আবু তালিবের ওয়ারিস হয়েছিল। হযরত জাফর ও আলী (রাযিঃ) তার ওয়ারিস হননি। কারণ তারা দু'জনই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আর আক্বীল ও তা-লিব ছিল কাফির। আর এ কারণেই হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলতেন, কোন মু'মিন কোন কাফিরের ওয়ারিস হবেনা।

বাহর ইবন নসর বলেন, ইবন ওয়াহব তাঁর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আবু জা'ফর (রাহঃ) বলেনঃ এ হাদীস প্রমাণ করে যে, মক্কার যমীনে মালিকানা অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তার উত্তরাধিকারও জারী হবে। কারণ, এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, আবু তালিব সেখানে যে বাড়ীঘর রেখে গিয়েছিলেন, আক্বীল ও তালিব তার ওয়ারিস হয়েছিল। অতএব এ হাদীস প্রথম হাদীসের বিপরীত বিষয় প্রমাণ করে । আর দু'হাদীস যখন আপাত বিরোধপূর্ণ হলো তখন যুক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন দেখা দেবে, যেন আমরা সঠিক মত বের করতে পারি।
দু' হাদীসের সনদের প্রতি যদি দৃষ্টিপাত করা হয় তবে আলী ইবন হুসাইন (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস অধিক বিশুদ্ধ প্রমাণিত হবে। কিন্তু যুক্তির নিরীখে আমরা সঠিক মতটি উন্মুক্ত করার মুখাপেক্ষী হয়েছি। আমরা 'মাসজিদুল হারাম' কে দেখেছি, সেখানে সমস্ত লোকই সমান। সেখানে কোন ব্যক্তির পক্ষে ঘর নির্মাণ করা জায়িয নেই এবং তার কোন একটি স্থান প্রাচীর ঘিরে দখল করারও কারো অধিকার নেই। অনুরূপ সে সব স্থানের হুকুমও তাই, যেখানে সমস্ত লোকের সমান অধিকার। কারোর কোন মালিকানাসত্ব প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনা। দেখুন না, আরাফার ময়দান, যেখানে মানুষ (হজ্জের সময়) অবস্থান করে, সেখানে যদি কেউ ঘর নির্মাণ করতে চায় তবে তার সে অধিকার নেই। অনুরূপভাবে যদি কেউ মিনায় কোন বাড়ি করতে চায় তবে তাও তাঁর জন্য নিষিদ্ধ। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে বর্ণিত হয়েছেঃ
كتاب البيوع و الصرف
5681 - بِمَا حَدَّثَنَا يُونُسُ , قَالَ: ثنا وَهْبٌ , قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ , عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ حُسَيْنٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَمْرَو بْنَ عُثْمَانَ أَخْبَرَهُ , عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ , أَتَنْزِلُ فِي دَارِكَ بِمَكَّةَ؟ . فَقَالَ: «وَهَلْ تَرَكَ لَنَا عَقِيلٌ مِنْ رِبَاعٍ أَوْ دُورٍ؟» . وَكَانَ عَقِيلٌ وَرِثَ أَبَا طَالِبٍ , هُوَ وَطَالِبٌ , وَلَمْ يَرِثْهُ جَعْفَرٌ , وَلَا عَلِيٌّ , لِأَنَّهُمَا كَانَا مُسْلِمَيْنِ , وَكَانَ عَقِيلٌ وَطَالِبٌ , كَافِرَيْنِ. وَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ يَقُولُ «لَا يَرِثُ الْمُؤْمِنُ الْكَافِرَ» [ص:50]

5682 - حَدَّثَنَا بَحْرُ بْنُ نَصْرٍ قَالَ: ثنا ابْنُ وَهْبٍ , فَذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَفِي هَذَا الْحَدِيثِ , مَا يَدُلُّ أَنَّ أَرْضَ مَكَّةَ تُمْلَكُ , وَتُورَثُ , لِأَنَّهُ قَدْ ذَكَرَ فِيهَا مِيرَاثَ عَقِيلٍ وَطَالِبٍ , لَمَّا تَرَكَهُ أَبُو طَالِبٍ فِيهَا مِنْ رِبَاعٍ وَدُورٍ , فَهَذَا خِلَافُ الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ. وَلَمَّا اخْتَلَفَا , احْتِيجَ إِلَى النَّظَرِ فِي ذَلِكَ , لِنَسْتَخْرِجَ مِنَ الْقَوْلَيْنِ , قَوْلًا صَحِيحًا. وَلَوْ صَارَ إِلَى طَرِيقِ اخْتِيَارِ الْأَسَانِيدِ , وَصَرَفَ الْقَوْلَ إِلَى ذَلِكَ , لَكَانَ حَدِيثُ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ أَصَحَّهُمَا إِسْنَادًا. وَلَكِنَّا نَحْتَاجُ إِلَى كَشْفِ ذَلِكَ مِنْ طَرِيقِ النَّظَرِ , فَاعْتَبَرْنَا ذَلِكَ , فَرَأَيْنَا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ , الَّذِي كُلُّ النَّاسِ فِيهِ سَوَاءٌ , لَا يَجُوزُ لِأَحَدٍ أَنْ يَبْنِيَ فِيهِ بِنَاءً , وَلَا يَحْتَجِرَ مِنْهُ مَوْضِعًا , وَكَذَلِكَ حُكْمُ جَمِيعِ الْمَوَاضِعِ الَّتِي لَا يَقَعُ لِأَحَدٍ فِيهَا مِلْكٌ , وَجَمِيعُ النَّاسِ فِيهَا سَوَاءٌ. أَلَا تَرَى أَنَّ «عَرَفَةَ» لَوْ أَرَادَ رَجُلٌ أَنْ يَبْنِيَ فِي الْمَكَانِ الَّذِي يَقِفُ فِيهِ النَّاسُ فِيهَا بِنَاءً لَمْ يَكُنْ ذَلِكَ لَهُ. وَكَذَلِكَ " مِنًى لَوْ أَرَادَ أَنْ يَبْنِيَ فِيهَا دَارًا , كَانَ مِنْ ذَلِكَ مَمْنُوعًا , وَكَذَلِكَ جَاءَ الْأَثَرُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান