শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৬৬২
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
১০. যে বিক্রয়ে এমন শর্ত আরোপ করা হয়, যা তার অংশ নয়
৫৬৬২। আলী ইবন আব্দির রহমান বলেন, ..... কাসেম ইবন মুহাম্মাদ হযরত আয়েশা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, বারীরা (রাযিঃ) তাঁর নিকট তাঁর ‘কিতাবাত চুক্তির অর্থ' আদায়ের ব্যাপারে সাহায্য প্রার্থনার জন্য আগমন করলেন। তখন হযরত আয়েশা (রাযিঃ) তাকে বললেন, তোমার মনীবরা ইচ্ছা করলে আমি একবারই সব মূল্য পরিশোধ করে তোমাকে ক্রয় করব। হযরত বারীরা (রাযিঃ) তার মনীবদের নিকট গিয়ে তাদেরকে একথা বললে তাকে তারা বিক্রয় করতে অস্বীকার করল, তবে হ্যাঁ, তার 'ওয়ালা' তাদের হলে তারা রাজী। হযরত আয়েশা (রাযিঃ) একথা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট আলোচনা করলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে বললেন, তুমি তাকে ক্রয় কর, তারা যা বলেছে, তা তোমার কোন ক্ষতির কারণ নয়। 'ওয়ালা' তো তারই হবে, যে তাকে আযাদ করবে।
“শর্ত বাতিল” একথা যারা বলেন, তাদের বক্তব‍্য হলো, হযরত বারীরা (রাযিঃ)-এর মনীবরা যখন 'ওয়ালা'-এর শর্ত আরোপ করলো তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হযরত আয়েশা (রাযিঃ)-কে বললেন, “তাদের এ শর্ত তোমার কোন ক্ষতি করবেনা। কারণ 'ওয়ালা' তো পাবে সে-ই, যে তাকে আযাদ করবে।" এ হাদীস একথাই প্রমাণ করে যে, এ ধরনের অন্যায় যেসব শর্ত ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে করা হবে, তা সবই বাতিল হবে এবং ক্রয়-বিক্রয় সঠিক হবে।
যারা এমত পোষণ করেন, তাদের বিরুদ্ধে দলীল এই যে, হাদীসগুলি উল্লেখ করা হয়েছে, তা তো এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত আয়েশা (রাযিঃ) হযরত বারীরা (রাযিঃ)-কে আযাদ করার উদ্দেশ্যে ক্রয় করতে চেয়েছিলেন । কিন্তু তাঁর মনীবরা তাদের জন্য ‘ওয়ালা' না হলে বিক্রয় করতে অস্বীকার করে। অথচ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ এর বিপরীত বর্ণনা করেনঃ
كتاب البيوع و الصرف
5662 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: ثنا الْقَعْنَبِيُّ، قَالَ: ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ بَرِيرَةَ، جَاءَتْ تَسْتَعِينُهَا فِي كِتَابَتِهَا فَقَالَتْ عَائِشَةُ: إِنْ شَاءَ أَهْلُكِ اشْتَرَيْتُكِ , وَنَقَدْتُهُمْ ثَمَنَكِ صَبَّةً وَاحِدَةً. فَذَهَبَتْ إِلَى أَهْلِهَا , فَقَالَتْ لَهُمْ ذَلِكَ , فَأَبَوْا إِلَّا أَنْ يَكُونَ الْوَلَاءُ لَهُمْ. فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «اشْتَرِيهَا , وَلَا يَضُرُّكِ مَا قَالُوا , فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» قَالُوا: فَلَمَّا كَانَ أَهْلُ بَرِيرَةَ أَرَادُوا بَيْعَهَا عَلَى أَنْ تُعْتَقَ , وَيَكُونَ وَلَاؤُهَا لَهُمْ , فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: «لَا يَضُرُّكِ ذَلِكَ , فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» دَلَّ ذَلِكَ أَنَّ هَكَذَا الشُّرُوطُ كُلُّهَا , الَّتِي تُشْتَرَطُ فِي الْبُيُوعِ , وَأَنَّهَا تَبْطُلُ , وَتَثْبُتُ الْبُيُوعُ. فَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ عَلَيْهِمْ أَنَّ هَذِهِ الْآثَارَ هَكَذَا رُوِيَتْ أَنَّهَا أَرَادَتْ أَنْ تَشْتَرِيَهَا فَتُعْتِقَهَا , فَأَبَى أَهْلُهَا إِلَّا أَنْ يَكُونَ وَلَاؤُهَا لَهُمْ. وَقَدْ رَوَاهَا آخَرُونَ عَلَى خِلَافِ ذَلِكَ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান