শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৫৩৮
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
৪. প্রসঙ্গ ক্রেতা-বিক্রেতার ইখতিয়ার যাবত না তারা প্রথক হয়
৫৫৩৮। ইবন মারযূক বলেন, আরিম.......... হযরত ইবন উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত।তিনি বলেন, রাসূরলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ক্রেতা ও বিক্রেতা ইখতিয়ারের অধিকারী হবে, যাবত না তারা পৃথক হবে। অথবা তাদের একজন তার সাথীকে বলবে, তুমি (এখনই সিদ্ধান্ত) গ্রহন কর। আবার কখনও তিনি বলেছেন, কিন্তু যদি খিয়ারে শর্ত থাকে (তবে ক্রয-বিক্রয় সংঘটিত হবে না।)
كتاب البيوع و الصرف
5538 - حَدَّثَنَا ابْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ: ثنا عَارِمٌ، قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ: ثنا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ , مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا قَالَ: أَوْ يَقُولُ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: اخْتَرْ وَرُبَّمَا قَالَ أَوْ يَكُونُ بَيْعَ خِيَارٍ "

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উদ্দেশ্য এই যে, যদি কোন পক্ষ হতেই ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করার শর্তযুক্ত না করা হয় তবে ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করার ক্ষমতা কেবল তখন পর্যন্ত থাকে যতক্ষণ উভয় পক্ষ পৃথক না হয়।

ইমাম শাফিঈ ও তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণকারী উলামা আলোচ্য হাদীসের শব্দ مَا لَمْ يَتَفَرَّقا দ্বারা খিয়ারে মজলিস বুঝেছেন। আর ইমাম আবু হানীফা (র) প্রমুখের নিকট এর অর্থ হচ্ছে- যতক্ষণ পর্যন্ত কথাবার্তা সম্পূর্ণ শেষ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যেক পক্ষের ক্ষমতা রয়েছে অগ্রিম ফিরিয়ে নেবে। এরপর বাতিল করার কারো ক্ষমতা থাকবে না। তিনি «يَتَفَرَّقًا» শব্দ দ্বারা বিক্রয়স্থল থেকে পৃথক হওয়া নয় বরং লেনদেন ও কথাবার্তা থেকে পৃথক হওয়া ও সরে যাওয়া বুঝেছেন। যেমন কুরআন মজীদে এ শব্দই অনুরূপ অর্থে وَإِنْ يَتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلًّا مِنْ سَعَتِهِ তালাকের বিষয়ে ব্যবহৃত করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান