শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৫১৫
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
৩. আমদানি মাল ধরা
৫৫১৫। আলী ইবনে আব্দিল্লাহ বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে বকর আস্সাহামী, ..... হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন, তােমরা আমদানি করা মাল (পথেই) ধরে ফেলাে না। কেউ যদি পথে ধরে ফেলে তাহতে কিছু ক্রয় করে তাহলে বিক্রেতা যখন বাজারে আগমন করবে, তখন তার ইখতিয়ার থাকবে।
كتاب البيوع و الصرف
5515 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ , قَالَ: ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ قَالَ: ثنا هِشَامٌ , عَنْ مُحَمَّدٍ , عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «لَا تَلَقَّوْا الْجَلَبَ , فَمَنْ تَلَقَّاهُ فَاشْتَرَى مِنْهُ شَيْئًا , فَهُوَ بِالْخِيَارِ إِذَا أَتَى بِالسُّوقِ»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে এরূপও হত যে, লোকজন খাদ্যশস্য ইত্যাদি প্রয়োজনীয় দ্রব্য বাইরে থেকে এনে শহরের বাজারগুলোতে বিক্রি করত আর তা ছোট বড় কাফেলায় বিভক্ত হয়ে আসত। (এই ব্যবসায়ী কাফেলাগুলোকে جَلَبْ বলা হত।) চতুর ব্যবসায়ীগণ এরূপ করত যে, বাজার ও আড়তে পৌঁছার বহু পূর্বে, পথেই তাদের নিকট পৌঁছে মাল সওদা করে নিত। তাতে একথার প্রবল সম্ভাবনা থাকত যে, বাজারের মূল্য না জানার কারণে বাইরে থেকে মাল বহনকারী এসব ব্যবসায়ীদের নিকট সুলভ মূল্যে বিক্রি করে দিত; ফলে এতে সে ক্ষতিগ্রস্ত হত। এ ছাড়া এ পন্থায় অন্য এক বড় অনিষ্ট এই ছিল যে, বাইরে থেকে আগত সমুদয় খাদ্যশস্য ও অন্যান্য দ্রব্য এসব চালাক পুঁজিপতি ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যেত। এরপর তারা এইগুলো সাধারণ ভোক্তাদের নিকট স্বনির্ধারিত দামে বিক্রি করে সর্বাধিক মুনাফা অর্জন করত।

যদি মাল বাজারে এসে বিক্রি হত, তবে বহনকারীও ন্যায্য মূল্যে পেত। প্রয়োজনশীল সাধারণ লোকও ন্যায্য মূল্যে ক্রয় করতে সক্ষম হত। এ জন্যে রাসুলুল্লাহ ﷺ আলোচ্য হাদীসে নির্দেশ প্রদান করেন যে, খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদি বহনকারীর সাথে বাজারে পৌঁছার পূর্বে পথে এসে মাল ক্রয় করা হবে না। আর যদি কেউ এভাবে কোন প্রণ্য ক্রয় করে তবে মাল বহনকারী যদি পৌঁছে অনুভব করে যে, বাজার মূল্য না জানার কারণে তার ক্ষতি হয়েছে তবে সে বেচা-কেনা বাতিল করার অধিকার রাখে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান