শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১২. জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত

হাদীস নং: ৫৪৬৯
জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত
২০. অধ্যায়ঃ রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কর্তৃক মক্কা বলপূর্বক বিজয় করার প্রমাণ
৫৪৬৯। ফাহাদ ইবনে সুলায়মান (রাহঃ) ..... আবু শুরায়হ আল-খুযাই (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনার গভর্ণর আমর ইবনে সাঈদ যখন আব্দুল্লাহ্ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ)-এর বিরুদ্ধে মক্কা অভিমুখে সৈন্য বাহিনী প্রেরণ করছিল তখন আবু শুরায়হ (রাযিঃ) তার কাছে এসে যা কিছু রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে শুনেছেন বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি তার কাওমের এক মজলিসের দিকে বেরিয়ে গেলেন এবং সেখানে বসে পড়েন। (আবু শুরায়হ রাঃ বলেন) আমিও উঠে তার কাছে গেলাম এবং তার কাছে বসে পড়লাম। তাকে তিনি সেই হাদীস বর্ণনা করেন যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে রিওয়ায়াত করে আমর ইবনে সাঈদ (রাযিঃ) কে বর্ণনা করেছিলেন এবং আমর ইবনে সাঈদ (রাযিঃ) যা কিছু বলেছেন তাও বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি তাকে বললাম, যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মক্কা বিজয় করেছেন তখন আমরা তার সঙ্গে ছিলাম। মক্কা বিজয়ের পর দিন খােযা'আ গােত্র কবীলা হুযায়ল-এর এক ব্যক্তির উপর অবিচার করে, তারা তাকে মক্কাতে হত্যা করে এবং সে মুশরিক ছিলাে। বলেন, অনন্তর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে খুতবা (ভাষণ) দিতে দাঁড়ালেন। তিনি ﷺ (তার ভাষণে) বললেনঃ হে লােক সকল! অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা ঐ দিন মক্কাকে হারাম করেছেন, যেই দিন আসমানসমূহ ও যমীনকে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং এটা কিয়ামত পর্যন্তের জন্য হারাম। এরূপ ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহ্ তা'আলা ও আখিরাত দিবসের উপর ঈমান রাখে তার জন্য হালাল নয় এখানে রক্ত প্রবাহিত করা। এখানকার কোন বৃক্ষ কর্তন করা। আমার পূর্বে এটা কারাে জন্য হালাল ছিলাে না এবং না আমার পরে কারাে জন্য হালাল হবে। আর আমার জন্যও শুধু (দিনের) এই কিছুক্ষণের জন্য আল্লাহর গযবের বহিঃপ্রকাশের নিমিত্ত হালাল হয়েছে। শােন! এর পর এর হারাম হওয়ার বিধান প্রত্যর্পিত হয়েছে। শােন! যে ব্যক্তি তােমাদেরকে বলবে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তা হালাল সাব্যস্ত করেছেন, তাকে বলে দিবে, আল্লাহ্ তা'আলা কেবল তার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্যই তা হালাল সাব্যস্ত করেছেন, তােমাদের জন্য হালাল করেননি। হে খােযাআ'র দল! তােমাদের হাতকে বিরত রাখ । তােমরা এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছ। আমি অবশ্যই তার দিয়াত রক্তপণ পরিশােধ করব। এর পরে যে ব্যক্তি এখানে হত্যা করবে তবে তার (নিহতের ওয়ারিছদের) জন্য দুই বস্তু থেকে একটি ইখতিয়ার লাভ হবে। হয়ত (কিসাস হিসাবে) হত্যাকারীর রক্ত প্রবাহিত করবে, নয়ত দিয়াত বা রক্তপণ উসূল করবে। তিনি (আবু সাঈদ র) বলেন, হে শায়খ! এর হারাম হওয়া আপনার চেয়ে অধিক কে অবহিত। ওটা (মক্কা) হত্যাকারী, হুরমতের বিঘ্নকারী ও বিদ্রোহী (এর হত্যা) থেকে বাধা প্রদান করে না। (আবু শুরায়হ রাঃ) বলেন, আমি বললাম যে, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম এবং তুমি অনুপস্থিত ছিলে। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমাদের উপস্থিত জন (একথা) অনুপস্থিত জনকে পৌঁছে দিবে। আমি অবশ্যই তােমাকে পৌঁছে দিয়েছি।
كتاب السير
5469 - حَدَّثَنَا فَهْدُ بْنُ سُلَيْمَانَ , قَالَ: ثنا يُوسُفُ بْنُ بُهْلُولٍ , قَالَ: ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ إِدْرِيسَ , عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ , قَالَ: وَحَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ , عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيِّ , قَالَ: لَمَّا بَعَثَ عَمْرُو بْنُ سَعِيدٍ الْبَعْثَ إِلَى مَكَّةَ لِغَزْوِ ابْنِ الزُّبَيْرِ أَتَاهُ أَبُو شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيُّ فَكَلَّمَهُ بِمَا سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى نَادِي قَوْمِهِ فَجَلَسَ فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَجَلَسْتُ مَعَهُ فَحَدَّثَ عَمَّا حَدَّثَ عَمْرُو بْنُ سَعِيدٍ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَمَّا جَاءَ بِهِ عَمْرُو بْنُ سَعِيدٍ , قَالَ: قُلْتُ لَهُ: " إِنَّا كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ افْتَتَحَ مَكَّةَ فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ مِنْ يَوْمِ الْفَتْحِ عَدَتْ خُزَاعَةُ عَلَى رَجُلٍ مِنْ هُذَيْلٍ فَقَتَلُوهُ بِمَكَّةَ وَهُوَ مُشْرِكٌ , قَالَ: فَقَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِينَا خَطِيبًا فَقَالَ: " أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللهَ حَرَّمَ مَكَّةَ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ , وَالْأَرْضَ فَهِيَ حَرَامٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ يُؤْمِنُ بِاللهِ , وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ يَسْفِكَ بِهَا دَمًا وَلَا يَعْضِدَ بِهَا شَجَرًا لَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ كَانَ قَبْلِي وَلَا تَحِلُّ لِأَحَدٍ بَعْدِي وَلَمْ تَحِلَّ لِي إِلَّا هَذِهِ السَّاعَةَ غَضَبًا أَلَا ثُمَّ عَادَتْ كَحُرْمَتِهَا أَلَا فَمَنْ قَالَ لَكُمْ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَحَلَّهَا فَقُولُوا: إِنَّ اللهَ قَدْ أَحَلَّهَا لِرَسُولِهِ وَلَمْ يُحِلَّهَا لَكَ , يَا مَعْشَرَ خُزَاعَةَ كُفُّوا أَيْدِيَكُمْ فَقَدْ قَتَلْتُمْ قَتِيلًا لَأَدِيَنَّهُ فَمَنْ قُتِلَ بَعْدَ مَقَامِي هَذَا فَهُوَ بِخَيْرِ نَظَرَيْنِ إِنْ أَحَبَّ فَدَمُ قَاتِلِهِ وَإِنْ أَحَبَّ فَعَقْلُهُ " قَالَ: انْصَرِفْ أَيُّهَا الشَّيْخُ فَنَحْنُ أَعْلَمُ بِحُرْمَتِهَا مِنْكَ إِنَّهَا لَا تَمْنَعُ سَافِكَ دَمٍ وَلَا مَانِعَ حُرْمَةٍ لَا خَالِعَ طَاعَةٍ , قَالَ: قُلْتُ قَدْ كُنْتُ شَاهِدًا وَكُنْتَ غَائِبًا وَقَدْ أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُبَلِّغَ شَاهِدُنَا غَائِبَنَا قَدْ أَبْلَغْتُكَ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ইসলামের প্রথম শতাব্দীতেই রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষী ও ক্ষমতালোভীরা ইসলামের সাথে যে আচরণ করেছে এবং এর বিধানাবলীকে যেভাবে ভেঙ্গে মুচড়ে দিয়েছে, এটা ইসলামের ইতিহাসের এক বিরাট পীড়াদায়ক অধ্যায়। আবূ শুরাইহ্ আদাভী যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী ছিলেন-তিনি উমাইয়া শাসক আমর ইবনে সাঈদের সামনে হক কথা বলে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী শুনিয়ে দিয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। বুখারী ও মুসলিমের এ রেওয়ায়াতে এটা উল্লেখ করা হয়নি যে, আমর ইবনে সাঈদ যে কথা বলেছিল, এর প্রতিউত্তরে আবূ শুরাইহ্ রাযি. কিছু বলেছিলেন কিনা। কিন্তু মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি বলেছিলেন,
قَدْ كُنْتُ شَاهِدًا، وَكُنْتَ غَائِبًا وَقَدْ أَمَرَنَا أَنْ يُبَلِّغَ شَاهِدُنَا غَائِبَنَا، وَقَدْ بَلَّغْتُكَ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ কথা বলেছিলেন, তখন আমি উপস্থিত ছিলাম, আর তুমি উপস্থিত ছিলে না। আর তিনি আমাদেরকে এ নির্দেশও দিয়েছিলেন যে, আমাদের উপস্থিতরা যেন অনুপস্থিতদেরকে এ কথাগুলো পৌঁছে দেয়। তাই আমি তোমাকে এ কথা পৌঁছে দিলাম।

আবূ শুরাইহ আদাভী রাযি.-এর এ উত্তরের মধ্যে এ বিষয়টিও লুকায়িত রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বক্তব্যের উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় বুঝার অধিক হকদার তারাই, যাদের সামনে তিনি একথা বলেছিলেন এবং যারা ঐ সময় তাঁর এ কথা শুনেছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান