শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১২. জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত
হাদীস নং: ৫৪৫৬
জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত
২০. অধ্যায়ঃ রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কর্তৃক মক্কা বলপূর্বক বিজয় করার প্রমাণ
৫৪৫৬। ফাহাদ ইবনে সুলায়মান (রাহঃ) ..... ইবনে ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব যুহরী (রাহঃ) প্রমুখ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হুদায়বিয়ার বছর কুরায়শের সঙ্গে এ মর্মে সন্ধি করেছেন যে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অঙ্গীকারে প্রবেশ করতে ইচ্ছা করে সে যেন তাতে প্রবেশ করে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কুরায়শের অঙ্গীকারে প্রবেশ করতে চায় সে যেন তাতে প্রবেশে করে। সুতরাং খােযা'আ ও বানূ কা'ব ইত্যাদি গোত্র ঝাপিয়ে পড়ল এবং তাদের সঙ্গে অন্য কিছু লােক তারা বলল, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অঙ্গীকারে প্রবেশ করেছি। অপর পক্ষে বানূ বকর তাড়াতাড়ি করে বলল, আমরা কুরায়শের অঙ্গীকারে প্রবেশ করছি। কুরায়শরা এক বছরের কিছু বেশী এই ওয়াদার উপর বহাল ছিলাে। অতঃপর বানূ বকর মক্কার নিচ দিক দিয়ে খােযা'আ গােত্রের মাল লুট করে নিলাে। যুবাইর (রাযিঃ) তাকে বললেন, ওই সময়ই (রাতে) তাদের উপর আক্রমণ কর এবং তারা তাদের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। আর কাওম সম্মুখে অগ্রসর হলাে এবং তারা পরস্পরে যুদ্ধ করল। কুরায়শরা বানূ বকরকে অস্ত্র দ্বারা সাহায্য করল এবং গােপনে তাদের সঙ্গে তীর দিয়ে লড়াই করল। অবশেষে তারা হারামের দিকে খােযা'আ কবীলা অপেক্ষা সম্মুখে অগ্রসর হয়ে গেলাে। সেই দিন বানূ বকরের নেতৃত্ব নওফল ইবনে মুআবিয়া'র হাতে ছিলাে। যখন তারা হারামে পৌছাল, বানূ বকর বলল, হে নওফল! ধ্বংস, ধ্বংস। অবশ্যই আমরা হারামে প্রবেশ করে ফেলেছি। তখন সে একটি গুরুতর কথা বলল যে, আজ এর কোন মা'বুদ নেই, হে বানূ বকর! তােমরা নিজেদের বদলা নাও। খােযা'আ কবীলা ইসলামের পূর্বে তিন ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলাে এবং তারা যুদ্ধ থেকে আলাদা ছিলাে। (তাদের নাম ছিলাে এইঃ) দুওয়াইব, কুলসূম ও সুলায়মান ইবনে আসওয়াদ ইবনে যুরাইক ইবনে ইয়া'মুর। আমার বয়সের কসম, হে বানূ বকর! তােমরা হারামে পৌঁছে গিয়েছ, তােমরা কি এতে তােমাদের বদলা নিবেনা। রাবী বলেন, তারা রাতে তাদের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলাে। তারা ওয়াতীর নামক জায়গায় তাদের বিরুদ্ধে রাতে অতর্কিত আক্রমণ করল। তার সঙ্গে তার কাওমের এক ব্যক্তি ছিলাে, যাকে ‘মুনইয়া’ বলা হত, সে একা ছিলাে। সে এবং তামীম বের হল। মুনইয়া বলল, হে তামীম! তুমি তােমার জীবনের প্রতি সদয় হও। আল্লাহর কসম, আমি তাে মরেই গিয়েছি, তারা আমাকে হত্যা করুক অথবা না করুক। তামীম চলল এবং সে মুনইয়াকে এই অবস্থায় পেল যে, লােকেরা তাকে হত্যা করে ফেলেছিলাে। তামীম রক্ষা পেল। সে যখন মক্কাতে গেল তখন বুদাইল ইবনে ওয়ারাকা এবং তাদের গােলাম রাফি'-এর বাড়িতে গিয়ে মিলিত হল। আর আমর ইবনে সালিম বেরিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে উপস্থিত হলাে। সে দাড়িয়ে গেল, যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মসজিদে বসা ছিলেন। অনন্তর আমর সেখানে এই কবিতা গুচ্ছ আবৃত্তি করেঃ
* হে আল্লাহ! আমি মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে আমাদের পিতা এবং তার পিতামহের মাঝে স্থিরকৃত চুক্তি স্মরণ করে দিচ্ছি।
* আমরা পিতা ছিলাম (বয়সে বড় ছিলাম) এবং আপনি ছিলেন সন্তান।
আমরা সেখানে সন্ধি করেছি (শান্তি ও নিরাপত্তা), তা থেকে হাত ঘুটিয়ে নেইনি।
* হে আল্লাহ! আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) বলিষ্ঠ সাহায্য কর। আপনি আল্লাহর বান্দাদেরকে আহবান করুন সাহায্যের জন্য, তারা এগিয়ে আসবে।
* তাদের মাঝে রয়েছেন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কোষ মুক্ত তরবারি নিয়ে। যদি অপমান ও অপদস্ততা নেমে আসে তবে যেন তা পৃথক থাকে তাঁর নূরানী (আলকোজ্জ্বল) চেহারা থেকে (তিনি নিরাপদ থাকবেন)।
* এরূপ সু-বিশাল বাহিনী, যা সমুদ্রের ন্যায় বুদবুদ সৃষ্টি করে। অবশ্যই কুরায়শরা তােমার সঙ্গে কৃত চুক্তির বিরােধিতা করেছে।
* তারা তােমার সঙ্গে কৃত মজবুত ও সুদৃঢ় অঙ্গীকারকে ভেঙ্গে দিয়েছে। তারা কাদা'তে (মক্কার উঁচু এলাকা) আমার জন্য ঘাটি প্রস্তুত করে রেখেছে।
* এবং তারা ধারণা করেছে যে, আমি কাউকে ডাকব না। তারা নিতান্তই দুর্বল এবং স্বল্প সংখ্যক।
* তারা আমাদের বিরুদ্ধে ওয়াতীর জায়গা থেকে শেষ প্রহরে আক্রমণ করেছে। তারা আমাদেরকে রুকু-সিজদা অবস্থায় হত্যা করেছে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বানূ কা'ব-এর বিজয় সূচিত হয়েছে। অতঃপর বুদায়ল ইবনে ওয়ারাকা কবীলা খােযা আ’র কতিপয় ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে মদীনায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে উপস্থিত হলাে এবং যা কিছু তাদের উপর ঘটেছে তা তাকে অবহিত করে তারা ফিরে আসে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বােধ হয় তােমরা আবু সুফইয়ান-এর সঙ্গে মিলিত হবে। যে এই জন্য এসেছে যে, চুক্তি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি করবে। অতঃপর অনুরূপ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আয়্যূব (রাহঃ) ইকরামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে আবু সুফইয়ান কর্তৃক আবু বকর (রাযিঃ), উমার (রাযিঃ), আলী (রাযিঃ) ও ফাতিমা (রাহঃ) থেকে জবাব প্রত্যাশায় এবং তাঁকে তাঁদের প্রত্যেকের জবাব যা তারা তাকে দিয়েছেন, যা ইকরামা (রাহঃ) সূত্রে আয়্যূব (রাহঃ)-এর হাদীসে ব্যক্ত হয়েছে। তবে তিনি আব্বাস (রাযিঃ)-এর সঙ্গে আবু সুফইয়ানের আলােচনা এবং আব্বাস (রাযিঃ) কর্তৃক তাকে নিরাপত্তা প্রদান, অধিকন্তু তার ইসলাম গ্রহণের বিষয় উল্লেখ করেন নাই, না তিনি অবশিষ্ট হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবু জাফর তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ এই দুই হাদীসে ব্যক্ত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এবং মক্কাবাসীদের মাঝে যে সন্ধি সংঘটিত হয়েছিলাে তাতে কবীলা খােযাআ তাঁর সন্ধিতে শামিল হলাে। এর কারণ হল সেই পুরাতন চুক্তি যা তাঁর এবং তাদের মাঝে স্থাপিত হয়েছিলাে। বানূ বকর ঐ চুক্তির কারণে যা তাদের এবং কুরায়শের মাঝে স্থাপিত হয়েছিলাে, কুরায়শের সন্ধিতে শামিল হলাে। সুতরাং সন্ধির ব্যাপারে এদের প্রত্যেক দলের মিত্রদের হুকুম তার অনুরূপ হয়ে গিয়েছিলাে অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মিত্রের হুকুম তার হুকুমের অনুরূপ এবং কুরায়শের মিত্রের হুকুম তাদের হুকুমের অনুরূপ হয়ে গিয়েছিলাে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর মিত্রদের এবং কুরায়শদের মিত্রদের মাঝে যুদ্ধ হলাে। তাই এটা কুরায়শদের মিত্রদের পক্ষ থেকে ওই সন্ধিকে ভঙ্গ করা ছিলাে যাতে তারা শামিল হয়ে গিয়েছিলাে এবং ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া ছিলাে। এতে করে তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকারী সাব্যস্ত হলাে। অতঃপর কুরায়শরা তাদের মিত্রদের সাহায্য করে কবীলা-খােযাআ'র বিরুদ্ধে লড়াই করলাে। ফলে তাদের কিছু লােক নিহত হলাে। অথচ সন্ধি তাদেরকে এ থেকে বাধা দিচ্ছিলাে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তারা যা কিছু করেছে তা চুক্তি ভঙ্গ এবং কৃত সন্ধি থেকে বেরিয়ে যাওয়া ছিলাে। তাই এভাবে কুরায়শরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকারী ছিলাে।
পক্ষান্তরে অপরাপর আলিমগণ বলেন যে, যা কিছু তােমরা উল্লেখ করেছ সেটা কিরূপে সম্ভব, যখন কিনা তােমরা রিওয়ায়াত করেছ যে, আবু সুফইয়ান মদীনায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে উপস্থিত হয়েছে। আর এই উপস্থিতি বানূ বকর এবং কবীলা খােযাআ’র মাঝে লড়াই-এর পরে হয়েছে এবং কুরায়শরা ইতিপূর্বে বানূ বকরের সাহায্য করে ফেলেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর তার (আবু সুফইয়ান-এর) অবস্থা সম্পর্কে জানা ছিলাে। এতদসত্ত্বেও নাতাে তিনি তার সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেছেন না তাকে বাধা দিয়েছেন। এটা প্রমাণ বহন করে যে, সে তার কাছে তার নিরাপত্তায় ছিলাে। বানূ বকর এবং খােযাআর মাঝে সংঘটিত যুদ্ধের কারণে ওই নিরাপত্তা থেকে বের হয়ে যায়নি। আর কুরায়শরা খাদ্যসামগ্রী অস্ত্রশস্ত্র এবং ছত্রচ্ছায়া প্রদানের দ্বারা বানু বকরের যে সাহায্য করেছে, তাতেও সেই সন্ধি ভঙ্গ হয়নি, যা তাদের ও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর মাঝে স্থাপিত হয়েছিলাে এবং না সে এর থেকে বের হয়ে গিয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে অপরাপর আলিমদের দলীল হলাে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক আবু সুফইয়ানকে বাধা প্রদান না করার কারণ এটা ছিলাে না যে, তাঁর ও মক্কাবাসীদের মাঝে সন্ধি অবশিষ্ট ছিলাে। বরং তিনি তাকে এই জন্য ছেড়ে দিয়েছিলেন যে, সে প্রথমােক্ত সন্ধি ব্যতীত দ্বিতীয় সন্ধির জন্য মক্কাবাসীদের পক্ষ থেকে তাঁর দরবারে প্রতিনিধি হিসাবে এসেছিলাে। কেননা প্রথমােক্ত সন্ধি ভেঙ্গে গিয়েছিলাে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হত্যা ইত্যাদি দ্বারা তাকে প্রতিরােধ করেন নাই। বরং দূতদের ব্যাপারে (সাধারণ) নিয়ম হলাে তাদেরকে হত্যা না করা।
অতঃপর এ বিষয়ে তার থেকে নিম্নোক্ত হাদীস বর্ণিত আছেঃ
* হে আল্লাহ! আমি মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে আমাদের পিতা এবং তার পিতামহের মাঝে স্থিরকৃত চুক্তি স্মরণ করে দিচ্ছি।
* আমরা পিতা ছিলাম (বয়সে বড় ছিলাম) এবং আপনি ছিলেন সন্তান।
আমরা সেখানে সন্ধি করেছি (শান্তি ও নিরাপত্তা), তা থেকে হাত ঘুটিয়ে নেইনি।
* হে আল্লাহ! আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) বলিষ্ঠ সাহায্য কর। আপনি আল্লাহর বান্দাদেরকে আহবান করুন সাহায্যের জন্য, তারা এগিয়ে আসবে।
* তাদের মাঝে রয়েছেন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কোষ মুক্ত তরবারি নিয়ে। যদি অপমান ও অপদস্ততা নেমে আসে তবে যেন তা পৃথক থাকে তাঁর নূরানী (আলকোজ্জ্বল) চেহারা থেকে (তিনি নিরাপদ থাকবেন)।
* এরূপ সু-বিশাল বাহিনী, যা সমুদ্রের ন্যায় বুদবুদ সৃষ্টি করে। অবশ্যই কুরায়শরা তােমার সঙ্গে কৃত চুক্তির বিরােধিতা করেছে।
* তারা তােমার সঙ্গে কৃত মজবুত ও সুদৃঢ় অঙ্গীকারকে ভেঙ্গে দিয়েছে। তারা কাদা'তে (মক্কার উঁচু এলাকা) আমার জন্য ঘাটি প্রস্তুত করে রেখেছে।
* এবং তারা ধারণা করেছে যে, আমি কাউকে ডাকব না। তারা নিতান্তই দুর্বল এবং স্বল্প সংখ্যক।
* তারা আমাদের বিরুদ্ধে ওয়াতীর জায়গা থেকে শেষ প্রহরে আক্রমণ করেছে। তারা আমাদেরকে রুকু-সিজদা অবস্থায় হত্যা করেছে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বানূ কা'ব-এর বিজয় সূচিত হয়েছে। অতঃপর বুদায়ল ইবনে ওয়ারাকা কবীলা খােযা আ’র কতিপয় ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে মদীনায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে উপস্থিত হলাে এবং যা কিছু তাদের উপর ঘটেছে তা তাকে অবহিত করে তারা ফিরে আসে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বােধ হয় তােমরা আবু সুফইয়ান-এর সঙ্গে মিলিত হবে। যে এই জন্য এসেছে যে, চুক্তি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি করবে। অতঃপর অনুরূপ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আয়্যূব (রাহঃ) ইকরামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে আবু সুফইয়ান কর্তৃক আবু বকর (রাযিঃ), উমার (রাযিঃ), আলী (রাযিঃ) ও ফাতিমা (রাহঃ) থেকে জবাব প্রত্যাশায় এবং তাঁকে তাঁদের প্রত্যেকের জবাব যা তারা তাকে দিয়েছেন, যা ইকরামা (রাহঃ) সূত্রে আয়্যূব (রাহঃ)-এর হাদীসে ব্যক্ত হয়েছে। তবে তিনি আব্বাস (রাযিঃ)-এর সঙ্গে আবু সুফইয়ানের আলােচনা এবং আব্বাস (রাযিঃ) কর্তৃক তাকে নিরাপত্তা প্রদান, অধিকন্তু তার ইসলাম গ্রহণের বিষয় উল্লেখ করেন নাই, না তিনি অবশিষ্ট হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবু জাফর তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ এই দুই হাদীসে ব্যক্ত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এবং মক্কাবাসীদের মাঝে যে সন্ধি সংঘটিত হয়েছিলাে তাতে কবীলা খােযাআ তাঁর সন্ধিতে শামিল হলাে। এর কারণ হল সেই পুরাতন চুক্তি যা তাঁর এবং তাদের মাঝে স্থাপিত হয়েছিলাে। বানূ বকর ঐ চুক্তির কারণে যা তাদের এবং কুরায়শের মাঝে স্থাপিত হয়েছিলাে, কুরায়শের সন্ধিতে শামিল হলাে। সুতরাং সন্ধির ব্যাপারে এদের প্রত্যেক দলের মিত্রদের হুকুম তার অনুরূপ হয়ে গিয়েছিলাে অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মিত্রের হুকুম তার হুকুমের অনুরূপ এবং কুরায়শের মিত্রের হুকুম তাদের হুকুমের অনুরূপ হয়ে গিয়েছিলাে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর মিত্রদের এবং কুরায়শদের মিত্রদের মাঝে যুদ্ধ হলাে। তাই এটা কুরায়শদের মিত্রদের পক্ষ থেকে ওই সন্ধিকে ভঙ্গ করা ছিলাে যাতে তারা শামিল হয়ে গিয়েছিলাে এবং ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া ছিলাে। এতে করে তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকারী সাব্যস্ত হলাে। অতঃপর কুরায়শরা তাদের মিত্রদের সাহায্য করে কবীলা-খােযাআ'র বিরুদ্ধে লড়াই করলাে। ফলে তাদের কিছু লােক নিহত হলাে। অথচ সন্ধি তাদেরকে এ থেকে বাধা দিচ্ছিলাে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তারা যা কিছু করেছে তা চুক্তি ভঙ্গ এবং কৃত সন্ধি থেকে বেরিয়ে যাওয়া ছিলাে। তাই এভাবে কুরায়শরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকারী ছিলাে।
পক্ষান্তরে অপরাপর আলিমগণ বলেন যে, যা কিছু তােমরা উল্লেখ করেছ সেটা কিরূপে সম্ভব, যখন কিনা তােমরা রিওয়ায়াত করেছ যে, আবু সুফইয়ান মদীনায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে উপস্থিত হয়েছে। আর এই উপস্থিতি বানূ বকর এবং কবীলা খােযাআ’র মাঝে লড়াই-এর পরে হয়েছে এবং কুরায়শরা ইতিপূর্বে বানূ বকরের সাহায্য করে ফেলেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর তার (আবু সুফইয়ান-এর) অবস্থা সম্পর্কে জানা ছিলাে। এতদসত্ত্বেও নাতাে তিনি তার সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেছেন না তাকে বাধা দিয়েছেন। এটা প্রমাণ বহন করে যে, সে তার কাছে তার নিরাপত্তায় ছিলাে। বানূ বকর এবং খােযাআর মাঝে সংঘটিত যুদ্ধের কারণে ওই নিরাপত্তা থেকে বের হয়ে যায়নি। আর কুরায়শরা খাদ্যসামগ্রী অস্ত্রশস্ত্র এবং ছত্রচ্ছায়া প্রদানের দ্বারা বানু বকরের যে সাহায্য করেছে, তাতেও সেই সন্ধি ভঙ্গ হয়নি, যা তাদের ও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর মাঝে স্থাপিত হয়েছিলাে এবং না সে এর থেকে বের হয়ে গিয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে অপরাপর আলিমদের দলীল হলাে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক আবু সুফইয়ানকে বাধা প্রদান না করার কারণ এটা ছিলাে না যে, তাঁর ও মক্কাবাসীদের মাঝে সন্ধি অবশিষ্ট ছিলাে। বরং তিনি তাকে এই জন্য ছেড়ে দিয়েছিলেন যে, সে প্রথমােক্ত সন্ধি ব্যতীত দ্বিতীয় সন্ধির জন্য মক্কাবাসীদের পক্ষ থেকে তাঁর দরবারে প্রতিনিধি হিসাবে এসেছিলাে। কেননা প্রথমােক্ত সন্ধি ভেঙ্গে গিয়েছিলাে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হত্যা ইত্যাদি দ্বারা তাকে প্রতিরােধ করেন নাই। বরং দূতদের ব্যাপারে (সাধারণ) নিয়ম হলাে তাদেরকে হত্যা না করা।
অতঃপর এ বিষয়ে তার থেকে নিম্নোক্ত হাদীস বর্ণিত আছেঃ
كتاب السير
5456 - حَدَّثَنَا فَهْدُ بْنُ سُلَيْمَانَ , قَالَ: ثنا يُوسُفُ بْنُ بُهْلُولٍ , قَالَ: ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ إِدْرِيسَ , قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ إِسْحَاقَ , يَقُولُ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ , وَغَيْرُهُ , قَالَ: " كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ صَالَحَ قُرَيْشًا عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ عَلَى أَنَّهُ مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَدْخُلَ فِي عَقْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَهْدِهِ دَخَلَ فِيهِ , وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَدْخُلَ فِي عَقْدِ قُرَيْشٍ وَعَهْدِهِمْ دَخَلَ فِيهِ , فَتَوَاثَبَتْ خُزَاعَةُ وَبَنُو كَعْبٍ وَغَيْرُهُمْ مَعَهُمْ , فَقَالُوا: نَحْنُ فِي عَقْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَهْدِهِ , [ص:316] وَتَوَاثَبَتْ بَنُو بَكْرٍ , فَقَالُوا: نَحْنُ فِي عَقْدِ قُرَيْشٍ وَعَهْدِهِمْ , وَقَامَتْ قُرَيْشٌ عَلَى الْوَفَاءِ بِذَلِكَ سَنَةً وَبَعْضَ سَنَةٍ , ثُمَّ إِنَّ بَنِي بَكْرٍ عَدَوْا عَلَى خُزَاعَةَ , عَلَى مَا لَهُمْ بِأَسْفَلِ مَكَّةَ , فَقَالَ لَهُ الزُّبَيْرُ: بَيَّتُوهُمْ فِيهِ , فَأَصَابُوا مِنْهُمْ رَجُلًا وَتَجَاوَزَ الْقَوْمُ فَاقْتَتَلُوا , وَرَفَدَتْ قُرَيْشٌ بَنِي بَكْرٍ بِالسِّلَاحِ وَقَاتَلَ مَعَهُمْ مَنْ قَاتَلَ مِنْ قُرَيْشٍ بِالنَّبْلِ مُسْتَخْفِيًا , حَتَّى جَاوَزُوا خُزَاعَةَ إِلَى الْحَرَمِ , وَقَائِدُ بَنِي بَكْرٍ يَوْمَئِذٍ , نَوْفَلُ بْنُ مُعَاوِيَةَ , فَلَمَّا انْتَهَوْا إِلَى الْحَرَمِ قَالَتْ بَنُو بَكْرٍ: يَا نَوْفَلُ إِلَهَكَ إِلَهَكَ , إِنَّا قَدْ دَخَلْنَا الْحَرَمَ , فَقَالَ كَلِمَةً عَظِيمَةً: لَا إِلَهَ لَهُ الْيَوْمَ يَا بَنِي بَكْرٍ , أَصِيبُوا ثَأْرَكُمْ , قَدْ كَانَتْ خُزَاعَةُ أَصَابَتْ قَبْلَ الْإِسْلَامِ نَفَرًا ثَلَاثَةً , وَهُمْ مُتَحَرِّفُونَ , دُوَيْبًا , وَكُلْثُومًا , وَسُلَيْمَانَ بْنَ الْأَسْوَدِ بْنِ زُرَيْقِ بْنِ يَعْمُرَ , فَلَعَمْرِي يَا بَنِي بَكْرٍ , إِنَّكُمْ تَسْرِقُونَ فِي الْحَرَمِ , أَفَلَا تُصِيبُونَ ثَأْرَكُمْ فِيهِ؟ قَالَ: وَقَدْ كَانُوا أَصَابُوا مِنْهُمْ رَجُلًا لَيْلَةَ بَيَّتُوهُمْ بِالْوَتِيرِ , وَمَعَهُ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِهِ يُقَالُ لَهُ مُنَبِّهٌ رَجُلًا مُفْرَدًا فَخَرَجَ هُوَ وَتَمِيمٌ , فَقَالَ مُنَبِّهٌ: يَا تَمِيمُ , انْجُ بِنَفْسِكَ , فَأَمَّا أَنَا , فَوَاللهِ إِنِّي لَمَيِّتٌ , قَتَلُونِي أَوْ لَمْ يَقْتُلُونِي , فَانْطَلَقَ تَمِيمٌ فَأُدْرِكَ مُنَبِّهٌ فَقَتَلُوهُ وَأَفْلَتَ تَمِيمٌ , فَلَمَّا دَخَلَ مَكَّةَ , لَحِقَ إِلَى دَارِ بُدَيْلِ بْنِ وَرْقَاءَ , وَدَارِ رَافِعٍ مَوْلًى لَهُمْ , وَخَرَجَ عَمْرُو بْنُ سَالِمٍ , حَتَّى قَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَقَفَ وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ فِي الْمَسْجِدِ , فَقَالَ عَمْرٌو:
[البحر الرجز]
لَاهُمَّ إِنِّي نَاشِدٌ مُحَمَّدَا ... حِلْفَ أَبِينَا وَأَبِيهِ الْأَتْلَدَا
وَالِدًا كُنَّا وَكُنْتَ وَلَدَا ... ثُمَّةَ أَسْلَمْنَا فَلَمْ نَنْزِعْ يَدَا
فَانْصُرْ رَسُولَ اللهِ نَصْرًا أَعْتَدَا ... وَادْعُ عِبَادَ اللهِ يَأْتُوا مَدَدَا
فِيهِمْ رَسُولُ اللهِ قَدْ تَجَرَّدَا ... إِنْ سِيمَ خَسْفًا وَجْهُهُ تَرَبَّدَا
فِي فَيْلَقٍ كَالْبَحْرِ يَأْتِي مُزْبِدَا ... إِنَّ قُرَيْشًا أَخْلَفُوكَ الْمَوْعِدَا
وَنَقَضُوا مِيثَاقَكَ الْمُؤَكَّدَا ... وَجَعَلُوا لِي فِي كَدَاءَ رُصَّدَا
وَزَعَمُوا أَنْ لَسْتُ أَدْعُو أَحَدًا ... وَهُمْ أَذَلُّ وَأَقَلُّ عَدَدَا
هُمْ بَيَّتُونَا بِالْوَتِيرِ هُجَّدَا ... فَقَتَلُونَا رُكَّعًا وَسُجَّدَا
قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ نَصَرْتُ بَنِي كَعْبٍ , ثُمَّ خَرَجَ بُدَيْلُ بْنُ وَرْقَاءَ فِي نَفَرٍ مِنْ خُزَاعَةَ حَتَّى قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَدِينَةِ فَأَخْبَرُوهُ بِمَا أُصِيبَ مِنْهُمْ وَقَدْ رَجَعُوا , [ص:317] وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَأَنَّكُمْ بِأَبِي سُفْيَانَ قَدْ قَدِمَ لِيَزِيدَ فِي الْعَهْدِ , وَيَزِيدَ فِي الْمُدَّةِ " , ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوًا مِمَّا فِي حَدِيثِ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ فِي طَلَبِ أَبِي سُفْيَانَ الْجَوَابَ مِنْ أَبِي بَكْرٍ , وَمِنْ عُمَرَ , وَمِنْ عَلِيٍّ , وَمِنْ فَاطِمَةَ رِضْوَانُ اللهُ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ , وَجَوَابِ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ لَهُ بِمَا أَجَابَهُ فِي ذَلِكَ , عَلَى مَا فِي حَدِيثِ أَيُّوبَ , عَنْ عِكْرِمَةَ , وَلَمْ يَذْكُرْ خَبَرَ أَبِي سُفْيَانَ مَعَ الْعَبَّاسِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , وَلَا أَمَانَ الْعَبَّاسِ إِيَّاهُ وَلَا إِسْلَامَهُ , وَلَا بَقِيَّةَ الْحَدِيثِ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فِي هَذَيْنِ الْحَدِيثَيْنِ أَنَّ الصُّلْحَ الَّذِي كَانَ بَيْنَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَيْنَ أَهْلِ مَكَّةَ , دَخَلَتْ خُزَاعَةُ فِي صُلْحِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْحِلْفِ الَّذِي كَانَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ , وَدَخَلَتْ بَنُو بَكْرٍ فِي صُلْحِ قُرَيْشٍ , لِلْحِلْفِ الَّذِي كَانَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ , فَصَارَ حُكْمُ حُلَفَاءِ كُلِّ فَرِيقٍ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمِنْ قُرَيْشٍ فِي الصُّلْحِ , كَحُكْمِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَحُكْمِ قُرَيْشٍ , وَكَانَ بَيْنَ حُلَفَاءِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَيْنَ حُلَفَاءِ قُرَيْشٍ مِنَ الْقِتَالِ , مَا كَانَ , فَكَانَ ذَلِكَ نَقْضًا مِنْ حُلَفَاءِ قُرَيْشٍ لِلصُّلْحِ الَّذِي كَانُوا دَخَلُوا فِيهِ , وَخُرُوجًا مِنْهُمْ بِذَلِكَ مِنْهُ , فَصَارُوا بِذَلِكَ , حَرْبًا لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابِهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ , ثُمَّ أَمَدَّتْ قُرَيْشٌ حُلَفَاءَهَا هَؤُلَاءِ بِمَا قَوَّوْهُمْ بِهِ عَلَى قِتَالِ خُزَاعَةَ , حَتَّى قُتِلَ مِنْهُمْ مَنْ قُتِلَ وَقَدْ كَانَ الصُّلْحُ مَنَعَهُمْ مِنْ ذَلِكَ , فَكَانَ فِيمَا فَعَلُوا مِنْ ذَلِكَ , نَقْضًا لِلْعَهْدِ , وَخُرُوجًا مِنَ الصُّلْحِ , فَصَارَتْ قُرَيْشٌ بِذَلِكَ , حَرْبًا لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلِأَصْحَابِهِ , فَقَالَ الْآخَرُونَ: وَكَيْفَ يَكُونُ بِمَا ذَكَرْتُمْ كَمَا وَصَفْتُمْ , وَقَدْ رَوَيْتُمْ أَنَّ أَبَا سُفْيَانَ وَفَدَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ بَعْدَ أَنْ كَانَ بَيْنَ بَنِي بَكْرٍ وَبَيْنَ خُزَاعَةَ مِنَ الْقِتَالِ مَا كَانَ , وَبَعْدَ أَنْ كَانَ مِنْ قُرَيْشٍ لِبَنِي بَكْرٍ مِنَ الْمَعُونَةِ لَهُمْ مَا كَانَ عَلِمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَوْضِعِهِ , فَلَمْ يَصِلْهُ وَلَمْ يَعْرِضْ لَهُ , فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّهُ كَانَ عِنْدَهُ فِي أَمَانِهِ عَلَى حَالِهِ , غَيْرَ خَارِجٍ مِنْهُ مِمَّا كَانَ مِنْ بَنِي بَكْرٍ فِي قِتَالِ خُزَاعَةَ , وَمَا كَانَ مِنْ قُرَيْشٍ فِي مَعُونَةِ بَنِي بَكْرٍ بِمَا أَعَانُوهُمْ بِهِ مِنَ الطَّعَامِ وَالسِّلَاحِ وَالتَّظْلِيلِ , غَيْرِ نَاقِضٍ لِأَمَانِهِ بِصُلْحِهِ الَّذِي كَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَغَيْرَ مُخْرِجٍ لَهُ مِنْهُ , فَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ عَلَيْهِمْ لِلْآخَرِينَ أَنَّ تَرْكَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ التَّعَرُّضَ لِأَبِي سُفْيَانَ , لَمْ يَكُنْ لِأَنَّ الصُّلْحَ الَّذِي كَانَ بَيْنَ رَسُولِ اللهِ وَبَيْنَ أَهْلِ مَكَّةَ قَائِمٌ , وَلَكِنَّهُ تَرَكَهُ , لِأَنَّهُ كَانَ وَافِدًا إِلَيْهِ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ , طَالِبًا الصُّلْحَ الثَّانِيَ , سِوَى الصُّلْحِ الْأَوَّلِ , لِانْتِقَاضِ الصُّلْحِ الْأَوَّلِ , فَلَمْ يَعْرِضْ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَتْلٍ وَلَا غَيْرِهِ , لِأَنَّ مِنْ سُنَّةِ الرُّسُلِ أَنْ لَا يُقْتَلُوا ثُمَّ قَدْ رُوِيَ عَنْهُ فِي ذَلِكَ , مَا
[البحر الرجز]
لَاهُمَّ إِنِّي نَاشِدٌ مُحَمَّدَا ... حِلْفَ أَبِينَا وَأَبِيهِ الْأَتْلَدَا
وَالِدًا كُنَّا وَكُنْتَ وَلَدَا ... ثُمَّةَ أَسْلَمْنَا فَلَمْ نَنْزِعْ يَدَا
فَانْصُرْ رَسُولَ اللهِ نَصْرًا أَعْتَدَا ... وَادْعُ عِبَادَ اللهِ يَأْتُوا مَدَدَا
فِيهِمْ رَسُولُ اللهِ قَدْ تَجَرَّدَا ... إِنْ سِيمَ خَسْفًا وَجْهُهُ تَرَبَّدَا
فِي فَيْلَقٍ كَالْبَحْرِ يَأْتِي مُزْبِدَا ... إِنَّ قُرَيْشًا أَخْلَفُوكَ الْمَوْعِدَا
وَنَقَضُوا مِيثَاقَكَ الْمُؤَكَّدَا ... وَجَعَلُوا لِي فِي كَدَاءَ رُصَّدَا
وَزَعَمُوا أَنْ لَسْتُ أَدْعُو أَحَدًا ... وَهُمْ أَذَلُّ وَأَقَلُّ عَدَدَا
هُمْ بَيَّتُونَا بِالْوَتِيرِ هُجَّدَا ... فَقَتَلُونَا رُكَّعًا وَسُجَّدَا
قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ نَصَرْتُ بَنِي كَعْبٍ , ثُمَّ خَرَجَ بُدَيْلُ بْنُ وَرْقَاءَ فِي نَفَرٍ مِنْ خُزَاعَةَ حَتَّى قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَدِينَةِ فَأَخْبَرُوهُ بِمَا أُصِيبَ مِنْهُمْ وَقَدْ رَجَعُوا , [ص:317] وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَأَنَّكُمْ بِأَبِي سُفْيَانَ قَدْ قَدِمَ لِيَزِيدَ فِي الْعَهْدِ , وَيَزِيدَ فِي الْمُدَّةِ " , ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوًا مِمَّا فِي حَدِيثِ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ فِي طَلَبِ أَبِي سُفْيَانَ الْجَوَابَ مِنْ أَبِي بَكْرٍ , وَمِنْ عُمَرَ , وَمِنْ عَلِيٍّ , وَمِنْ فَاطِمَةَ رِضْوَانُ اللهُ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ , وَجَوَابِ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ لَهُ بِمَا أَجَابَهُ فِي ذَلِكَ , عَلَى مَا فِي حَدِيثِ أَيُّوبَ , عَنْ عِكْرِمَةَ , وَلَمْ يَذْكُرْ خَبَرَ أَبِي سُفْيَانَ مَعَ الْعَبَّاسِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , وَلَا أَمَانَ الْعَبَّاسِ إِيَّاهُ وَلَا إِسْلَامَهُ , وَلَا بَقِيَّةَ الْحَدِيثِ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فِي هَذَيْنِ الْحَدِيثَيْنِ أَنَّ الصُّلْحَ الَّذِي كَانَ بَيْنَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَيْنَ أَهْلِ مَكَّةَ , دَخَلَتْ خُزَاعَةُ فِي صُلْحِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْحِلْفِ الَّذِي كَانَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ , وَدَخَلَتْ بَنُو بَكْرٍ فِي صُلْحِ قُرَيْشٍ , لِلْحِلْفِ الَّذِي كَانَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ , فَصَارَ حُكْمُ حُلَفَاءِ كُلِّ فَرِيقٍ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمِنْ قُرَيْشٍ فِي الصُّلْحِ , كَحُكْمِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَحُكْمِ قُرَيْشٍ , وَكَانَ بَيْنَ حُلَفَاءِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَيْنَ حُلَفَاءِ قُرَيْشٍ مِنَ الْقِتَالِ , مَا كَانَ , فَكَانَ ذَلِكَ نَقْضًا مِنْ حُلَفَاءِ قُرَيْشٍ لِلصُّلْحِ الَّذِي كَانُوا دَخَلُوا فِيهِ , وَخُرُوجًا مِنْهُمْ بِذَلِكَ مِنْهُ , فَصَارُوا بِذَلِكَ , حَرْبًا لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابِهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ , ثُمَّ أَمَدَّتْ قُرَيْشٌ حُلَفَاءَهَا هَؤُلَاءِ بِمَا قَوَّوْهُمْ بِهِ عَلَى قِتَالِ خُزَاعَةَ , حَتَّى قُتِلَ مِنْهُمْ مَنْ قُتِلَ وَقَدْ كَانَ الصُّلْحُ مَنَعَهُمْ مِنْ ذَلِكَ , فَكَانَ فِيمَا فَعَلُوا مِنْ ذَلِكَ , نَقْضًا لِلْعَهْدِ , وَخُرُوجًا مِنَ الصُّلْحِ , فَصَارَتْ قُرَيْشٌ بِذَلِكَ , حَرْبًا لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلِأَصْحَابِهِ , فَقَالَ الْآخَرُونَ: وَكَيْفَ يَكُونُ بِمَا ذَكَرْتُمْ كَمَا وَصَفْتُمْ , وَقَدْ رَوَيْتُمْ أَنَّ أَبَا سُفْيَانَ وَفَدَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ بَعْدَ أَنْ كَانَ بَيْنَ بَنِي بَكْرٍ وَبَيْنَ خُزَاعَةَ مِنَ الْقِتَالِ مَا كَانَ , وَبَعْدَ أَنْ كَانَ مِنْ قُرَيْشٍ لِبَنِي بَكْرٍ مِنَ الْمَعُونَةِ لَهُمْ مَا كَانَ عَلِمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَوْضِعِهِ , فَلَمْ يَصِلْهُ وَلَمْ يَعْرِضْ لَهُ , فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّهُ كَانَ عِنْدَهُ فِي أَمَانِهِ عَلَى حَالِهِ , غَيْرَ خَارِجٍ مِنْهُ مِمَّا كَانَ مِنْ بَنِي بَكْرٍ فِي قِتَالِ خُزَاعَةَ , وَمَا كَانَ مِنْ قُرَيْشٍ فِي مَعُونَةِ بَنِي بَكْرٍ بِمَا أَعَانُوهُمْ بِهِ مِنَ الطَّعَامِ وَالسِّلَاحِ وَالتَّظْلِيلِ , غَيْرِ نَاقِضٍ لِأَمَانِهِ بِصُلْحِهِ الَّذِي كَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَغَيْرَ مُخْرِجٍ لَهُ مِنْهُ , فَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ عَلَيْهِمْ لِلْآخَرِينَ أَنَّ تَرْكَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ التَّعَرُّضَ لِأَبِي سُفْيَانَ , لَمْ يَكُنْ لِأَنَّ الصُّلْحَ الَّذِي كَانَ بَيْنَ رَسُولِ اللهِ وَبَيْنَ أَهْلِ مَكَّةَ قَائِمٌ , وَلَكِنَّهُ تَرَكَهُ , لِأَنَّهُ كَانَ وَافِدًا إِلَيْهِ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ , طَالِبًا الصُّلْحَ الثَّانِيَ , سِوَى الصُّلْحِ الْأَوَّلِ , لِانْتِقَاضِ الصُّلْحِ الْأَوَّلِ , فَلَمْ يَعْرِضْ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَتْلٍ وَلَا غَيْرِهِ , لِأَنَّ مِنْ سُنَّةِ الرُّسُلِ أَنْ لَا يُقْتَلُوا ثُمَّ قَدْ رُوِيَ عَنْهُ فِي ذَلِكَ , مَا