শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

৮. তালাক - ডিভোর্স অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৪৬৮
আন্তর্জাতিক নং: ৪৪৭৩
তালাক - ডিভোর্স অধ্যায়
১. কোন ব্যক্তি তার ঋতুবতী স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর যদি সুন্নত পদ্ধতিতে তালাক দিতে চায় তাহলে কখন এটা তার জন্য সম্ভব?
৪৪৬৮-৭৩। ইউনুস (রাহঃ) ….. নাফি' (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি একদিন রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) -এর যামানায় তার এক ঋতুবতী স্ত্রীকে তালাক দেন। উমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) -কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) বলেনঃ তাকে হুকুম দাও সে যেন তার স্ত্রীকে রাজায়াত করে। এরপর তাকে অনুমতি দেয় সে যেন পবিত্রতা অর্জন করে আর আবার ঋতুবতী হয় ও পবিত্রতা অর্জন করে। এ ইদ্দত সম্বন্ধে আল্লাহ্ তা'আলা নির্দেশ করেছেন যেন তার দিকে লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদেরকে তালাক দেয়া হয়।


সালিহ ইব্‌ন আব্দুর রহমান (রাহঃ) ….. মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি তার সনদে অনুরূপ বর্ণনা পেশ করেন। তবে তিনি আরাে বলেন, অতঃপর তাকে অনুমতি দিবে যাতে সে যেন পবিত্রতা অর্জন করতে পারে। পুনরায় ঋতুবতী হয় ও পবিত্রতা অর্জন করে। এরপর যদি সে চায় তাহলে যেন সে তাকে তালাক দেয়।


মুহাম্মাদ ইব্‌ন খুযাইমা (রাযিঃ) ….. নাফি' (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি ইব্‌ন উমার (রাযিঃ) ও রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতে অনুরূপ বর্ণনা পেশ করেন।


আহমাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্দুর রাহীম আল-বারাকী (রাহঃ) ..... ইব্‌ন উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। এরপর তিনি অনুরূপ হাদীস উল্লেখ করে এটুকু অতিরিক্ত করেন যে, সে যদি চায় তাহলে সংগম করার পূর্বে যেন তালাক দেয়।


ফাহাদ (রাহঃ) ও হুসাইন ইব্‌ন নসর (রাহঃ) ….. আব্দুল্লাহ ইব্‌ন উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেন।

প্রকাশ থাকে যে, ইব্‌ন উমার (রাযিঃ) থেকে নাফি' ও সালিম যে সকল হাদীস বর্ণনা করেন এগুলাের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে যে, স্বামী যেন মহিলাটিকে অনুমতি দেয় সে তার ঋতু থেকে পবিত্রতা অর্জন করবে, পুনরায় ঋতুবতী হবে ও পুনরায় পবিত্রতা অর্জন করবে। এ সংযােজিত অতিরিক্ত অংশের জন্যেই এ হাদীসগুলাে পূর্বেকার হাদীসগুলাে থেকে শ্রেষ্ঠ। হাদীসের মাধ্যমে এ অনুচ্ছেদের বর্ণনা পেশ করা হয়। চিন্তাভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে এ অনুচ্ছেদের বর্ণনা, নিম্নে প্রদত্ত হল।

এখানে আমরা একটি মূলনীতি দেখতে পাই যে, কোন এক ব্যক্তিকে ঋতুবতী অবস্থায় নিজ স্ত্রীকে তালাক দিতে নিষেধ করা হয়েছে এবং যে তহুর বা পবিত্র অবস্থায় একবার তালাক দেয়া হয়েছে সে তহুরে দ্বিতীয় বার তালাক দিতেও নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং যে তহুরে একবার তালাক দেয়া হয়েছে সে তহুরে আবার
তালাক দেয়াকে এমনভাবে নিষেধ করা হয়েছে, যেমন ঋতুবতী অবস্থায় তালাক দেয়াকে নিষেধ করা হয়েছে। অতঃপর আমরা লক্ষ্য করি যে, উলামায়ে কিরাম ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে মতভেদ করছেন না, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় সংগম করে, অতঃপর সে তাকে সুন্নত পদ্ধতি অনুযায়ী তালাক দিতে চায়। তার জন্যে এটা নিষিদ্ধ যতক্ষণ না মহিলাটি সংগমকৃত ঋতুবতী অবস্থা থেকে পবিত্রতা অর্জন করে এবং এরপর আরেকটি ঋতু থেকে পবিত্রতা অর্জন করে। সুতরাং ঋতু অবস্থায় সংগম করাকে ঋতুবতী অবস্থার পরে পবিত্র অবস্থায় সংগম করার সাথে সমতুল্য করা হয়েছে। তাই প্রতিটি ঋতু অবস্থার পরে পবিত্র অবস্থাকে তালাক হওয়ার ক্ষেত্রে ঋতু অবস্থার সমতুল্য করা হয়েছে। আর যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ঋতু অবস্থায় সংগম করে এরপর তাকে তালাক দেয়া তার জন্যে বৈধ নয়; যতক্ষণ না সংগম ও তালাকের মধ্যে একটি পূর্ণ ঋতু অবস্থা অতিক্রান্ত হয়।

উপরােক্ত বর্ণনা থেকে উপসংহার টানা যায় যে, যদি কেউ ঋতুবতী স্ত্রীকে তালাক দেয় অতঃপর ঋতু অবস্থা থেকে পবিত্র হওয়ার পর সে তালাক দিতে চায় তাহলে এটা তার জন্যে বৈধ হবে না; যতক্ষণ না প্রথম তালাক ও দ্বিতীয় তালাকের মধ্যে একটি পরিপূর্ণ ঋতু অতিক্রান্ত হয়। হাদীসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এ অনুচ্ছেদে এটাই আমাদের যুক্তি। আর এটা আবু ইউসুফ (রাহঃ) -এর অভিমত। রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) আব্দুল্লাহ ইব্‌ন উমার (রাযিঃ)-কে প্রথম তালাকের পর একটি পরিপূর্ণ ঋতু অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বে যে তালাক দিতে নিষেধ করেছেন অর্থাৎ দুই তালাকের মধ্যবর্তী একটি পরিপূর্ণ ঋতু অতিক্রান্ত হওয়া যে শর্ত করেছেন, তা একথার একটি প্রমাণ যে, সুন্নত পদ্ধতির তালাকের ক্ষেত্রে এক তহুরে দুই তালাক একত্রিত হয় না। আর এটাই হযরত ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ), ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর অভিমত।
كتاب الطلاق
4468 - حَدَّثَنَا يُونُسُ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ , أَنَّ مَالِكًا أَخْبَرَهُ , عَنْ نَافِعٍ , عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ , عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَ عُمَرُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ: «مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا , ثُمَّ لِيُمْسِكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ , ثُمَّ تَحِيضَ , ثُمَّ تَطْهُرَ , فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ»

4469 - حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: ثنا الْقَعْنَبِيُّ قَالَ: ثنا مَالِكٌ , فَذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ. غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ: ثُمَّ يَتْرُكَهَا حَتَّى تَطْهُرَ , ثُمَّ تَحِيضَ , ثُمَّ تَطْهُرَ , ثُمَّ إِنْ شَاءَ طَلَّقَ.

4470 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خُزَيْمَةَ قَالَ: ثنا حَجَّاجٌ قَالَ: ثنا حَمَّادٌ , عَنْ أَيُّوبَ , وَعُبَيْدِ اللهِ ح

4471 - وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ مَرْزُوقٍ قَالَ: ثنا الْخَصِيبُ قَالَ: ثنا حَمَّادٌ , عَنْ أَيُّوبَ , وَعُبَيْدِ اللهِ , عَنْ نَافِعٍ , عَنِ ابْنِ عُمَرَ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ. [ص:54]

4472 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْبَرْقِيُّ قَالَ: ثنا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ , عَنْ زُهَيْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ , وَمُوسَى بْنُ عُقْبَةَ , وَعُبَيْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ , عَنْ نَافِعٍ , أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ , ثُمَّ ذَكَرَ مِثْلَهُ. وَزَادَ: قَبْلَ أَنْ يُجَامِعَهَا.

4473 - حَدَّثَنَا فَهْدٌ , وَحُسَيْنُ بْنُ نَصْرٍ , قَالَا: ثنا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ قَالَ: ثنا زُهَيْرٌ قَالَ: ثنا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنِي نَافِعٌ , أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ , ثُمَّ ذَكَرَ مِثْلَهُ. فَقَدْ أَخْبَرَ سَالِمٌ , وَنَافِعٌ , عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا فِي هَذِهِ الْآثَارِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُ أَنْ يُمْسِكَهَا , حَتَّى تَطْهُرَ , ثُمَّ تَحِيضَ , ثُمَّ تَطْهُرَ. فَزَادَ ذَلِكَ عَلَى مَا فِي الْآثَارِ الْأُوَلِ , فَهُوَ أَوْلَى مِنْهَا. فَهَذَا وَجْهُ هَذَا الْبَابِ مِنْ طَرِيقِ الْآثَارِ. وَأَمَّا وَجْهُهُ مِنْ طَرِيقِ النَّظَرِ , فَإِنَّا وَجَدْنَا الْأَصْلَ فِي ذَلِكَ أَنَّ الرَّجُلَ نُهِيَ أَنْ يُطَلِّقَ امْرَأَتَهُ حَائِضًا , وَنُهِيَ أَنْ يُطَلِّقَهَا فِي طُهْرٍ قَدْ جَامَعَهَا فِيهِ , وَقَدْ , نُهِيَ عَنِ الطَّلَاقِ فِي الطُّهْرِ الَّذِي قَدْ جَامَعَهَا فِيهِ , كَمَا نُهِيَ عَنِ الطَّلَاقِ فِي الْحَيْضِ. ثُمَّ رَأَيْنَاهُمْ لَا يَخْتَلِفُونَ , فِي رَجُلٍ جَامَعَ امْرَأَتَهُ حَائِضًا , ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يُطَلِّقَهَا لِلسُّنَّةِ , أَنَّهُ مَمْنُوعٌ مِنْ ذَلِكَ حَتَّى تَطْهُرَ مِنْ هَذِهِ الْحَيْضَةِ الَّتِي كَانَ الْجِمَاعُ فِيهَا , وَمِنْ حَيْضَةٍ أُخْرَى بَعْدَهَا , وَجُعِلَ جِمَاعُهُ إِيَّاهَا فِي الْحَيْضَةِ , كَجِمَاعِهِ إِيَّاهَا فِي الطُّهْرِ الَّذِي يَعْقُبُ تِلْكَ الْحَيْضَةَ. فَلَمَّا كَانَ حُكْمُ الطُّهْرِ الَّذِي بَعْدَ كُلِّ حَيْضَةٍ , كَحُكْمِ نَفْسِ الْحَيْضَةِ فِي وُقُوعِ الطَّلَاقِ فِي الْجِمَاعِ فِي ذَلِكَ , وَكَانَ مَنْ جَامَعَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ , فَلَيْسَ لَهُ أَنْ يُطَلِّقَهَا بَعْدَ ذَلِكَ , حَتَّى يَكُونَ بَيْنَ ذَلِكَ الْجِمَاعِ وَبَيْنَ الطَّلَاقِ الَّذِي يُوقِعُهُ حَيْضَةٌ كَامِلَةٌ مُسْتَقْبَلَةٌ. كَانَ كَذَلِكَ فِي النَّظَرِ أَنَّهُ إِذَا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ , ثُمَّ أَرَادَ بَعْدَ ذَلِكَ أَنْ يُطَلِّقَهَا , لَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ حَتَّى يَكُونَ بَيْنَ الطَّلَاقِ الْأَوَّلِ الَّذِي كَانَ طَلَّقَهَا إِيَّاهُ وَبَيْنَ طَلَاقِهِ إِيَّاهَا الثَّانِي , حَيْضَةٌ مُسْتَقْبَلَةٌ. فَهَذَا وَجْهُ النَّظَرِ - عِنْدَنَا - فِي هَذَا الْبَابِ مَعَ مُوَافَقَةِ الْآثَارِ , وَهُوَ قَوْلُ أَبِي يُوسُفَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ. وَفِي مَنْعِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ابْنَ عُمَرَ , أَنْ يُطَلِّقَ امْرَأَتَهُ بَعْدَ الطَّلَاقِ الْأَوَّلِ , حَتَّى يَكُونَ بَعْدَ ذَلِكَ حَيْضَةٌ مُسْتَقْبَلَةٌ , فَيَكُونُ بَيْنَ التَّطْلِيقَتَيْنِ حَيْضَةٌ مُسْتَقْبَلَةٌ , دَلِيلٌ أَنَّ حُكْمَ طَلَاقِ السُّنَّةِ أَنْ لَا يُجْمَعَ مِنْهُ تَطْلِيقَتَانِ فِي طُهْرٍ وَاحِدٍ. فَافْهَمْ ذَلِكَ , فَإِنَّهُ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ , رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীস থেকে জানা গেল যে, ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয়া শক্ত গুনাহের কাজ। যদি কেউ ভুলবশত এরূপ করে তবে তাকে ফিরিয়ে নেয়া চাই। এরপর যদি তালাক দেয়ার ইচ্ছা অটুট থাকে তবে সেই পবিত্রাবস্থায় তালাক দিতে হবে যার মধ্যে সহবাসের সুযোগ হয়নি। এর রহস্য সুস্পষ্ট যে, অপবিত্র অবস্থায় নারী আকর্ষণযোগ্য থাকে না। পবিত্রাবস্থায় এটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে, স্বামীর হৃদয়ে আকর্ষণ সৃষ্টি হবে আর তালাক প্রদানের ইচ্ছাই শেষ হয়ে যাবে। আর আল্লাহ ও রাসুলের এতেই অধিক সন্তুষ্টি।

উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ ﷺ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-কে নির্দেশ দিলেন যে, অন্তর্বর্তী অবস্থায় তিনি যে তালাক দিয়েছিলেন তাতে তিনি তাঁকে পুনঃ গ্রহণ করবেন এবং একটি পবিত্রকাল অতিক্রান্ত হতে দেবেন। এরপর যদি তালাক দিতেই হয় তবে দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় দেবে। এটারও প্রকাশ্য উদ্দেশ্য ইহাই যে, মধ্যবর্তী পবিত্র অবস্থায় যখন উভয়ে একত্রে বাস করবে তবে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, সম্পর্কের মধ্যে পুনরায় প্রফুল্লতা আসবে এবং তালাকের সুযোগই আসবে না। কিন্তু যদি এরূপ হয় বরং তালাক দেওয়ারই সিদ্ধান্ত হয় তবে তিনি অনুমতি প্রদান করেছেন যে, দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় সহবাসের পূর্বে তালাক দেবে। ‘সহবাসের পূর্বে’ বাধ্যবাধকতা সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যও এটাই যে, যখন অপবিত্র অবস্থায় দিনগুলো শেষ হয়ে যায় তখন প্রাকৃতিকভাবে সহবাসের আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। এভাবে এই বাধ্যবাধকতাও তালাক প্রদানের প্রতিবন্ধকতার কারণ হতে পারে।

উক্ত ঘটনায় রাসুলুল্লাহ ﷺ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-কে পুনরায় গ্রহণের যে নির্দেশ প্রদান করেন তাতে জানা গেল যে, ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যদিও নাজায়িয এবং শক্ত গুনাহর বিষয় তবুও তালাক অনুষ্ঠিত হয়ে যায়। যদি অনুষ্ঠিত না হত তবে পুনরায় গ্রহণের প্রয়োজনই হত না। আর হুজুর ﷺ পুনরায় গ্রহণের নির্দেশ প্রদানের স্থলে এটা বলতেন যে, তালাক অনুষ্ঠিতই হয়নি।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)