শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
৬. হজ্বের অধ্যায়
হাদীস নং: ৪১৬০
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৬১
হজ্বের অধ্যায়
ইহরাম ব্যতীত হারাম শরীফে প্রবেশ করা
৪১৬০-৬১। ফাহাদ (রাহঃ) ….. আবু শুরায়হ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যখন (মদীনার গবর্নর) আমর ইব্ন সাঈদ, আব্দুল্লাহ ইব্ন যুবাইর (রাযিঃ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য মক্কায় সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করছিল তখন তার নিকট আবু শুরায়হ (রাযিঃ) এসে তিনি রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) থেকে যা কিছু শুনেছেন, তার নিকটও বর্ণনা করলেন। তারপর তিনি তাঁর কাওমের এক বৈঠকে গিয়ে বসলেন। আমি উঠে তাঁর নিকট গিয়ে বসলাম। তিনি বলেন, তিনি আমর এর নিকট রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) থেকে যা বলেছিলেন সেই বিষয়টিই বর্ণনা করলেন। আর তাকে যে জবাব দিয়েছিলেন তাও বর্ণনা করলেন। তিনি (আবু শুরায়হ) বলেন, আমি বললাম, মক্কা বিজয়ের সময় আমরা রাসূলুল্লাহ্(ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। মক্কা বিজয়ের পরদিন তিনি আমাদেরকে ভাষণ দিতে গিয়ে বললেনঃ হে লােক সকল! অবশ্যই আল্লাহ্ তা'আলা ঐ দিন মক্কাকে 'হারাম' করে দিয়েছেন, যে দিন আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং এটা কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর নির্ধারিত হারামের মধ্য থেকে একটি হারাম। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের উপর ঈমান রাখে তার জন্য এখানে রক্ত প্রবাহিত করা, এখানকার কোন বৃক্ষ কর্তন করা হালাল নয়। এটা আমার পূর্বে কারাে জন্য হালাল হয় নি এবং না আমার পরে কারাে জন্য হালাল হবে। আমার জন্যও শুধু এই কিছুক্ষণ হালাল হয়েছে। আর এমনটি সেখানকার অধিবাসীদের (কাফিরদের জন্য) গযব স্বরূপ হয়েছে। তারপর কালকের মত তার হারাম হওয়ার বিধান প্রত্যর্পিত হয়েছে। কোন ব্যক্তি যদি তােমাদেরকে বলে যে, আল্লাহর রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) -এর পবিত্রতা তাকে খতম করে দিয়ে এটাকে হালাল করে দিয়েছেন, তখন তােমরা তাকে বলবে, আল্লাহ্ তা'আলা এটাকে আঁর রাসূলের জন্য হালাল করেছেন, তােমার জন্য হালাল করেন নি। তিনি (আমর) আমাকে বললেন, হে শায়খ! ফিরে যান। এর পবিত্রতা সম্পর্কে আমরা আপনার চাইতে অধিক অবহিত। হারাম শরীফ কোন খুনী, অপরাধী ও বিদ্রোহীকে রক্ষা করে না বা আশ্রয় দেয় না। আমি বললাম, আমি উপস্থিত ছিলাম আর আপনি ছিলেন অনুপস্থিত। আর রাসূলুল্লাহ(ﷺ) আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছে যে, আমাদের উপস্থিতজন অনুপস্থিতজনকে পৌছিয়ে দিবে। আমি অবশ্যই আপনাকে (একথা) পৌঁছিয়ে দিয়েছি।
বাহর ইব্ন নসর (রাহঃ) ….. আবু শুরায়হ আল খুযাঈ (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী(ﷺ) থেকে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন।
বাহর ইব্ন নসর (রাহঃ) ….. আবু শুরায়হ আল খুযাঈ (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী(ﷺ) থেকে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন।
كتاب مناسك الحج
4160 - حَدَّثَنَا فَهْدٌ , قَالَ: ثنا يُوسُفُ بْنُ بُهْلُولٍ , قَالَ: ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ إِدْرِيسَ , عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ , قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ , عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيِّ , قَالَ: لَمَّا بَعَثَ عَمْرُو بْنُ سَعِيدٍ الْبَعْثَ إِلَى مَكَّةَ لِغَزْوِ ابْنِ الزُّبَيْرِ أَتَاهُ أَبُو شُرَيْحٍ فَكَلَّمَهُ بِمَا سَمِعَ مِنْ , رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , ثُمَّ خَرَجَ إِلَى نَادِي قَوْمِهِ فَجَلَسَ , فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَجَلَسْتُ مَعَهُ. قَالَ: فَحَدَّثَ عَمَّا حَدَّثَ عَمْرٌو عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , وَعَمَّا جَاوَبَهُ بِهِ عَمْرٌو. قَالَ: قُلْتُ: إِنَّا كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ افْتَتَحَ مَكَّةَ , فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ مِنْ يَوْمِ الْفَتْحِ , خَطَبَنَا فَقَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ حَرَّمَ مَكَّةَ , يَوْمَ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فَهِيَ حَرَامٌ مِنْ حَرَامِ اللهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ , لَا يَحِلُّ لِرَجُلٍ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ يَسْفِكَ فِيهَا دَمًا , وَلَا يَعْضِدَ بِهَا شَجَرًا , لَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ كَانَ قَبْلِي , وَلَا تَحِلُّ لِأَحَدٍ بَعْدِي , وَلَمْ تَحِلَّ لِي إِلَّا هَذِهِ السَّاعَةَ , غَضَبًا عَلَى أَهْلِهَا , أَلَا ثُمَّ قَدْ عَادَتْ كَحُرْمَتِهَا بِالْأَمْسِ , فَمَنْ قَالَ لَكُمْ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَحَلَّهَا فَقُولُوا لَهُ: إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ أَحَلَّهَا لِرَسُولِهِ , وَلَمْ يُحِلَّهَا لَكَ. [ص:261] فَقَالَ لِي: انْصَرِفْ أَيُّهَا الشَّيْخُ , فَنَحْنُ أَعْرَفُ بِحُرْمَتِهَا مِنْكَ , إِنَّهَا لَا تَمْنَعُ سَافِكَ دَمٍ وَلَا مَانِعَ خَرِبَةٍ , وَلَا خَالِعَ طَاعَةٍ. قُلْتُ: قَدْ كُنْتُ شَاهِدًا، وَكُنْتَ غَائِبًا، وَقَدْ أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُبَلِّغَ شَاهِدُنَا غَائِبَنَا , وَقَدْ أَبْلَغْتُكَ "
4161 - حَدَّثَنَا بَحْرٌ هُوَ ابْنُ نَصْرٍ , عَنْ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ , عَنْ أَبِيهِ , عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ , عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيِّ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ
4161 - حَدَّثَنَا بَحْرٌ هُوَ ابْنُ نَصْرٍ , عَنْ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ , عَنْ أَبِيهِ , عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ , عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيِّ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ইসলামের প্রথম শতাব্দীতেই রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষী ও ক্ষমতালোভীরা ইসলামের সাথে যে আচরণ করেছে এবং এর বিধানাবলীকে যেভাবে ভেঙ্গে মুচড়ে দিয়েছে, এটা ইসলামের ইতিহাসের এক বিরাট পীড়াদায়ক অধ্যায়। আবূ শুরাইহ্ আদাভী যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী ছিলেন-তিনি উমাইয়া শাসক আমর ইবনে সাঈদের সামনে হক কথা বলে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী শুনিয়ে দিয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। বুখারী ও মুসলিমের এ রেওয়ায়াতে এটা উল্লেখ করা হয়নি যে, আমর ইবনে সাঈদ যে কথা বলেছিল, এর প্রতিউত্তরে আবূ শুরাইহ্ রাযি. কিছু বলেছিলেন কিনা। কিন্তু মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি বলেছিলেন,
قَدْ كُنْتُ شَاهِدًا، وَكُنْتَ غَائِبًا وَقَدْ أَمَرَنَا أَنْ يُبَلِّغَ شَاهِدُنَا غَائِبَنَا، وَقَدْ بَلَّغْتُكَ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ কথা বলেছিলেন, তখন আমি উপস্থিত ছিলাম, আর তুমি উপস্থিত ছিলে না। আর তিনি আমাদেরকে এ নির্দেশও দিয়েছিলেন যে, আমাদের উপস্থিতরা যেন অনুপস্থিতদেরকে এ কথাগুলো পৌঁছে দেয়। তাই আমি তোমাকে এ কথা পৌঁছে দিলাম।
আবূ শুরাইহ আদাভী রাযি.-এর এ উত্তরের মধ্যে এ বিষয়টিও লুকায়িত রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বক্তব্যের উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় বুঝার অধিক হকদার তারাই, যাদের সামনে তিনি একথা বলেছিলেন এবং যারা ঐ সময় তাঁর এ কথা শুনেছিল।
قَدْ كُنْتُ شَاهِدًا، وَكُنْتَ غَائِبًا وَقَدْ أَمَرَنَا أَنْ يُبَلِّغَ شَاهِدُنَا غَائِبَنَا، وَقَدْ بَلَّغْتُكَ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ কথা বলেছিলেন, তখন আমি উপস্থিত ছিলাম, আর তুমি উপস্থিত ছিলে না। আর তিনি আমাদেরকে এ নির্দেশও দিয়েছিলেন যে, আমাদের উপস্থিতরা যেন অনুপস্থিতদেরকে এ কথাগুলো পৌঁছে দেয়। তাই আমি তোমাকে এ কথা পৌঁছে দিলাম।
আবূ শুরাইহ আদাভী রাযি.-এর এ উত্তরের মধ্যে এ বিষয়টিও লুকায়িত রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বক্তব্যের উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় বুঝার অধিক হকদার তারাই, যাদের সামনে তিনি একথা বলেছিলেন এবং যারা ঐ সময় তাঁর এ কথা শুনেছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)