আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৫৩- বিবাহ-শাদী সম্পর্কিত অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৭৫৩
আন্তর্জাতিক নং: ৫১২৪ - ৫১২৫
- বিবাহ-শাদী সম্পর্কিত অধ্যায়
২৬৮০. মহান আল্লাহর বাণী: যদি তোমরা শাদীর ইচ্ছা কর প্রকাশ্যে অথবা অন্তরে গোপন রাখ, উভয় অবস্থা আল্লাহ জানেন। আল্লাহ ক্ষমাকারী এবং ধৈর্যশীল। أَكْنَنْتُمْ আরবী শব্দ অর্থ - তোমরা গোপনে মনে পোষণ কর। প্রত্যেক বস্তু যা তুমি গোপনে রাখ তা হলো ‘মাকনূন’। আমাকে ত্বলক (রাহঃ)..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর সূত্রে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি ইদ্দত পালনকারী কোন মহিলাকে বলে যে, আমার শাদী করার ইচ্ছা আছে। আমি কোন নেককার মহিলাকে পেতে ইচ্ছা পোষণ করি।
কাসিম (রাহঃ) বলেন, এই আয়াতের ব্যাখ্যা হচ্ছে, যেন কোন ব্যক্তি বলল, তুমি আমার কাছে খুবই সম্মানিতা এবং আমি তোমাকে পছন্দ করি। আল্লাহ্ তোমার জন্য কল্যাণ বর্ষণ করুন। অথবা এই ধরণের উক্তি।
আতা (রাহঃ) বলেনে, শাদীর ইচ্ছা ইশারায় ব্যক্ত করা উচিত- খোলাখুলি এই ধরণের কোন কথা বলা ঠিক নয়। কেউ এ ধরণের বলতে পারে, আমার এ সকল গুণের প্রয়োজন আছে। আর তোমার জন্য সুখবর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য আপনি পুনঃ শাদীর উপযুক্ত। সে মহিলাও বলতে পারে আপনি যা বলেছেন, তা আমি শুনেছি কিন্তু এর বেশী ওয়াদা করা ঠিক নয়। তার অভিভাবকদেরও তার অজ্ঞাতে কোন প্রকার ওয়াদা দেয়া ঠিক নয়। কিন্তু যদি কেউ ইদ্দতের মাঝে কাউকে শাদীর কোন প্রকার ওয়াদা করে এবং ইদ্দত শেষে সে ব্যক্তি যদি তাকে শাদী করে তবে সেই শাদী বিচ্ছেদ করতে হবে না।
হাসান (রাহঃ) বলেছেন, (لَا تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا) -এর অর্থ হল: ব্যভিচার।
ইবনে ‘আব্বাস (রাযিঃ) -এর উদ্ধৃতি দিয়ে এই কথা বলা হয় যে, حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ -এর অর্থ হলো ইদ্দত পূর্ণ হওয়া।

পরিচ্ছেদঃ ২৬৮১. শাদী করার পূর্বে মেয়ে দেখে নেয়া
৪৭৫৩। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেন, আমি তোমাকে স্বপ্নের মধ্যে দেখেছি, একজন ফিরিশতা তোমাকে রেশমী চাঁদরে জড়িয়ে আমার কাছে নিয়ে এসে বলল, এ হচ্ছে আপনার স্ত্রী। এরপর আমি তোমার মুখমণ্ডল থেকে চাঁদর খুলে ফেলে তোমাকে দেখতে পেলাম। তখন আমি বললাম, যদি স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তা বাস্তবায়িত হবে।
كتاب النكاح
بَاب قَوْلِ اللَّهِ جَلَّ وَعَزَّ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُمْ بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ أَوْ أَكْنَنْتُمْ فِي أَنْفُسِكُمْ عَلِمَ اللَّهُ الْآيَةَ إِلَى قَوْلِهِ غَفُورٌ حَلِيمٌ أَوْ أَكْنَنْتُمْ أَضْمَرْتُمْ وَكُلُّ شَيْءٍ صُنْتَهُ وَأَضْمَرْتَهُ فَهُوَ مَكْنُونٌ وَقَالَ لِي طَلْقٌ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فِيمَا عَرَّضْتُمْ بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ يَقُولُ إِنِّي أُرِيدُ التَّزْوِيجَ وَلَوَدِدْتُ أَنَّهُ تَيَسَّرَ لِي امْرَأَةٌ صَالِحَةٌ وَقَالَ الْقَاسِمُ يَقُولُ إِنَّكِ عَلَيَّ كَرِيمَةٌ وَإِنِّي فِيكِ لَرَاغِبٌ وَإِنَّ اللَّهَ لَسَائِقٌ إِلَيْكِ خَيْرًا أَوْ نَحْوَ هَذَا وَقَالَ عَطَاءٌ يُعَرِّضُ وَلَا يَبُوحُ يَقُولُ إِنَّ لِي حَاجَةً وَأَبْشِرِي وَأَنْتِ بِحَمْدِ اللَّهِ نَافِقَةٌ وَتَقُولُ هِيَ قَدْ أَسْمَعُ مَا تَقُولُ وَلَا تَعِدُ شَيْئًا وَلَا يُوَاعِدُ وَلِيُّهَا بِغَيْرِ عِلْمِهَا وَإِنْ وَاعَدَتْ رَجُلًا فِي عِدَّتِهَا ثُمَّ نَكَحَهَا بَعْدُ لَمْ يُفَرَّقْ بَيْنَهُمَا وَقَالَ الْحَسَنُ لَا تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا الزِّنَا وَيُذْكَرُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ تَنْقَضِيَ الْعِدَّةُ

باب النَّظَرِ إِلَى الْمَرْأَةِ قَبْلَ التَّزْوِيجِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " رَأَيْتُكِ فِي الْمَنَامِ يَجِيءُ بِكِ الْمَلَكُ فِي سَرَقَةٍ مِنْ حَرِيرٍ فَقَالَ لِي هَذِهِ امْرَأَتُكَ. فَكَشَفْتُ عَنْ وَجْهِكِ الثَّوْبَ، فَإِذَا أَنْتِ هِيَ فَقُلْتُ إِنْ يَكُ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ يُمْضِهِ ".

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীসে এর কোন উল্লেখ নেই যে, এ স্বপ্ন তিনি কখন ও কোন্ যুগে দেখেছিলেন। তবে হযরত খাদিজা রাযি.-এর ওফাতের পর যখন তাঁর মত জীবন সঙ্গিনীর বিচ্ছেদের কারণে স্বাভাবিকভাবেই অন্তর শোকাহত ছিল এবং ভবিষ্যতের ব্যাপারে চিন্তা ছিল, ঐ সময় তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে এটা দেখানো হয়। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. যদিও তখন ৬/৭ বছরের অল্পবয়স্কা শিশু ছিলেন, তথাপি এ বাল্যকালেই তাঁর যে অবস্থা ও চালচলন ছিল, এগুলোর দ্বারা হুযুর (ﷺ) তাঁর মেধা, বুদ্ধিমত্তা ও অসাধারণ যোগ্যতা আঁচ করে নিয়েছিলেন। এভাবে হুযুর (ﷺ)কে আল্লাহর পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হল যে, ইনিই ভবিষ্যতে আপনার জন্য হযরত খাদীজার বদল ও স্থলাভিষিক্ত হবেন।

এ কথাটি লক্ষণীয় যে, নবুওয়াতের প্রাথমিক যুগে হুযুর (ﷺ)-এর জীবন সঙ্গিনীর জন্য যেসব গুণাবলীর প্রয়োজন ছিল, এর সবগুলোই আল্লাহ্ তা'আলা হযরত খাদীজাকে দান করেছিলেন। অপরদিকে হিজরতের পর মদীনার জীবনে নিজের জীবন সঙ্গিনীর মধ্যে তাঁর যেসব বৈশিষ্ট্যের প্রয়োজন ছিল, এর সবকিছুই আল্লাহ্ তা'আলা হযরত আয়েশাকে পরিপূর্ণ দান করেছিলেন।

হাদীসটির শেষ দিকে একটি কথা রয়েছে যে, হুযুর (ﷺ) এ স্বপ্ন দেখার পর মনে মনে বলেছিলেন: إن يكن هذا من عند الله يمضه যার শাব্দিক অনুবাদ এই করা হয়েছে, যদি এ স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তাহলে তিনি তা পূর্ণ করবেন। (অর্থাৎ, বাস্তবে রূপ দান করবেন।) এখানে কারো আপত্তি হতে পারে যে, আম্বিয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালাম বিশেষ করে হুযুর (ﷺ)-এর স্বপ্ন তো ওহীর একটি প্রকার। তাই এ ব্যাপারে সন্দেহ শোবার কি অবকাশ ছিল? বাস্তব কথা এই যে, 'যদিও শব্দটি সন্দেহ প্রকাশের জন্য নয়; বরং এটা ঠিক তেমন, যেমন কোন দেশের বাদশাহ কারো প্রতি খুশী হয়ে বলে, 'আমি যদি বাদশাহ হয়ে থাকি, তাহলে তোমার এ কাজ অবশ্যই করে দেওয়া হবে।' সারকথা, এ বাক্যের মর্ম এই যে, হুযুর (ﷺ) নিজের অন্তরে প্রসন্নতা অনুভব করেছিলেন যে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং অবশ্যই তেমনটিই হবে। আর বাস্তবে তাই হয়েছিল।

পরিশেষে এ কথাটিও উল্লেখ করার মত যে, তিরমিযী শরীফের বর্ণনায় স্পষ্ট রয়েছে যে, স্বপ্নে হযরত আয়েশার আকৃতি নিয়ে আগমনকারী ফিরিশতা ছিলেন হযরত জিবরাঈল (আ.) এবং তিনি হুযুর (ﷺ)কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: هَذِهِ زَوْجَتُكَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة অর্থাৎ, ইনি আপনার স্ত্রী হবেন দুনিয়া ও আখেরাতে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)