শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
৬. হজ্বের অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৫৪৩
হজ্বের অধ্যায়
কোন জায়গা থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে ?
৩৫৪৩। সাঈদ ইব্ন জুবাইর (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, ইব্ন আব্বাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, নবী করীম (ﷺ) এর ইহরামের বিষয়ে লোকদের মাঝে বিরোধ কিভাবে হয়েছে ? একদল বলেছেন. তিনি তাঁর জায়নামায থেকেই ইহরাম বেঁধেছেন। আরেক দল বলেছে, যখন সওয়ারী তাঁকে নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে তখন। পক্ষান্তরে তৃতীয় আরেক দল বলেছেন, যখন তিনি বায়দা নামক স্থানে গিয়ে উঠেছেন তখন (ইহরাম বেঁধেছেন)। ইব্ন আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমি এখনই এ বিষয়ে তোমাদের নিকট বিবরণ পেশ করব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর জায়নামাযে থেকেই ইহরাম বেঁধেছেন । সেখানে একদল উপস্থিত ছিলেন,তাঁরা এটা বর্ণনা করেছেন। যখন তাঁর বাহন তাঁকে নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে তখন তিনি তালবীয়া পাঠ করেন, তখন একদল সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যারা প্রথমবারে ছিলেন না। তাঁরা বলেছেন, তিনি সে সময় ইহরাম বেঁধেছেন। তাই তাঁরা এর সংবাদ দিয়েছেন। পক্ষান্তরে যখন তিনি বায়দা নামক স্থানে গিয়ে উঠেছেন, তখন তিনি তালবিয়া পাঠ করেছেন। বস্তুত সেখানে যে দল উপস্থিত ছিলেন, তারা প্রথমোক্ত (দু’স্থানে) উপস্থিত ছিলেন না। তাঁরা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এখনই ইহরাম বেঁধেছেন। তাই তাঁরা এর সংবাদ দিয়েছেন। পক্ষান্তরে নবী করীম (ﷺ) তার জায়নামাযেই ইহরাম বেঁধেছিলেন। (অবশিষ্ট দুই স্থানে তিনি শুধু তালবিয়া পাঠ করেছেন আর তাঁরা বুঝেছেন এখন ইহরাম বেঁধেছেন)।
সুতরাং আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রাযিঃ) তাঁদের বিরোধের কারণ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, উপরন্তু নবী করীম (ﷺ) যেই ইহরামের সঙ্গে হজ্জের সূচনা করেছিলেন তা তিনি জায়নামাযে বেঁধেছিলেন। বস্তুত আমরা এটাই গ্রহন করি। কেউ যখন ইহরাম বাঁধার ইচ্ছা করবে তখন দু’রাক’আত সালাত আদায়ের পরে ইহরাম বাঁধা তার জন্য বাঞ্ছণীয়। যেমনটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করেছেন। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ), ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ), ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) এর এটাই অভিমত।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হাসান ইব্ন মুহাম্মাদ (রাহঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে যা ইব্ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত রয়েছে ঃ
সুতরাং আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রাযিঃ) তাঁদের বিরোধের কারণ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, উপরন্তু নবী করীম (ﷺ) যেই ইহরামের সঙ্গে হজ্জের সূচনা করেছিলেন তা তিনি জায়নামাযে বেঁধেছিলেন। বস্তুত আমরা এটাই গ্রহন করি। কেউ যখন ইহরাম বাঁধার ইচ্ছা করবে তখন দু’রাক’আত সালাত আদায়ের পরে ইহরাম বাঁধা তার জন্য বাঞ্ছণীয়। যেমনটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করেছেন। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ), ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ), ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) এর এটাই অভিমত।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হাসান ইব্ন মুহাম্মাদ (রাহঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে যা ইব্ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত রয়েছে ঃ
كتاب مناسك الحج
3543 - قَدْ حَدَّثَنَا إِمْلَاءً قَالَ: ثنا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: ثنا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ حَرْبٍ عَنْ خُصَيْفٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ: قِيلَ لِابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: كَيْفَ اخْتَلَفَ النَّاسُ فِي إِهْلَالِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَتْ طَائِفَةٌ: أَهَلَّ فِي مُصَلَّاهُ. وَقَالَتْ طَائِفَةٌ: حِينَ اسْتَوَتْ بِهِ رَاحِلَتُهُ. وَقَالَتْ طَائِفَةٌ: حِينَ عَلَا عَلَى الْبَيْدَاءِ. فَقَالَ: " سَأُخْبِرُكُمْ عَنْ ذَلِكَ، إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَهَلَّ فِي مُصَلَّاهُ فَشَهِدَهُ قَوْمٌ فَأَخْبَرُوا بِذَلِكَ فَلَمَّا اسْتَوَتْ بِهِ رَاحِلَتَهُ أَهَلَّ فَشَهِدَهُ قَوْمٌ لَمْ يَشْهَدُوهُ فِي الْمَرَّةِ الْأُولَى فَقَالُوا: أَهَلَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ السَّاعَةَ فَأَخْبَرُوا بِذَلِكَ فَلَمَّا عَلَا عَلَى الْبَيْدَاءِ أَهَلَّ فَشَهِدَهُ قَوْمٌ لَمْ يَشْهَدُوهُ فِي الْمَرَّتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ فَقَالُوا: أَهَلَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ السَّاعَةَ فَأَخْبَرُوا بِذَلِكَ، وَإِنَّمَا كَانَ إِهْلَالُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مُصَلَّاهُ ". فَبَيَّنَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا الْوَجْهَ الَّذِي مِنْهُ جَاءَ اخْتِلَافُهُمْ وَأَنَّ إِهْلَالَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّذِي ابْتَدَأَ الْحَجَّ وَدَخَلَ بِهِ فِيهِ كَانَ فِي مُصَلَّاهُ. فَبِهَذَا نَأْخُذُ. وَيَنْبَغِي لِلرَّجُلِ إِذَا أَرَادَ الْإِحْرَامَ أَنْ يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يُحْرِمَ فِي دُبُرِهِمَا كَمَا فَعَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمُ اللهُ تَعَالَى. وَقَدْ رُوِيَ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ فِي ذَلِكَ شَيْءٌ مِمَّا رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا