শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
৫. রোযার অধ্যায়
হাদীস নং: ৩২৭৭
রোযার অধ্যায়
আশুরা দিবসের সিয়াম পালন প্রসঙ্গে
৩২৭৭। আবু বাকরা ( র ) ও আলী ইবনে শায়বা ( র ) … ইবনে আব্বাস ( র ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ ( সাঃ) আর যখন মদীনায় আগমন করেন তখন তিনি দেখতে পেলেন, ইয়াহুদীরা আশূরা'র সিয়াম পালন করছে। তিনি তাদেরকে (কারণ) জিজ্ঞাসা করেন। তারা বলল, এইদিনে আল্লাহ তা'আলা মুসা (আ) কে ফির'আউনের বিরুদ্ধে বিজয়ী করেছেন। তিনি বললেন, তাদের অপেক্ষা তোমরা (মুসলিমরা) মুসা (আ)-এর অধিক নিকটবর্তী। সুতরাং তোমরা এর সিয়াম পালন কর।
এই হাদীসে ব্যক্ত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ ( সাঃ) আল্লাহ্ তা'আলার শুকর আদায়ের জন্য এর সিয়াম পালন করেছেন, তিনি যে মুসা (আ) কে ফির'আউনের বিরুদ্ধে বিজয়ী করেছেন। সুতরাং এই সিয়াম পালন ইচ্ছাধীন বিষয়, ফরজ নয়।
এই হাদীসে ব্যক্ত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ ( সাঃ) আল্লাহ্ তা'আলার শুকর আদায়ের জন্য এর সিয়াম পালন করেছেন, তিনি যে মুসা (আ) কে ফির'আউনের বিরুদ্ধে বিজয়ী করেছেন। সুতরাং এই সিয়াম পালন ইচ্ছাধীন বিষয়, ফরজ নয়।
كتاب الصيام
3277 - مَا حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرَةَ , وَعَلِيُّ بْنُ شَيْبَةَ , قَالَا: ثنا رَوْحٌ , قَالَ: ثنا شُعْبَةُ , عَنْ أَبِي بِشْرٍ , عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ , عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ قَالَ: لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ , وَجَدَ الْيَهُودَ يَصُومُونَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ , فَسَأَلَهُمْ ; فَقَالُوا: هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي أَظْهَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فِيهِ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ عَلَى فِرْعَوْنَ. فَقَالَ: «أَنْتُمْ أَوْلَى بِمُوسَى مِنْهُمْ , فَصُومُوهُ» فَفِي هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , إِنَّمَا صَامَهُ شُكْرًا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فِي إِظْهَارِ مُوسَى عَلَى فِرْعَوْنَ , فَذَلِكَ عَلَى الِاخْتِيَارِ , لَا عَلَى الْفَرْضِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসের বাহ্যিক শব্দমালায় বুঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিজরতের পর মদীনা গিয়েই আশুরার দিন রোযা রাখতে শুরু করেছিলেন। অথচ বুখারী ও মুসলিম শরীফে হযরত আয়েশারই স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, মক্কার কুরাইশদের মধ্যে ইসলামপূর্ব যুগেও আশুরা দিবসের রোযার প্রচলন ছিল এবং স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিজরতের পূর্বে মক্কার জীবনেও এ রোযা রাখতেন। তারপর যখন তিনি মদীনায় হিজরত করলেন, তখন এখানে এসে নিজেও রোযা রাখলেন এবং মুসলমানদেরকে এ দিনের রোযা রাখার হুকুম দিলেন।
প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে এই যে, আশুরার দিনটি জাহিলিয়াত যুগে মক্কার কুরাইশদের নিকটও খুবই সম্মানিত দিন ছিল। এ দিনই কা'বা শরীফে নতুন গিলাফ দেওয়া হত এবং কুরাইশের লোকেরা এ দিন রোযা পালন করত। অনুমান এই যে, হযরত ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আঃ)-এর কিছু কথা-কাহিনী এ দিনের বেলায় তাদের কাছে সম্ভবত পৌঁছে ছিল। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ রীতি ছিল যে, কুরাইশের লোকেরা ইব্রাহীম (আঃ)-এর মিল্লাতকে জড়িয়ে যেসব ভাল কাজ করত তিনি এগুলোর মধ্যে তাদের সাথে ঐকমত্য পোষণ করতেন। এ ভিত্তিতেই তিনি হজ্বেও শরীক থাকতেন। অতএব, নিজের এ মূলনীতির ভিত্তিতে তিনি আশুরার দিন কুরাইশদের সাথে রোযাও রাখতেন; কিন্তু অন্যদেরকে এর নির্দেশ দিতেন না। তারপর তিনি যখন মদীনায় আগমন করলেন এবং এখানকার ইয়াহুদীদেরকেও রোযা রাখতে দেখলেন এবং তাদের মুখে জানতে পারলেন যে, এটা হচ্ছে ঐ পবিত্র ঐতিহাসিক দিন, যে দিন মূসা (আঃ) এবং তার সম্প্রদায়কে আল্লাহ তা'আলা মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরআউন ও তার সৈন্য-সামন্তকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন, তখন তিনি এ দিনের রোযার প্রতি বেশী গুরুত্ব প্রদান করলেন। সাথে সাথে মুসলমানদেরকে সাধারণভাবে হুকুম দিলেন যে, তারাও যেন এ দিন রোযা রাখে। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি এর জন্য এমন তাকীদপূর্ণ হুকুম দিয়েছিলেন, যেমন হুকুম ফরয-ওয়াজিব বিষয়ের জন্য দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন, বুখারী ও মুসলিম শরীফে রুবায়্যি বিনতে মুআওয়িয এবং সালামা ইবনুল আকওয়া রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, একবার আশুরার দিন হুযুর (ﷺ) সকালে মদীনার আশেপাশের আনসারদের বসতি এলাকায় এ খবর পাঠালেন যে, যেসব লোক এখন পর্যন্ত কোন কিছু পানাহার করে নাই তারা যেন আজ রোযা রাখে, আর যারা পানাহার করে নিয়েছে তারাও যেন অবশিষ্ট দিন পানাহার থেকে বিরত থাকে এবং রোযাদারদের মত দিন কাটায়।
এসব হাদীসের ভিত্তিতে অনেক ইমাম ও ফকীহ্ এ কথা বুঝেছেন যে, প্রথমে আশুরার রোযা ফরয ছিল। পরবর্তীতে যখন রমযানের রোযা ফরয হল, তখন আশুরার রোযার ফরযিয়্যত রহিত হয়ে গেল এবং এটা কেবল নফলের পর্যায়ে রয়ে গেল- যার ব্যাপারে হুযূর (ﷺ)-এর এ বাণী এই মাত্র অতিক্রান্ত হয়েছে "আশুরার রোযার ব্যাপারে আমি আশাবাদী যে, আল্লাহ্ তা'আলা এর দ্বারা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন।" আশুরার রোযার ফরয হুকুম রহিত হয়ে যাওয়ার পরও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অভ্যাস এটাই থাকল যে, তিনি রমযানের ফরয রোযার পর নফল রোযাগুলোর মধ্যে এর প্রতিই বেশী গুরুত্ব প্রদান করতেন এবং এরই প্রতি অধিক যত্নশীল ছিলেন।
প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে এই যে, আশুরার দিনটি জাহিলিয়াত যুগে মক্কার কুরাইশদের নিকটও খুবই সম্মানিত দিন ছিল। এ দিনই কা'বা শরীফে নতুন গিলাফ দেওয়া হত এবং কুরাইশের লোকেরা এ দিন রোযা পালন করত। অনুমান এই যে, হযরত ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আঃ)-এর কিছু কথা-কাহিনী এ দিনের বেলায় তাদের কাছে সম্ভবত পৌঁছে ছিল। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ রীতি ছিল যে, কুরাইশের লোকেরা ইব্রাহীম (আঃ)-এর মিল্লাতকে জড়িয়ে যেসব ভাল কাজ করত তিনি এগুলোর মধ্যে তাদের সাথে ঐকমত্য পোষণ করতেন। এ ভিত্তিতেই তিনি হজ্বেও শরীক থাকতেন। অতএব, নিজের এ মূলনীতির ভিত্তিতে তিনি আশুরার দিন কুরাইশদের সাথে রোযাও রাখতেন; কিন্তু অন্যদেরকে এর নির্দেশ দিতেন না। তারপর তিনি যখন মদীনায় আগমন করলেন এবং এখানকার ইয়াহুদীদেরকেও রোযা রাখতে দেখলেন এবং তাদের মুখে জানতে পারলেন যে, এটা হচ্ছে ঐ পবিত্র ঐতিহাসিক দিন, যে দিন মূসা (আঃ) এবং তার সম্প্রদায়কে আল্লাহ তা'আলা মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরআউন ও তার সৈন্য-সামন্তকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন, তখন তিনি এ দিনের রোযার প্রতি বেশী গুরুত্ব প্রদান করলেন। সাথে সাথে মুসলমানদেরকে সাধারণভাবে হুকুম দিলেন যে, তারাও যেন এ দিন রোযা রাখে। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি এর জন্য এমন তাকীদপূর্ণ হুকুম দিয়েছিলেন, যেমন হুকুম ফরয-ওয়াজিব বিষয়ের জন্য দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন, বুখারী ও মুসলিম শরীফে রুবায়্যি বিনতে মুআওয়িয এবং সালামা ইবনুল আকওয়া রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, একবার আশুরার দিন হুযুর (ﷺ) সকালে মদীনার আশেপাশের আনসারদের বসতি এলাকায় এ খবর পাঠালেন যে, যেসব লোক এখন পর্যন্ত কোন কিছু পানাহার করে নাই তারা যেন আজ রোযা রাখে, আর যারা পানাহার করে নিয়েছে তারাও যেন অবশিষ্ট দিন পানাহার থেকে বিরত থাকে এবং রোযাদারদের মত দিন কাটায়।
এসব হাদীসের ভিত্তিতে অনেক ইমাম ও ফকীহ্ এ কথা বুঝেছেন যে, প্রথমে আশুরার রোযা ফরয ছিল। পরবর্তীতে যখন রমযানের রোযা ফরয হল, তখন আশুরার রোযার ফরযিয়্যত রহিত হয়ে গেল এবং এটা কেবল নফলের পর্যায়ে রয়ে গেল- যার ব্যাপারে হুযূর (ﷺ)-এর এ বাণী এই মাত্র অতিক্রান্ত হয়েছে "আশুরার রোযার ব্যাপারে আমি আশাবাদী যে, আল্লাহ্ তা'আলা এর দ্বারা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন।" আশুরার রোযার ফরয হুকুম রহিত হয়ে যাওয়ার পরও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অভ্যাস এটাই থাকল যে, তিনি রমযানের ফরয রোযার পর নফল রোযাগুলোর মধ্যে এর প্রতিই বেশী গুরুত্ব প্রদান করতেন এবং এরই প্রতি অধিক যত্নশীল ছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)