শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
২. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৯০৬
নামাযের অধ্যায়
ইস্তিস্কা কিরূপ, এতে সালাত আছে কিনা ?
১৯০৬। রাওহ ইবনুল ফারাজ (রাহঃ) ..... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট অনাবৃষ্টির অভিযোগ করল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মিম্বর আনতে বললেন এবং ঈদগাহে স্থাপন করা হলো। লোকেরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলো যে নির্দিষ্ট একদিন তারা বের হবে। আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, যখন সূর্যের কিরণ প্রকাশিত হলো তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বের হলেন। তিনি মিম্বরের উপর বসে আল্লাহর প্রশংসা করলেন তারপর বললেন, আমার কাছে তোমরা তোমাদের এলাকার দুর্ভিক্ষ এবং মৌসুমী বৃষ্টিপাত বন্ধের অভিযোগ করেছ। অবশ্যই আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে তাঁর কাছে দু'আ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি তোমাদের দু'আ কবুল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারপর তিনি বললেনঃ প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক-আল্লাহ্রই প্রাপ্য, যিনি কর্মফল দিবসের মালিক, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন মা'বুদ নেই, তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন, হে আল্লাহ্! তুমি-ই আল্লাহ্! তুমি ব্যতীত কোন মা'বুদ নেই, তুমি-ই অমুখাপেক্ষী এবং আমরা হলাম মুখাপেক্ষী। আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর এবং আমাদের জন্য তুমি তা অব্যাহত রাখ যাতে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আমাদের খাদ্য ও প্রয়োজনের যথেষ্ট হয়। পরে তিনি তাঁর দু'হাত এমনভাবে উত্তোলন করেন যাতে তাঁর দুই বগলের শুভ্রতা প্রকাশ হয়ে পড়েছে। পরে দু'হাত উঠানো অবস্থায় লোকদের দিকে পিঠ ফিরালেন এবং চাদর উলটালেন। তারপর লোকদের দিকে ফিরলেন এবং মিম্বর থেকে অবতরণ করে দু'রাক'আত সালাত পড়লেন। তখন আল্লাহ্ তা'আলা (আকাশে) মেঘমালা সৃষ্টি করে দেন। যাতে শুরু হয় বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎ চমকানো। আল্লাহর হুকুমে (মেঘমালা থেকে) বৃষ্টিপাত হল। তিনি মসজিদে ফিরে আসতে না আসতে দেখা গেল সবদিকে পানিতে সয়লাব হয়ে গিয়েছে। যখন তিনি দেখতে পেলেন যে, (বৃষ্টির কারণে, লোকদের শরীরে কাপড় জড়িয়ে গিয়েছে এবং তারা দ্রুত বাড়ী-ঘরে আশ্রয় নিচ্ছে তখন তিনি হেসে দিলেন যাতে তাঁর মাড়ির দাঁতগুলো প্রকাশিত হয়ে পড়ল। আর তিনি বললেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং নিশ্চয় আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল ।
كتاب الصلاة
1906 - حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْفَرَجِ قَالَ: ثنا هَارُونُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْهَيْثَمِ الْأَيْلِيُّ قَالَ: ثنا خَالِدُ بْنُ نِزَارٍ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مَبْرُورٍ عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ: شَكَا النَّاسُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُحُوطَ الْمَطَرِ , فَأَمَرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِنْبَرٍ فَوُضِعَ فِي الْمُصَلَّى وَوَعَدَ النَّاسَ يَخْرُجُونَ يَوْمًا. قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: وَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ بَدَا حَاجِبُ الشَّمْسِ فَقَعَدَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَحَمِدَ اللهَ , ثُمَّ قَالَ: «إِنَّكُمْ شَكَوْتُمْ إِلَيَّ جَدْبَ جَنَابِكُمْ وَاسْتِئْخَارَ الْمَطَرِ عَنْ إِبَّانِ زَمَانِهِ عَنْكُمْ , وَقَدْ أَمَرَكُمْ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَدْعُوهُ وَوَعَدَكُمْ أَنْ يَسْتَجِيبَ لَكُمْ» ثُمَّ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ , مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ , لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ , اللهُمَّ أَنْتَ اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْغَنِيُّ وَنَحْنُ الْفُقَرَاءُ أَنْزِلْ عَلَيْنَا الْغَيْثَ , وَاجْعَلْ مَا أَنْزَلْتَ لَنَا قُوَّةً وَبَلَاغًا إِلَى حِينٍ» ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ فَلَمْ يَزَلْ فِي الرَّفْعِ حَتَّى بَدَا بَيَاضُ إِبْطَيْهِ. ثُمَّ حَوَّلَ إِلَى النَّاسِ ظَهْرَهُ , وَقَلَبَ أَوْ حَوَّلَ رِدَاءَهُ وَهُوَ رَافِعٌ يَدَيْهِ. ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ وَنَزَلَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ , وَأَنْشَأَ اللهُ سَحَابًا فَرَعَدَتْ وَبَرَقَتْ وَأَمْطَرَتْ بِإِذْنِ اللهِ تَعَالَى فَلَمْ يَأْتِ مَسْجِدَهُ حَتَّى سَالَتِ السُّيُولُ. فَلَمَّا رَأَى الْتِوَاءَ الثِّيَابِ عَلَى النَّاسِ وَتَسَرُّعَهُمْ إِلَى الْكِنِّ , ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ وَقَالَ: «أَشْهَدُ أَنَّ اللهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنِّي عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
'সালাতুল ইস্তিসকা' মূলতঃ সাধারণ দুর্ভিক্ষ ও সামষ্টিক বিপদ থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে আদায় করা হয় এবং এত দু'আ করা হয়, উপরে বর্ণিত হাদীস এবং অন্যান্য হাদীসসমূহের আলোকে এই সালাত সম্পর্কিত কতিপয় বিষয় জানা যায়। যথাঃ- ১. সালাতুল ইস্তিসকা উন্মুক্ত মাঠে আদায় করা উচিত, কারণ বৃষ্টি প্রার্থনার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত মাঠই যোগ্য স্থান এবং সেখানে মূলতঃ নিজ আকুতি অধিক প্রকাশ পায়।
২. জুমু'আ ও ঈদের সালাত আদায়ের জন্য যেমন গোসল করা হয় ও উত্তম পোশাক পরিধান করা হয় তদ্রূপ এ সালাতের ক্ষেত্রে প্রয়োজন নেই। বরং এর বিপরীত সম্পূর্ণ সাধারণ পোশাক পরে দুঃস্থ ও ফকীরের বেশে আল্লাহর দরবারে হাযির হওয়া উচিত। যাচ্ঞাকারীর জন্য ছেঁড়া কাপড় এবং দুঃস্থ অবস্থা বহাল রাখাই সমীচীন।
৩. নাছোড় বান্দার ন্যায় দু'আ করা উচিত এবং এ উদ্দেশ্যে আকাশের দিকে হাত অধিক উত্তোলন করা চাই।
এ হাদীসে চাদর পরিবর্তন করার বিষয় উল্লিখিত হয়েছে। অর্থাৎ নবী কারীম ﷺ কিবলামুখী হয়ে নিজ চাদর পরিবর্তন করে নেন। এর উদ্দেশ্য ছিল এই যে, হে আল্লাহ্! আমি যেভাবে চাদর উল্টিয়ে নিয়েছি তুমি তেমনি বৃষ্টি বর্ষণ করে অনাবৃষ্টির অবস্থা পরিবর্তন করে দাও। সম্ভবত হাত উঠানোর ন্যায় একাজও আমলের অংশ ছিল।
এ ছাড়া হাদীসটিতে আরও বলা হয়েছে যে, রাসূল্লাল্লাহ্ ﷺ যখন সালাতুল ইস্তিসকা আদায় করেন তখন আকাশে মেঘের সঞ্চার হয় এবং তা থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হয়, অন্যান্য সাহাবীর রিওয়ায়াতেও এ বিষয় বর্ণনা পাওয়া যায়।
আল-হামদুলিল্লাহ্! এবিষয়ে উম্মাতেরও সাধারণ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অধম তার জীবনে কমপক্ষে তিনবার এই সালাত আদায় করেছে, প্রথম শৈশবে, দ্বিতীয়বার পনের বছর বয়সে লাখনৌতে এবং তৃতীয়বার ১৯৫১ সালে পবিত্র মদীনায়। তিন বারই আল্লাহর মেহেরবাণীতে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়।
হাদীসে আরও আছে, যখন সালাত ও দু'আর ফলে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হলো তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: أَشْهَدُ أَنَّ اللهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، وَأَنِّي عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ্ তা'আলা সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান এবং আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।"
পূর্ণ দাসত্বের দাবি হিসেবে নবী কারীম ﷺ-এর সালাত এবং দু'আর ফলস্বরূপ মু'জিযারূপে বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ ﷺ এ ঘোষণা দেওয়া জরুরী মনে করেন যে এসব যা হয়েছে তা মূলতঃ আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও ইচ্ছারই অভিব্যক্তি। তাই তিনিই সার্বিক হামদ ও শুকরের মালিক, আর আমি কেবল আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। হে আল্লাহ্! তোমার বান্দা ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর প্রতি রহমত বর্ষণ কর।
২. জুমু'আ ও ঈদের সালাত আদায়ের জন্য যেমন গোসল করা হয় ও উত্তম পোশাক পরিধান করা হয় তদ্রূপ এ সালাতের ক্ষেত্রে প্রয়োজন নেই। বরং এর বিপরীত সম্পূর্ণ সাধারণ পোশাক পরে দুঃস্থ ও ফকীরের বেশে আল্লাহর দরবারে হাযির হওয়া উচিত। যাচ্ঞাকারীর জন্য ছেঁড়া কাপড় এবং দুঃস্থ অবস্থা বহাল রাখাই সমীচীন।
৩. নাছোড় বান্দার ন্যায় দু'আ করা উচিত এবং এ উদ্দেশ্যে আকাশের দিকে হাত অধিক উত্তোলন করা চাই।
এ হাদীসে চাদর পরিবর্তন করার বিষয় উল্লিখিত হয়েছে। অর্থাৎ নবী কারীম ﷺ কিবলামুখী হয়ে নিজ চাদর পরিবর্তন করে নেন। এর উদ্দেশ্য ছিল এই যে, হে আল্লাহ্! আমি যেভাবে চাদর উল্টিয়ে নিয়েছি তুমি তেমনি বৃষ্টি বর্ষণ করে অনাবৃষ্টির অবস্থা পরিবর্তন করে দাও। সম্ভবত হাত উঠানোর ন্যায় একাজও আমলের অংশ ছিল।
এ ছাড়া হাদীসটিতে আরও বলা হয়েছে যে, রাসূল্লাল্লাহ্ ﷺ যখন সালাতুল ইস্তিসকা আদায় করেন তখন আকাশে মেঘের সঞ্চার হয় এবং তা থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হয়, অন্যান্য সাহাবীর রিওয়ায়াতেও এ বিষয় বর্ণনা পাওয়া যায়।
আল-হামদুলিল্লাহ্! এবিষয়ে উম্মাতেরও সাধারণ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অধম তার জীবনে কমপক্ষে তিনবার এই সালাত আদায় করেছে, প্রথম শৈশবে, দ্বিতীয়বার পনের বছর বয়সে লাখনৌতে এবং তৃতীয়বার ১৯৫১ সালে পবিত্র মদীনায়। তিন বারই আল্লাহর মেহেরবাণীতে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়।
হাদীসে আরও আছে, যখন সালাত ও দু'আর ফলে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হলো তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: أَشْهَدُ أَنَّ اللهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، وَأَنِّي عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ্ তা'আলা সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান এবং আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।"
পূর্ণ দাসত্বের দাবি হিসেবে নবী কারীম ﷺ-এর সালাত এবং দু'আর ফলস্বরূপ মু'জিযারূপে বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ ﷺ এ ঘোষণা দেওয়া জরুরী মনে করেন যে এসব যা হয়েছে তা মূলতঃ আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও ইচ্ছারই অভিব্যক্তি। তাই তিনিই সার্বিক হামদ ও শুকরের মালিক, আর আমি কেবল আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। হে আল্লাহ্! তোমার বান্দা ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর প্রতি রহমত বর্ষণ কর।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)