শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
২. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১১৩৮
নামাযের অধ্যায়
আসরের সালাত তাড়াতাড়ি আদায় করা হবে, না বিলম্বে ?
১১৩৮। ইবনে আবু দাউদ (রাহঃ)...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতেন যে, কোন গমনকারী 'আওয়ালী' (মদিনার পার্শ্ববর্তী উঁচু মহল্লা)-তে পৌছাতো, সূর্য তখনও উপরে (উজ্জ্বল) থাকতো। ইমাম যুহরী (রাহঃ) বলেন: 'আওয়ালি' দুই-তিন মাইল দূরে অবস্থিত ছিল। আমার ধারণা তিনি চার মাইলেরও উল্লেখ করেছেন।
كتاب الصلاة
1138 - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ، قَالَ: ثنا نُعَيْمٌ، قَالَ: ثنا ابْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ: أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ «أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ , فَيَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى الْعَوَالِي , وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ» قَالَ الزُّهْرِيُّ: وَالْعَوَالِي , عَلَى الْمِيلَيْنِ وَالَثَّلَاثَةِ وَأَحْسَبُهُ قَالَ: وَالْأَرْبَعَةِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আনাস (রা) দীর্ঘজীবি ছিলেন। তিনি হিজরী প্রথম শতাব্দীর শেষদিকে ইন্তিকাল করেন। তিনি খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগের অবসানের পর উমায়্যা খিলাফতের প্রায় পঁচিশ বছর জীবিত ছিলেন। তাঁর জীবদ্দশায় বনু উমায়্যার অনেক শাসক আসরের সালাত বিলম্বে আদায় করত। হযরত আনাস (রা) এ কাজকে ভুল এবং সুন্নাত পরিপন্থী মনে করতেন এবং সময়-সুযোগমত তিনি এ বিষয়ে অভিমত প্রকাশ করতেন। এই হাদীস বর্ণনার মূলে তাঁর এ উদ্দেশ্য ছিল যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ এত বিলম্বে কখনো আসরের সালাত আদায় করতেন না। তিনি যখন আসরের সালাত আদায় করতেন তখন সূর্য ঊর্ধ্বাকাশে থাকত। দীপ্তিও অপরিবর্তিত থাকত। এমনকি তাঁর সাথে সালাত আদায় করে যদি কেউ মদীনার উপকণ্ঠে যেত তখনো সূর্য ঊর্ধ্বাকাশে দীপ্তিমানই প্রতিভাত হতো। 'আওয়ালী' মদীনার নিকটবর্তী উপকণ্ঠকে বলা হয়। এটি মদীনা থেকে পূর্বদিকে অবস্থিত। এসবের মধ্যে যেটি অদূরে সেটির ব্যবধান দুই মাইল আর যা দূরে তার দূরত্ব পাঁচ থেকে ছয় মাইল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)