শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

২. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১১২৪
আন্তর্জাতিক নং: ১১২৫
নামাযের অধ্যায়
যুহরের সালাতের মুস্তাহাব ওয়াক্ত
১১২৪-১১২৫। ফাহাদ (রাহঃ) ও আবু যুর'আ (রাহঃ) .... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে মারফু হিসাবে বর্ণনা করেন যে,
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, তােমরা যুহরের সালাত ঠাণ্ডা করে আদায় করবে। কারণ, যে গরম তােমরা অনুভব কর, তা হল জাহান্নামের নিঃশ্বাস।

বস্তুত এই সমস্ত হাদীসে প্রচণ্ড গরমের কারণে যুহরের সালাত ঠাণ্ডা করে আদায় করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর তা একমাত্র গরমকালেই হতে পারে। পক্ষান্তরে এই রিওয়ায়াতসমূহ আমাদের
উল্লিখিত প্রথমােক্ত সেই সমস্ত রিওয়ায়াতের বিরােধী, যা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, গরমকালে যুহরের সালাত তাড়াতাড়ি আদায় করা হবে।
যদি কোন ব্যক্তি বলে যে, এই দু'টির মধ্যে একটি অপরটি অপেক্ষা উত্তম হওয়ার ব্যাপারে কি প্রমাণ রয়েছে।
উত্তরে তাকে বলা হবে: যেহেতু বর্ণিত আছে যে, গরমকালে যুহরের সালাত তাড়াতাড়ি পড়া হত।
কিন্তু তা পরবর্তীতে রহিত হয়ে যায়।
كتاب الصلاة
1124 - حَدَّثَنَا فَهْدٌ، قَالَ: ثنا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، قَالَ: ثنا أَبِي، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ح

1125 - وَعَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى، يَرْفَعُهُ قَالَ: «أَبْرِدُوا بِالظُّهْرِ فَإِنَّ الَّذِي تَجِدُونَ مِنَ الْحَرِّ , مِنْ فَيْحٍ مِنْ جَهَنَّمَ» فَفِي هَذِهِ الْآثَارِ الْأَمْرُ بِالْإِبْرَادِ بِالظُّهْرِ مِنْ شِدَّةِ الْحَرِّ , وَذَلِكَ لَا يَكُونُ إِلَّا فِي الصَّيْفِ فَقَدْ خَالَفَ ذَلِكَ , مَا رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ تَعْجِيلِ الظُّهْرِ فِي الْحَرِّ عَلَى مَا ذَكَرْنَا مِنَ الْآثَارِ الْأُوَلِ. فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: فَمَا دَلَّ أَنَّ أَحَدَ الْأَمْرَيْنِ أَوْلَى مِنَ الْآخِرِ. قِيلَ لَهُ: لِأَنَّهُ قَدْ رُوِيَ أَنَّ تَعْجِيلَ الظُّهْرِ فِي الْحَرِّ , قَدْ كَانَ يُفْعَلُ ثُمَّ نُسِخَ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

দুনিয়ায় আমরা যা কিছু প্রত্যক্ষ ও অনুভব করি তার মধ্যে যেগুলোর বাহ্যিকরূপ রয়েছে তা আমরা জানি ও বুঝি। আর কিছু আছে আভ্যন্তরীণ যা আমাদের অনুভবের ঊর্ধ্বে।
নবী-রাসূলগণ কখনো কখনো ঐ সব বস্তুর প্রতি ইংগিত করেন। যেমন, আলোচ্য হাদীসে নবী কারীম ﷺ বলেছেন: গরমের মওসূমের তাপের প্রখরতা জাহান্নামের উত্তাপ থেকে উদ্ভূত। গরমের প্রখরতার বাহ্যিক কারণ সূর্য, একথা সর্বজনবিদিত এবং তা কেউ অস্বীকার করতে পারেনা। কিন্তু বাতিনী ও অদৃশ্য জগতে জাহান্নামের আগুনের সাথে রয়েছে এর নিবিড় সম্পর্ক। আর এ হচ্ছে ঐ বস্তুরই হাকীকত যা নবী রাসূলগণের মাধ্যমে জানা যায়। প্রকৃতপক্ষে, সর্বাধিক সুখ-শান্তির মূলে রয়েছে জান্নাত এবং সর্ববিধ কষ্ট ও দুঃখের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে জাহান্নাম। দুনিয়ায় যে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও দুঃখ কষ্ট রয়েছে তা আখিরাতের সীমাহীন সুখ-দুঃখের তুলনায় বিশাল সমুদ্রের অথৈ জলরাশির এক বিন্দুর সাথে তুলনীয়। সুখ-দুঃখের কেন্দ্র যেমন জান্নাত-জাহান্নাম, তদ্রুপ এক বিন্দু পানির উৎসও সমুদ্র। এই হাদীসের আলোকে তাই বলা যায় যে, গ্রীষ্ম ঋতুর প্রখরতা জাহান্নামের প্রবল তাপের সাথেই সম্পৃক্ত। মোদ্দাকথা, গরমের প্রখরতা ও দাবদাহ জাহান্নামের সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট এবং তা আল্লাহর ক্রোধেরই বহিঃপ্রকাশ। আর শীতলতা ও শৈত্য আল্লাহর অসীম রহমতেরই বহিঃপ্রকাশ এজন্যই যে মওসূমের দ্বিপ্রহরে প্রচণ্ড গরমের স্থলভাগ জাহান্নামের রূপ ধারণ করে সে মওসূমে খানিকটা বিলম্বে খরতাপ কমে ঠাণ্ডা হলেই যুহরের সালাত আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান