আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৫১- কুরআনের তাফসীর অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৪৯১
আন্তর্জাতিক নং: ৪৮৫১
- কুরআনের তাফসীর অধ্যায়
২৫৩৩. আল্লাহর বাণীঃ وسبح بحمد ربك قبل طلوع الشمس وقبل الغروب "এবং তোমার প্রতিপালকের প্রশংসা-পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে" (৫০ঃ ৩৯)
৪৪৯১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একরাতে আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে বসা ছিলাম। তখন তিনি চৌদ্দ তারিখের রজনীর চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা যেমন এ চাঁদটি দেখতে পাচ্ছ, অনুরূপভাবে তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে এবং তাঁকে দেখার ব্যাপারে (তোমরা একে অন্যের কারণে) বাধাপ্রাপ্ত হবে না। তাই তোমাদের সামর্থ্য থাকলে সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগের নামাযের ব্যাপারে প্রভাবিত হবে না। তারপর তিনি পাঠ করলেন, “আপনার রবের প্রশংসা, পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের পূর্বে।” (৫০ঃ ৩৯)
كتاب التفسير
بَابُ قَوْلِهِ: {وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الغُرُوبِ} [ق: 39]
4851 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ جَرِيرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا لَيْلَةً مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَنَظَرَ إِلَى القَمَرِ لَيْلَةَ أَرْبَعَ عَشْرَةَ، فَقَالَ: «إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا لاَ تُضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لاَ تُغْلَبُوا عَلَى صَلاَةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا، فَافْعَلُوا» ، ثُمَّ قَرَأَ: {وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الغُرُوبِ} [ق: 39]
হাদীসের ব্যাখ্যা:
পৃথিবীতে যখন কোন সুন্দর জিনিস দেখার জন্য লক্ষ-কোটি মানুষ আগ্রহ প্রকাশ করে, এবং ভীড়ের সৃষ্টি করে তখন সাধারণত কষ্ট এবং সঙ্কটের সূত্রপাত হয়। দর্শনীয় বস্তুকে সঠিকভাবে দেখা সম্ভব হয় না। কিন্তু চাঁদের ব্যাপার স্বতন্ত্র। পূর্ব ও পশ্চিমের সকল লোক কোনরূপ সঙ্কট বা কষ্ট ছাড়াই পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে একযোগে চাঁদ দেখতে পারে। তাই রাসূলে আকরাম (ﷺ) চাঁদের উপমার দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যে জান্নাতের বেশুমার খোশনসীব বান্দাহ একসঙ্গে আল্লাহকে দেখার সৌভাগ্য হাসিল করবে। কারও কোনরূপ কষ্ট হবে না, কোন সংঘর্ষ করতে হবে না বরং পরম শান্তি ও তৃপ্তিসহকারে আল্লাহ্ তা'আলার সৌন্দর্য অবলোকন করবেন।
উপসংহারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন এক আমলের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যার দ্বারা আল্লাহর বান্দাগণ এই নি'আমতের সৌভাগ্য লাভ করতে পারেন। অর্থাৎ বিশেষ যত্নসহকারে ফজর ও আসরের নামায আদায় করা যাতে অন্য কোন আকর্ষণ বান্দাকে নামায থেকে গাফেল না করতে পারে। যদিও ফরয নামাযের সংখ্যা পাঁচ কিন্তু এই দুই নামাযের বিশেষ গুরুত্ব ও ফযীলত রয়েছে। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে এই দুই নামাযের ফযীলত ও বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইশারা করেছেন।
উপসংহারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন এক আমলের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যার দ্বারা আল্লাহর বান্দাগণ এই নি'আমতের সৌভাগ্য লাভ করতে পারেন। অর্থাৎ বিশেষ যত্নসহকারে ফজর ও আসরের নামায আদায় করা যাতে অন্য কোন আকর্ষণ বান্দাকে নামায থেকে গাফেল না করতে পারে। যদিও ফরয নামাযের সংখ্যা পাঁচ কিন্তু এই দুই নামাযের বিশেষ গুরুত্ব ও ফযীলত রয়েছে। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে এই দুই নামাযের ফযীলত ও বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইশারা করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)