আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ
২৯. ত্বালাক - বিবাহ বিচ্ছেদ অধ্যায়
হাদীস নং: ১২৫৩
ত্বালাক - বিবাহ বিচ্ছেদ অধ্যায়
৩৪. আযল* এর বর্ণনা
রেওয়ায়ত ৯৫. ইবনে মুহায়রিয (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি মসজিদে প্রবেশ করিলাম। আমি (তথায়) আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ)-কে দেখিতে পাইলাম এবং আমি তাহার নিকট বসিলাম ও তাহাকে আযল সম্পর্কে প্রশ্ন করিলাম। (উত্তরে) আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) বলিলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সহিত ‘বনী মুস্তালিক’ যুদ্ধে বাহির হইলাম। আমরা (সেই যুদ্ধে) কিছু সংখ্যক আরবী যুদ্ধবন্দিনী লাভ করিলাম। (এইদিকে) নারীর প্রতি আমাদের প্রবৃত্তি জাগ্রত হইল, স্ত্রী সংশ্রব হইতে দূরে থাকা আমাদের জন্য কঠিন হইয়া দাঁড়াইল। (অপরদিকে) উহাদের মূল্য পাইতেও আমরা আগ্রহী। তাই আমরা (তাহদের সহিত) আযল করার ইচ্ছা করিলাম। আমরা বলিলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মধ্যে বিরাজমান; তাহার কাছে জিজ্ঞাসা করার পূর্বে আমরা আযল করিব (ইহা কিরূপে হয়)। আমরা এই বিষয়ে তাহার নিকট প্রশ্ন করিলাম। তিনি বলিলেন, ইহা না করিলে তোমাদের কোন ক্ষতি নাই। কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যত প্রাণীর জন্ম অবধারিত উহা অবশ্যই অস্তিতে আসিবে।
كتاب الطلاق
بَاب مَا جَاءَ فِي الْعَزْلِ
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ أَنَّهُ قَالَ دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَرَأَيْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ فَسَأَلْتُهُ عَنْ الْعَزْلِ فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ بَنِي الْمُصْطَلِقِ فَأَصَبْنَا سَبْيًا مِنْ سَبْيِ الْعَرَبِ فَاشْتَهَيْنَا النِّسَاءَ وَاشْتَدَّتْ عَلَيْنَا الْعُزْبَةُ وَأَحْبَبْنَا الْفِدَاءَ فَأَرَدْنَا أَنْ نَعْزِلَ فَقُلْنَا نَعْزِلُ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَظْهُرِنَا قَبْلَ أَنْ نَسْأَلَهُ فَسَأَلْنَاهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ مَا عَلَيْكُمْ أَنْ لَا تَفْعَلُوا مَا مِنْ نَسَمَةٍ كَائِنَةٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلَّا وَهِيَ كَائِنَةٌ
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
*সহবাসের সময় বাহিরে বীর্যপাত করাকে 'আযল' বলা হয়। আযল সম্পর্কে সাহাবী এবং তাহাদের পরবর্তী আলিমদের মধ্যে বিভিন্ন মত রহিয়াছে। জাবির ইবন আব্বাস, সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস, যায়দ ইবন সাবিত, ইবন মাসউদ (রা) প্রমুখ সাহাবী আযল বৈধ বলিয়া মত পোষণ করেন। ইবন মুসায়্যাব, তাউস, আতানায়'য়ী, মালিক, শাফিঈ (র) প্রমুখ তাবেয়ী ও ইমাম আযলের অনুমতি দিয়াছেন বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে।
আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) ইহাকে নিষেধ করিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন যদি কেহ আযল করিয়াছে বলিয়া আমি জানি তবে তাহাকে শাস্তি দিব। উমর (রা) তাঁহার কোন পুত্রকে আযল করার কারণে শাস্তি দিয়াছেন। উসমান (রা)-ও আযলকে পছন্দ করিতেন না। আবূ উসামা (রা) বলেন : কোন মুসলমান আযল করে বলিয়া আমি মনে করি না। আলী (রা) আযলকে পছন্দ করিতেন না বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে। প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হাকিম ইবন হাজর (র) বর্ণনা করেন যে, ইবন হাযম (র) আযলকে হারাম জানিতেন। কেননা হাদীস শরীফে ইহাকে গুপ্ত হত্যা বলা হইয়াছে। হাদীসটি 'মুসলিম'-এ বর্ণিত হইয়াছে। আযল নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ বর্ণনায় আলিমগণ বলিয়াছেন : ইহাতে স্ত্রীর হক নষ্ট করা হয় এবং বংশ বৃদ্ধি রোধ করা হয় অথচ রাসূলুল্লাহ্ (সা) বংশ বৃদ্ধির প্রতি উৎসাহিত করিয়া বলিয়াছেন : অধিক ভালবাসে এবং অধিক সন্তান জন্ম দেয় সেরূপ স্ত্রীকে বিবাহ কর। কারণ আমি আমার উম্মতের আধিক্যের উপর গর্ব করিব – আবূ দাউদ অন্য কারণ আযল করাতে তকদীরকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা হয়। — আওজাযুল মাসালিক
আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) ইহাকে নিষেধ করিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন যদি কেহ আযল করিয়াছে বলিয়া আমি জানি তবে তাহাকে শাস্তি দিব। উমর (রা) তাঁহার কোন পুত্রকে আযল করার কারণে শাস্তি দিয়াছেন। উসমান (রা)-ও আযলকে পছন্দ করিতেন না। আবূ উসামা (রা) বলেন : কোন মুসলমান আযল করে বলিয়া আমি মনে করি না। আলী (রা) আযলকে পছন্দ করিতেন না বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে। প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হাকিম ইবন হাজর (র) বর্ণনা করেন যে, ইবন হাযম (র) আযলকে হারাম জানিতেন। কেননা হাদীস শরীফে ইহাকে গুপ্ত হত্যা বলা হইয়াছে। হাদীসটি 'মুসলিম'-এ বর্ণিত হইয়াছে। আযল নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ বর্ণনায় আলিমগণ বলিয়াছেন : ইহাতে স্ত্রীর হক নষ্ট করা হয় এবং বংশ বৃদ্ধি রোধ করা হয় অথচ রাসূলুল্লাহ্ (সা) বংশ বৃদ্ধির প্রতি উৎসাহিত করিয়া বলিয়াছেন : অধিক ভালবাসে এবং অধিক সন্তান জন্ম দেয় সেরূপ স্ত্রীকে বিবাহ কর। কারণ আমি আমার উম্মতের আধিক্যের উপর গর্ব করিব – আবূ দাউদ অন্য কারণ আযল করাতে তকদীরকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা হয়। — আওজাযুল মাসালিক
বর্ণনাকারী: