আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ

২৯. ত্বালাক - বিবাহ বিচ্ছেদ অধ্যায়

হাদীস নং: ১২৩৬
ত্বালাক - বিবাহ বিচ্ছেদ অধ্যায়
২৯. তালাকের বিবিধ প্রসঙ্গ
রেওয়ায়ত ৭৮. মালিক (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুর রহমান ইবনে যায়দ ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-এর উম্মে ওয়ালাদ-কে সাবিতুল আহনাফ (রাহঃ) বিবাহ করিলেন। সাবিত বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে যায়দ ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) আমাকে ডাকিয়া পাঠাইলেন, আমি তাহার নিকট আসিলাম এবং তাহার সমীপে প্রবেশ করিয়া দেখিলাম, সেখানে কয়েকটি চাবুক ও দুইটি লৌহ শিকল (আর তাহার নিকটে রহিয়াছে) উপবিষ্ট তাহার দুইজন ক্রীতদাস। তারপর আমাকে বলিলেন, তুমি স্ত্রীকে তালাক দাও, নতুবা আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে এইরূপ এইরূপ করিব (অর্থাৎ চাবুক মারিব ও শিকল পরাইব)। সাবিত বলিলেনঃ (চাপ দেখিয়া) আমি বলিলাম, এই স্ত্রীকে তালাক এক হাজার বার। তারপর সাবিত বলেন- আমি তাহার নিকট হইতে প্রস্থান করিলাম।

মক্কার পথে আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর সাক্ষাত পাইলাম, আমি তাহাকে আমার ব্যাপার অবহিত করিলাম। (শুনিয়া) আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) রাগান্বিত হইলেন এবং বলিলেনঃ ইহা (কোন) তালাক নহে, তোমার স্ত্রী তোমার জন্য হারাম হয় নাই। তুমি তোমার স্ত্রী গ্রহণ কর, আমার মনে (কিন্তু) শান্তি আসিল না। তাই আমি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র (রাযিঃ)-এর নিকট হাযির হইলাম। তিনি ছিলেন তখন মক্কার শাসনকর্তা। আমি তাহাকে বিষয়টি অবহিত করিলাম এবং আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) যাহা বলিয়াছেন তাহাও জানাইলাম। (ঘটনা শ্রবণ করিয়া) আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র (রাযিঃ) আমাকে বলিলেনঃ তোমার স্ত্রী তোমার জন্য হারাম হয় নাই, তুমি তাহার দিকে রুজু কর। তিনি জাবির ইবনে আসওয়াদ যুহরী তৎকালীন মদীনার গভর্নরকে নির্দেশ দিয়া লিখিলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমানকে শাস্তি দাও এবং সাবিতের স্ত্রীর সহিত তাহার মিলনের পথে বাধা অপসারিত কর। সাবিত বলেনঃ তখন আমি মদীনাতে যাই। অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর পত্নী সফিয়্যা তাহার স্বামীর জ্ঞাতসারে আমার স্ত্রীকে সজ্জিত করিয়া আমার নিকট প্রেরণ করিলেন। অতঃপর আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে ওয়ালীমার যিয়াফতে আমন্ত্রণ জানাইলাম। তিনি উহা গ্রহণ করেন এবং ওয়ালীমায় যোগদান করেন।
كتاب الطلاق
بَاب جَامِعِ الطَّلَاقِ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ثَابِتِ بْنِ الْأَحْنَفِ أَنَّهُ تَزَوَّجَ أُمَّ وَلَدٍ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ فَدَعَانِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ فَجِئْتُهُ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ فَإِذَا سِيَاطٌ مَوْضُوعَةٌ وَإِذَا قَيْدَانِ مِنْ حَدِيدٍ وَعَبْدَانِ لَهُ قَدْ أَجْلَسَهُمَا فَقَالَ طَلِّقْهَا وَإِلَّا وَالَّذِي يُحْلَفُ بِهِ فَعَلْتُ بِكَ كَذَا وَكَذَا قَالَ فَقُلْتُ هِيَ الطَّلَاقُ أَلْفًا قَالَ فَخَرَجْتُ مِنْ عِنْدِهِ فَأَدْرَكْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ بِطَرِيقِ مَكَّةَ فَأَخْبَرْتُهُ بِالَّذِي كَانَ مِنْ شَأْنِي فَتَغَيَّظَ عَبْدُ اللَّهِ وَقَالَ لَيْسَ ذَلِكَ بِطَلَاقٍ وَإِنَّهَا لَمْ تَحْرُمْ عَلَيْكَ فَارْجِعْ إِلَى أَهْلِكَ قَالَ فَلَمْ تُقْرِرْنِي نَفْسِي حَتَّى أَتَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ بِمَكَّةَ أَمِيرٌ عَلَيْهَا فَأَخْبَرْتُهُ بِالَّذِي كَانَ مِنْ شَأْنِي وَبِالَّذِي قَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ قَالَ فَقَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ لَمْ تَحْرُمْ عَلَيْكَ فَارْجِعْ إِلَى أَهْلِكَ وَكَتَبَ إِلَى جَابِرِ بْنِ الْأَسْوَدِ الزُّهْرِيِّ وَهُوَ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ يَأْمُرُهُ أَنْ يُعَاقِبَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَأَنْ يُخَلِّيَ بَيْنِي وَبَيْنَ أَهْلِي قَالَ فَقَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَجَهَّزَتْ صَفِيَّةُ امْرَأَةُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ امْرَأَتِي حَتَّى أَدْخَلَتْهَا عَلَيَّ بِعِلْمِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ثُمَّ دَعَوْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَوْمَ عُرْسِي لِوَلِيمَتِي فَجَاءَنِي
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান