আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ
২৮. বিবাহ-শাদীর অধ্যায়
হাদীস নং: ১১১৪
বিবাহ-শাদীর অধ্যায়
৭. মুহাল্লিল* এর বিবাহ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিবাহ
রেওয়ায়ত ১৭. যুবাইর ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে যবীর (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, রিফা’আ ইবনে সিমওয়াল (রাহঃ) তাহার স্ত্রী তামীম বিনতে ওয়াহবকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময়ে তিন তালাক দিলেন। অতঃপর তামীম আব্দুর রহমান ইবনে যীরকে বিবাহ করিলেন। কিন্তু তাহার সহিত মিলিত হইতে বিপত্তি ঘটিল যদ্দরুন আব্দুর রহমান তাহাকে স্পর্শ করিতে পারিল না। তাই তিনি তামীমাকে ত্যাগ করিলেন। অতঃপর রিফা’আ তাহাকে বিবাহ করিতে ইচ্ছা করিলেন। এই রিফা’আ তাহার প্রথম স্বামী যিনি তাহাকে তালাক দিয়াছিলেন। রিফা’আ এই বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উত্থাপন করিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তামীমাকে বিবাহ করিতে তাহাকে নিষেধ করিলেন এবং বলিলেন لاَ تَحِلُّ لَكَ حَتَّى تَذُوقَ الْعُسَيْلَةَ “(অন্য স্বামী) সহবাস না করা পর্যন্ত তামীমা তোমার জন্য হালাল হইবে না।”
كتاب النكاح
بَاب نِكَاحِ الْمُحَلِّلِ وَمَا أَشْبَهَهُ
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ الْمِسْوَرِ بْنِ رِفَاعَةَ الْقُرَظِيِّ عَنْ الزُّبَيْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الزَّبِيرِ أَنَّ رِفَاعَةَ بْنَ سِمْوَالٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ تَمِيمَةَ بِنْتَ وَهْبٍ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثًا فَنَكَحَتْ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزَّبِيرِ فَاعْتَرَضَ عَنْهَا فَلَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يَمَسَّهَا فَفَارَقَهَا فَأَرَادَ رِفَاعَةُ أَنْ يَنْكِحَهَا وَهُوَ زَوْجُهَا الْأَوَّلُ الَّذِي كَانَ طَلَّقَهَا فَذَكَرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَهَاهُ عَنْ تَزْوِيجِهَا وَقَالَ لَا تَحِلُّ لَكَ حَتَّى تَذُوقَ الْعُسَيْلَةَ
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
*তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলাকে তাহার তালাকদাতা পূর্ব স্বামীর সহিত বিবাহ হালাল করার জন্য যে ব্যক্তি বিবাহ করে এবং পরে তালাক দেয় এইরূপ ব্যক্তিকে মুহাল্লিল বলা হয়।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
শরীয়তের এ নির্দেশ কুরআন মজীদেও বর্ণিত হয়েছে। সূরা বাকারায় বলা হয়েছে:
فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ
(অর্থাৎ স্বামী যদি স্ত্রীকে দুই তালাকের পর তৃতীয় তালাকও দিয়ে দেয় তবে সেই মহিলা এ স্বামীর জন্য তত সময় পর্যন্ত হালাল হবে না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামীর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়)। এরপর সেই দ্বিতীয় স্বামী যদি মৃত্যুবরণ করে অথবা তালাক দিয়ে দেয় তবে ইদ্দত পূর্ণ করার পর প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।
বস্তুত আলোচ্য হাদীস থেকে এবং এছাড়াও বিভিন্ন হাদীসমূহ থেকে উল্লিখিত আয়াতের তাফসীর ও ব্যাখা এই জানা গেল যে, অন্য স্বামীর সাথে কেবল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যথেষ্ট নয় বরং সেই কাজও প্রয়োজন যা বিবাহের বিশেষ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এ বিষয়ে উম্মতের অধিকাংশ আলিমগণের অভিমত এটাই। বিষয় হচ্ছে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে যদি সহবাসের বাধ্যবাধকতা না থাকে তবে দ্বিতীয় বিবাহের শর্ত একেবারে মূল্যহীন ও অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে।
فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ
(অর্থাৎ স্বামী যদি স্ত্রীকে দুই তালাকের পর তৃতীয় তালাকও দিয়ে দেয় তবে সেই মহিলা এ স্বামীর জন্য তত সময় পর্যন্ত হালাল হবে না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামীর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়)। এরপর সেই দ্বিতীয় স্বামী যদি মৃত্যুবরণ করে অথবা তালাক দিয়ে দেয় তবে ইদ্দত পূর্ণ করার পর প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।
বস্তুত আলোচ্য হাদীস থেকে এবং এছাড়াও বিভিন্ন হাদীসমূহ থেকে উল্লিখিত আয়াতের তাফসীর ও ব্যাখা এই জানা গেল যে, অন্য স্বামীর সাথে কেবল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যথেষ্ট নয় বরং সেই কাজও প্রয়োজন যা বিবাহের বিশেষ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এ বিষয়ে উম্মতের অধিকাংশ আলিমগণের অভিমত এটাই। বিষয় হচ্ছে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে যদি সহবাসের বাধ্যবাধকতা না থাকে তবে দ্বিতীয় বিবাহের শর্ত একেবারে মূল্যহীন ও অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: