মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৩০- নবীজী সাঃ এর মর্যাদা ও শামাঈল অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৮১২
- নবীজী সাঃ এর মর্যাদা ও শামাঈল অধ্যায়
প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা
৫৮১২। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ)-এর নিকট প্রস্তাব করা হইল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। কাফের-মুশরিকদের উপর বদ্-দোআ করুন। উত্তরে তিনি বলিলেনঃ আমাকে অভিসম্পাতকারী করিয়া পাঠান হয় নাই; বরং আমাকে রহমতস্বরূপ পাঠান হইয়াছে। —মুসলিম
كتاب الفضائل والشمائل
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ عَلَى الْمُشْرِكِينَ. قَالَ: «إِنِّي لَمْ أُبْعَثْ لَعَّانًا وَإِنَّمَا بُعِثْتُ رَحْمَةً» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে কাফের ও মুশরিকগণ তাঁর এবং তাঁর আনীত সত্য দ্বীনের চরম শত্রু ছিল। স্বয়ং তাঁকে এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নকারীদেরকে তারা বিভিন্ন রকম কষ্ট দিত। এমনকি হুযুর (ﷺ)-কে আপন প্রিয় ও পবিত্র মাতৃভূমি ছাড়তে হয়েছিল। এরপরও তাদের ফিতনা-ফ্যাসাদ এবং অপতৎপরতা চলতেই থাকে। এক সময় সাহাবায়ে কেরামের পক্ষ থেকে আবেদন করা হল যে, এসব জালেম ও পাপিষ্ঠদের বিরুদ্ধে আপনি বদদু‘আ করুন, যেন আল্লাহ্ তাদের উপর নিজের ক্রোধ ও আযাব নাযিল করেন এবং তাদেরকে ধ্বংস করে দেন- যেমন পূর্ববর্তী অনেক উম্মতের এমন জালেম ও কাফেরদের উপর আযাব নাযিল হয়েছে এবং পৃথিবীকে তাদের অস্তিত্ব থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। হুযুর (ﷺ) এ আব্দারের উত্তরে বললেন যে, আল্লাহ তা'আলা আমাকে এ জন্য প্রেরণ করেননি যে, আমি অভিশাপ ও বদদু‘আ দিব, আমাকে তো সারা জাহানের জন্য রহমত হিসাবে প্রেরণ করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর পবিত্র কিতাবে এরশাদ করেছেন: وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا رَحۡمَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)