মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৯- সৃষ্টির সূচনা ও কিয়ামত পরবর্তী বর্ণনা
হাদীস নং: ৫৫৬৬
- সৃষ্টির সূচনা ও কিয়ামত পরবর্তী বর্ণনা
প্রথম অনুচ্ছেদ - হাওযে কাওসার ও শাফাআতের বর্ণনা
৫৫৬৬। হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ (মে'রাজের রাত্রে) জান্নাত ভ্রমণকালে হঠাৎ আমি একটি নহরের নিকট উপস্থিত হইলাম, যাহার উভয় পার্শ্বে গর্ভশূন্য মুক্তার গুম্বদ সাজানো রহিয়াছে। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম; হে জিবরাঈল। ইহা কি? তিনি বলিলেন, ইহাই সেই কাওসার যাহা আপনার রব আপনাকে দান করিয়াছেন। উহার মাটি মেশকের ন্যায় সুগন্ধময়। বুখারী
كتاب أحوال القيامة وبدء الخلق
بَاب الْحَوْض والشفاعة: الْفَصْل الأول
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: بَيْنَا أَنَا أَسِيرُ فِي الجنَّةِ إِذا أَنا بنهر حافتاه الدُّرِّ الْمُجَوَّفِ قُلْتُ: مَا هَذَا يَا جِبْرِيلُ؟ قَالَ: الْكَوْثَرُ الَّذِي أَعْطَاكَ رَبُّكَ فَإِذَا طِينُهُ مِسْكٌ أذفر . رَوَاهُ البُخَارِيّ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. আল্লাহ্ তা'আলা বলিয়াছেনঃ إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ “নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করিয়াছি।” আর শাফা'আত সম্পর্কে বলিয়াছেনঃ وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَىٰ “এবং অচিরেই আপনাকে (এমন কিছু) প্রদান করা হইবে যাহাতে আপনি সন্তুষ্ট হইয়া যাইবেন।” এই প্রসঙ্গে নবী করীম (ﷺ) বলিয়াছেনঃ আমার একটি গোনাহগার উম্মত জাহান্নামে থাকিতে আমি সন্তুষ্ট হইব না। অপর এক আয়াতে আল্লাহ্ পাক বলিয়াছেনঃ عَسَى أَن يُبْعَثُكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا জমহুর উলামাগণ বলিয়াছেন, ইহা দ্বারা শাফা'আত উদ্দেশ্য করা হইয়াছে। আল্লামা সুয়ূতী (রহঃ) বলিয়াছেন, খোলাফায়ে রাশেদাসহ পঞ্চাশের অধিক সাহাবী হইতে হাউযে কাওসার ও শাফা'আতুন্নবী (ﷺ) সম্পর্কে সহীহ হাদীস বর্ণিত হইয়াছে।
২. জান্নাত ভ্রমণকালে হাওযে কাওসারের নিকট উপস্থিত হওয়ার যে বিষয় নবী করীম (ﷺ) আলোচ্য হাদীসে উল্লেখ করেছেন তা সম্ভবতঃ শবে মে'রাজের ঘটনা। নবী করীম (ﷺ) -এর প্রশ্নের জবাবে জিবরাঈল (আ)-এর উক্তি এটা হাওযে কাওসার যা আপনার রব আপনাকে দান করেছেন তা কুরআন শরীফের আয়াত - إِنَّا أَعْطَيْنَكَ الْكَوْثَرُ এর দিকে ইঙ্গিত প্রদান করে। এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, আমি আপনাকে কাওসার প্রদান করেছি কাওসারের অর্থ হল প্রচুর কল্যাণ। আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কল্যাণের যে ভাণ্ডার প্রদান করেছেন তা হল, কুরআন, শরীয়াত, উচ্চ রূহানী সিফাত, দুনিয়া এবং আখিরাতে উচ্চ মর্যাদা প্রদান প্রভৃতি। যদিও এসব বিষয় কাওসারের অন্তর্ভুক্ত তবুও 'কাওসার' শব্দের খাস মিসদাক হল জান্নাতের প্রস্রবণ। এটা মনে রাখা দরকার যে দীন ও ঈমানের যে নি'আমত আল্লাহ তার রাসূল (ﷺ)-কে দান করেছেন এবং তার মাধ্যমে আল্লাহর বেশুমার বান্দাহর নিকট পৌঁছেছে আখিরাতে হাওযে কাওসার এবং নহরে কাওসারের রূপ নিয়ে তার প্রকাশ ঘটবে এবং তা থেকে আল্লাহর বেশুমার বান্দাহ কল্যাণ লাভকরবে এবং তৃষ্ণা নিবারণ করবে।
২. জান্নাত ভ্রমণকালে হাওযে কাওসারের নিকট উপস্থিত হওয়ার যে বিষয় নবী করীম (ﷺ) আলোচ্য হাদীসে উল্লেখ করেছেন তা সম্ভবতঃ শবে মে'রাজের ঘটনা। নবী করীম (ﷺ) -এর প্রশ্নের জবাবে জিবরাঈল (আ)-এর উক্তি এটা হাওযে কাওসার যা আপনার রব আপনাকে দান করেছেন তা কুরআন শরীফের আয়াত - إِنَّا أَعْطَيْنَكَ الْكَوْثَرُ এর দিকে ইঙ্গিত প্রদান করে। এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, আমি আপনাকে কাওসার প্রদান করেছি কাওসারের অর্থ হল প্রচুর কল্যাণ। আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কল্যাণের যে ভাণ্ডার প্রদান করেছেন তা হল, কুরআন, শরীয়াত, উচ্চ রূহানী সিফাত, দুনিয়া এবং আখিরাতে উচ্চ মর্যাদা প্রদান প্রভৃতি। যদিও এসব বিষয় কাওসারের অন্তর্ভুক্ত তবুও 'কাওসার' শব্দের খাস মিসদাক হল জান্নাতের প্রস্রবণ। এটা মনে রাখা দরকার যে দীন ও ঈমানের যে নি'আমত আল্লাহ তার রাসূল (ﷺ)-কে দান করেছেন এবং তার মাধ্যমে আল্লাহর বেশুমার বান্দাহর নিকট পৌঁছেছে আখিরাতে হাওযে কাওসার এবং নহরে কাওসারের রূপ নিয়ে তার প্রকাশ ঘটবে এবং তা থেকে আল্লাহর বেশুমার বান্দাহ কল্যাণ লাভকরবে এবং তৃষ্ণা নিবারণ করবে।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)