মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫২৯০
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইবাদতের জন্য হায়াত ও দৌলতের আকাঙ্ক্ষা করা
৫২৯০। হযরত নবী করীম (ﷺ)-এর জনৈক সাহাবী (রাঃ) বলেন, একদা আমরা এক মজলিসে বসা ছিলাম, এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের মধ্যে এই অবস্থায় আগমন করিলেন যে, তাঁহার মাথায় পানির চিহ্ন ছিল। (অর্থাৎ, সদ্য গোসল করিয়াছেন।) আমরা বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা আপনাকে প্রফুল্ল দেখিতেছি। তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, ঠিকই। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকজন মাল-সম্পদের আলোচনায় লিপ্ত হইলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেনঃ যে ব্যক্তি মহাপরাক্রমশালী আল্লাহকে ভয় করে তাহার জন্য সম্পদশালী হওয়াতে কোন দোষ নাই। বস্তুতঃ মুত্তাকীর জন্য সুস্থ হওয়া সম্পদশালী হওয়া অপেক্ষা অনেক উত্তম এবং মানসিক প্রশান্তি আল্লাহ্ পাকের নেয়ামতসমূহের অন্যতম একটি নেয়ামত। — আহমদ
كتاب الرقاق
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ
عَنْ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كُنَّا فِي مَجْلِسٍ فَطَلَعَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى رَأْسِهِ أَثَرُ مَاءٍ فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ نَرَاكَ طَيِّبَ النَّفْسِ. قَالَ: أَجَلْ. قَالَ: ثُمَّ خَاضَ الْقَوْمُ فِي ذِكْرِ الْغِنَى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا بَأْسَ بِالْغِنَى لِمَنِ اتَّقَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَالصِّحَّةُ لِمَنِ اتَّقَى خَيْرٌ مِنَ الْغِنَى وَطِيبُ النَّفس من النَّعيم» رَوَاهُ أَحْمد

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. অর্থাৎ, খোদাভীরু, শোকরগোযার মালদার হওয়া দূষণীয় নয় বটে, তবে নীরোগ, স্বাস্থ্যবান ও মানসিক প্রফুল্লতায় থাকা উহা হইতে অধিক শ্রেয়। কেননা, পার্থিব সম্পদের জবাবদিহি হইবে অনেক কঠিন।

২. যারা আল্লাহকে ভয় করেন তারা নিজেদের ধন-দৌলত ভুল-পথে খরচ করেন না। মুত্তাকী ব্যক্তি দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতের ভোগ-বিলাসকে অগ্রাধিকার দেন। তাই তিনি ধন-দৌলতকে এমন সব কাজে ব্যয় করেন যার প্রতিফল আল্লাহ তাকে আখিরাতের জীবনে দান করবেন। আল্লাহ-ভীরু ব্যক্তিগণ অসৎ ও অন্যায় উপায়ে অর্থ উপার্জনে করেন না; সম্পদ উপার্জনের জন্য নিজের যাবতীয় যোগ্যতাও নিয়োজিত করেন না। মুসলমান হিসেবে তাদের অবশ্য পালনীয় যে সব যিম্মাদারী রয়েছে, তা সম্পাদন করার ক্ষেত্রে অর্থ উপার্জন বাধা সৃষ্টি করলে তা তারা উপেক্ষা করে দীনের যিম্মাদারী পালন করেন। সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও তারা খুব সতর্ক থাকেন। তারা সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করেন। প্রয়োজন মোতাবিক খরচ করেন। খরচের ব্যাপারে কার্পণ্য করেন না আবার ইসরাফ বা অতিব্যয়ও করেন না। তাই আল্লাহর নবী তাকওয়া ও আল্লাহ-ভীতির সাথে ধন-দৌলতকে আপত্তিকর মনে করেননি।

নবী করীম ﷺ আল্লাহ-ভীরু ব্যক্তির স্বাস্থ্যকে তার সম্পদের চেয়েও উত্তম জ্ঞান করেছেন। কারণ আল্লাহ-ভীরু ব্যক্তি দিন-রাত আখিরাতের চিন্তা করেন এবং আখিরাত যাতে সুন্দর ও সুখকর হয়, তার জন্য আমলও করেন। তাই তিনি ভাল স্বাস্থ্যের অধিকারী হলে আখিরাতের পাথেয় সঞ্চয়ে বেশি সময় ও শ্রম কুরবান করে আল্লাহর কুরবত বা নৈকট্য হাসিল করতে পারবেন। অধিকন্ত আল্লাহ-ভীরু মালদার ব্যক্তিকে আখিরাতের যিন্দেগীতে হিসাব-নিকাশের যে ঝামেলা পোহাতে হবে, আল্লাহ-ভীরু স্বাস্থ্যবান ব্যক্তিকে তা পোহাতে হবে না। সম্পদ যেরূপ আল্লাহর নিয়ামত, মনের প্রফুল্লতাও সেরূপ আল্লাহর নিয়ামত। সম্পদের দ্বারা মনের প্রফুল্লতা হাসিল করা যায় না। বস্তুত আল্লাহর যিকিরে মনের শান্তি ও প্রফুল্লতা রয়েছে।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান