মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫২৫০
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন
৫২৫০। হযরত কাতাদাহ্ ইবনে নো'মান (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ আল্লাহ্ যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন তখন তাহাকে দুনিয়া হইতে এমনভাবে হেফাযত করেন যেমনিভাবে তোমাদের কেহ আপন (বিশেষ) রোগীকে পানি হইতে বাঁচাইয়া রাখে। – আহমদ ও তিরমিযী
كتاب الرقاق
وَعَن قَتَادَة بن النُّعْمَان أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذا أحب الله عبداحماه الدُّنْيَا كَمَا يَظَلُّ أَحَدُكُمْ يَحْمِي سَقِيمَهُ الْمَاءَ» . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের স্পৃহা এমন এক রোগের সমতুল্য যা মানুষের অন্তরের সুকুমার বৃত্তিসমূহকে নষ্ট করে দেয়। দুনিয়া উপভোগ করার রোগ যার রয়েছে, সে কখনো জ্ঞান-বিজ্ঞানের কঠিন সাধনায় নিজেকে নিযুক্ত করতে পারে না বা দীনের কঠিন পথ অতিক্রম করার সাহস সে করতে পারে না। দুনিয়া-পরস্ত ব্যক্তি দুনিয়ার অপরাপর মঙ্গল থেকে বঞ্চিত থাকে। তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাকে তাঁর নিয়ামত ও বরকত দান করতে চান, তাকে তিনি দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের স্পৃহা থেকে রক্ষা করেন, যাতে সে উত্তম মন-মানসিকতা নিয়ে সুন্দর ও কল্যাণের সেবা করতে পারে।

উপায়-উপকরণ এবং ধন-দৌলতের প্রাচুর্য ও অপ্রতুলতাকে মানুষ সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য মনে করে থাকে। ধন-দৌলত আল্লাহর অন্যতম নিয়ামত হলেও তার বণ্টন সর্বদা সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যের ভিত্তিতে করা হয় না। ধন-দৌলত কোন কোন ক্ষেত্রে পরীক্ষার বিষয়বস্তু হয়ে থাকে এবং ধন-দৌলতের অপ্রতুলতা কল্যাণকর বিবেচিত হয়। তাই সর্বদা প্রার্থনা করা দরকার যাতে ধন-দৌলত আমাদের জন্য ফিতনার কারণ না হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান