মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৬- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়
হাদীস নং: ৫১৩৫
- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়
২১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - অত্যাচার
৫১৩৫। হযরত আওস ইবনে শোরাহবীল (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি কোন যালিমের শক্তি বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে তাহার সঙ্গে চলে; অথচ সে জানে যে, ঐ ব্যক্তি যালিম, তখন সে ইসলাম হইতে বাহির হইয়া গেল।
كتاب الآداب
وَعَن أوْسِ
بن شَرحبيل أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ مَشَى مَعَ ظَالِمٍ لِيُقَوِّيَهُ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ ظَالِمٌ فَقَدْ خَرَجَ مِنَ الْإِسْلَام»
بن شَرحبيل أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ مَشَى مَعَ ظَالِمٍ لِيُقَوِّيَهُ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ ظَالِمٌ فَقَدْ خَرَجَ مِنَ الْإِسْلَام»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যালিমকে যালিম জানা সত্ত্বেও সাহায্য-সহযোগিতা করা মারাত্মক অপরাধ। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যালিমের সাহায্যকারীকে ইসলাম থেকে বের হয়ে গিয়েছে বলে আখ্যায়িত করেছেন। নবী (ﷺ)-এর এই ইরশাদের প্রেক্ষাপটে আমরা সহজে অনুধাবন করতে পারি যে, যুলুম ঈমান এবং ইসলামের পরিপন্থী এবং যালেম ব্যক্তি কত বিরাট অপরাধী।
[বিঃ দ্রঃ যালিমের যুলুমকে উৎখাত করা এবং যালিমের যুলুম থেকে আল্লাহর বান্দাদের রক্ষা করা মুসলমানদের নৈতিক ও দীনী কর্তব্য। মুসলিম উম্মাহকে এজন্য সৃষ্টি করা হয়েছে যে, তারা মানবজাতিকে আল্লাহর বন্দেগীর দিকে আহবান করবে এবং তাদেরকে আল্লাহর আহকামের অধীন করে দুনিয়ার যাবতীয় অন্যায় অত্যাচারের অবসান ঘটাবে। এ দায়িত্ব পালনের জন্য সামর্থ্যানুযায়ী সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে। এমতাবস্থায় কোন ব্যক্তির যুলুম বন্ধ করার চেষ্টার পরিবর্তে যালিমকে সাহায্যের জন্য অগ্রসর হলে বুঝতে হবে, তার হৃদয় শুধুমাত্র ঈমান শূন্যই নয়, বরং ঈমানের বিপরীত চিন্তা দ্বারা পরিপূর্ণ। এজন্যই নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, যালিমের সাহায্যকারী ইসলামের গন্ডি বহির্ভূত।
অন্য এক হাদীস তিরমিযী, আবু দাউদ ও ইবনে মাজায় বর্ণিত হয়েছে। তাতে আবু সাঈদ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: অত্যাচারী শাসকের সামনে হক কথা বলা উত্তম জিহাদ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নবী করীম (ﷺ) কাবা প্রাঙ্গনে প্রদত্ত এক ভাষণে আল্লাহর মাখলুকের উপর রহম করার জন্য মানবজাতিকে উপদেশ দেন। উক্ত ভাষণের একস্থানে তিনি বলেন: যে মহামহিম আল্লাহর হাতে আমার জীবন তার শপথ। রহমশীল ছাড়া কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে আযাব দেবেন যারা দুনিয়াতে মানুষকে কষ্ট দেয়।
[বিঃ দ্রঃ যালিমের যুলুমকে উৎখাত করা এবং যালিমের যুলুম থেকে আল্লাহর বান্দাদের রক্ষা করা মুসলমানদের নৈতিক ও দীনী কর্তব্য। মুসলিম উম্মাহকে এজন্য সৃষ্টি করা হয়েছে যে, তারা মানবজাতিকে আল্লাহর বন্দেগীর দিকে আহবান করবে এবং তাদেরকে আল্লাহর আহকামের অধীন করে দুনিয়ার যাবতীয় অন্যায় অত্যাচারের অবসান ঘটাবে। এ দায়িত্ব পালনের জন্য সামর্থ্যানুযায়ী সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে। এমতাবস্থায় কোন ব্যক্তির যুলুম বন্ধ করার চেষ্টার পরিবর্তে যালিমকে সাহায্যের জন্য অগ্রসর হলে বুঝতে হবে, তার হৃদয় শুধুমাত্র ঈমান শূন্যই নয়, বরং ঈমানের বিপরীত চিন্তা দ্বারা পরিপূর্ণ। এজন্যই নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, যালিমের সাহায্যকারী ইসলামের গন্ডি বহির্ভূত।
অন্য এক হাদীস তিরমিযী, আবু দাউদ ও ইবনে মাজায় বর্ণিত হয়েছে। তাতে আবু সাঈদ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: অত্যাচারী শাসকের সামনে হক কথা বলা উত্তম জিহাদ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নবী করীম (ﷺ) কাবা প্রাঙ্গনে প্রদত্ত এক ভাষণে আল্লাহর মাখলুকের উপর রহম করার জন্য মানবজাতিকে উপদেশ দেন। উক্ত ভাষণের একস্থানে তিনি বলেন: যে মহামহিম আল্লাহর হাতে আমার জীবন তার শপথ। রহমশীল ছাড়া কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে আযাব দেবেন যারা দুনিয়াতে মানুষকে কষ্ট দেয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)