মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৬- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৯৯৫
- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়
১৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সৃষ্টির প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ
৪৯৯৫। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলিয়াছেনঃ মুমিন সবার আপন হয়, (সে অন্তরঙ্গ হয় এবং তার সাথে অন্তরঙ্গ হওয়া যায়।) যে অন্তরঙ্গ হয় না এবং যার সাথে অন্তরঙ্গ হওয়া যায় না, তার মাঝে কোনো কল্যাণ নেই। —হাদীস দুইটি আহমদ ও বায়হাকী শো' আবুল ঈমানে
كتاب الآداب
وَعَنْ أَبِي
هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْمُؤْمِنُ مَأْلَفٌ وَلَا خَيْرَ فِيمَنْ لَا يَأْلَفُ وَلَا يُؤْلَفُ» رَوَاهُمَا أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ فِي «شعب الْإِيمَان»
هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْمُؤْمِنُ مَأْلَفٌ وَلَا خَيْرَ فِيمَنْ لَا يَأْلَفُ وَلَا يُؤْلَفُ» رَوَاهُمَا أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ فِي «شعب الْإِيمَان»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যে হৃদয়ে ঈমান রয়েছে, সে হৃদয়ে হিংসা-বিদ্বেষ বাসা বাঁধতে পারে না। যে আল্লাহকে মহব্বত করে, সে আল্লাহর বান্দাদেরকেও মহব্বত করে। বিশ্বাসী ব্যক্তি শুধু নিজের কল্যাণ কামনা করেন না, বরং তিনি সকল মুসলমানের কল্যাণ কামনা করেন। তাই আলোচ্য হাদীসে মু'মিনকে বলা হয়েছে ভালবাসার বস্তু। অর্থাৎ মু'মিনের আপাদমস্তক প্রেম-প্রীতি ও ভালবাসায় পরিপূর্ণ। মু'মিন ব্যক্তি অপরকে ভালবাসেন এবং অপর মানুষের কোন ক্ষতি করেন না। তাই অপর মানুষও মু'মিনকে ভালবাসে। ভালবাসার অর্থ হল মানুষের মঙ্গল কামনা করা, মানুষকে অমঙ্গল থেকে রক্ষা করা, মানুষের বিরুদ্ধে কোনরূপ হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ না করা, মানুষের উপর কোন প্রকার যুলম হলে তার প্রতিকার করা এবং তাকে আদর্শিক ও নৈতিক অধঃপতন থেকে রক্ষা করা। যখন মানুষকে আদর্শিক অধঃপতন থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়, তখন আদর্শ বিভ্রান্ত ব্যক্তি দাওয়াত দানকারীকে শত্রু ভাবতে পারে, আদর্শের বিরোধিতা করতে পারে। যেরূপ রোগাক্রান্ত ব্যক্তির কটুক্তির প্রতি ডাক্তার কোনরূপ গুরুত্ব আরোপ না করে রোগ দূর করার চেষ্টা করেন, সেরূপ মুবাল্লিগ অবিরাম তার কাজ চালু রাখবেন। মনে রাখতে হবে, মু'মিন ব্যক্তি কখনো পাপী এবং কাফিরদের শত্রু নন, বরং পাপ ও কুফরের শত্রু এবং পাপ ও কুফরের মারাত্মক অমঙ্গল থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য অবিরাম সংগ্রাম করে যাওয়া সর্বাধিক মঙ্গলের কাজ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)