মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৬- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৮৬৬
- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়
১০. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জিহ্বার হিফাযাত, গীবত এবং গালমন্দ প্রসঙ্গে
৪৮৬৬। হযরত আবু যার (রাঃ) বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খেদমতে উপস্থিত হইলাম, অতঃপর তিনি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করিলেন। (হাদীসটি এখানে বর্ণনা করা হয় নাই।) শেষ পর্যায়ে আমি আরয করিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বলিলেনঃ আমি তোমাকে খোদা-ভীতির উপদেশ দিতেছি। কেননা, ইহা তোমার যাবতীয় কাজকে অধিক সৌন্দর্যমণ্ডিত করিবে। আমি বলিলাম, আরও অধিক কিছু বলুন। তিনি বলিলেনঃ কোরআন তেলাওয়াত ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ্ তা'আলার যিকরকে নিজের জন্য বাধ্যতামূলক করিয়া লও। ইহা তোমার জন্য উর্ধ্ব আকাশে স্মরণযোগ্য এবং পৃথিবীতে তোমার জন্য আলো হইবে। আমি পুনঃ বলিলাম, আরও অধিক কিছু বলুন। তিনি বলিলেনঃ নীরবতা দীর্ঘ কর। কেননা, ইহা শয়তানকে দূরে সরাইয়া দিবে এবং দ্বীনী কাজে তোমার সহায়ক হইবে। আমি আরয করিলাম, আরও অধিক কিছু বলুন! তিনি বলিলেনঃ অধিক হাসা হইতে নিজেকে বাঁচাইয়া রাখ। কেননা, ইহা অন্তরকে মারিয়া ফেলে এবং চেহারার জ্যোতি বিদূরিত করিয়া দেয়। আমি আরয করিলাম, আরও অধিক কিছু বলুন। তিনি বলিলেনঃ ন্যায় কথা বল, যদিও উহা (কাহারও কাছে) তিক্ত হয়। আরয করিলাম, আরও অধিক কিছু বলুন। তিনি বলিলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় কাজ করিতে কোন নিন্দাকারীর নিন্দাকে ভয় করিও না। আর করিলাম, আরও অধিক কিছু বলুন। তিনি বলিলেনঃ নিজের মধ্যে যে দোষ-ত্রুটি তুমি জান উহা যেন তোমাকে অন্য লোকের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা হইতে বিরত রাখে।
كتاب الآداب
وَعَن أبي
ذرٍّ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ إِلَى أَنْ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوْصِنِي قَالَ: «أُوصِيكَ بِتَقْوَى اللَّهِ فَإِنَّهُ أَزْيَنُ لِأَمْرِكَ كُلِّهِ» قُلْتُ: زِدْنِي قَالَ: «عَلَيْكَ بِتِلَاوَةِ الْقُرْآنِ وَذِكْرِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَإِنَّهُ ذِكْرٌ لَكَ فِي السَّمَاءِ وَنُورٌ لَكَ فِي الْأَرْضِ» . قُلْتُ: زِدْنِي. قَالَ: «عَلَيْكَ بِطُولِ الصَّمْتِ فَإِنَّهُ مَطْرَدَةٌ لِلشَّيْطَانِ وَعَوْنٌ لَكَ عَلَى أَمْرِ دِينِكَ» قُلْتُ: زِدْنِي. قَالَ: «إِيَّاكَ والضحك فَإِنَّهُ يُمِيتُ الْقَلْبَ وَيَذْهَبُ بِنُورِ الْوَجْهِ» قُلْتُ: زِدْنِي. قَالَ: قُلِ الْحَقَّ وَإِنْ كَانَ مُرًّا . قُلْتُ: زِدْنِي. قَالَ: «لَا تَخَفْ فِي اللَّهِ لومة لائم» . قلت: زِدْنِي. لِيَحْجُزْكَ عَنِ النَّاسِ مَا تَعْلَمُ مِنْ نَفْسِكَ
ذرٍّ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ إِلَى أَنْ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوْصِنِي قَالَ: «أُوصِيكَ بِتَقْوَى اللَّهِ فَإِنَّهُ أَزْيَنُ لِأَمْرِكَ كُلِّهِ» قُلْتُ: زِدْنِي قَالَ: «عَلَيْكَ بِتِلَاوَةِ الْقُرْآنِ وَذِكْرِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَإِنَّهُ ذِكْرٌ لَكَ فِي السَّمَاءِ وَنُورٌ لَكَ فِي الْأَرْضِ» . قُلْتُ: زِدْنِي. قَالَ: «عَلَيْكَ بِطُولِ الصَّمْتِ فَإِنَّهُ مَطْرَدَةٌ لِلشَّيْطَانِ وَعَوْنٌ لَكَ عَلَى أَمْرِ دِينِكَ» قُلْتُ: زِدْنِي. قَالَ: «إِيَّاكَ والضحك فَإِنَّهُ يُمِيتُ الْقَلْبَ وَيَذْهَبُ بِنُورِ الْوَجْهِ» قُلْتُ: زِدْنِي. قَالَ: قُلِ الْحَقَّ وَإِنْ كَانَ مُرًّا . قُلْتُ: زِدْنِي. قَالَ: «لَا تَخَفْ فِي اللَّهِ لومة لائم» . قلت: زِدْنِي. لِيَحْجُزْكَ عَنِ النَّاسِ مَا تَعْلَمُ مِنْ نَفْسِكَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. আল্লাহর দ্বীন পালন করিতে কিংবা প্রতিষ্ঠা করিতে কে প্রশংসা করিবে বা কে নিন্দা করিবে সেই দিকে আদৌ ভ্রুক্ষেপ করা উচিত নয়। আর অপরের দোষ অন্বেষণ করার পূর্বে নিজের দোষ-ত্রুটির দিকে তাকাইলে পরনিন্দার অভিপ্রায় হইতে রক্ষা পাইবে।
২. তাকওয়ার ফল ও বরকত অবর্ণনীয়। যিনি আল্লাহকে ভয় করে যিন্দেগী যাপন করেন তিনি দুনিয়ার যিন্দেগীতে বেশুমার ফযীলত লাভ করেন এবং আখিরাতের যিন্দেগীতে উৎফুল্ল ও আনন্দিত হবেন। আল্লাহ মুত্তাকী বান্দাকে বে-ইনতেহা মহব্বত করেন এবং তার বিক্ষিপ্ত কাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করেন।
যিকির খুব ব্যাপক শব্দ। আল্লাহর স্মরণ, নামায, কুরআন তিলাওয়াত সব কিছুই আল্লাহর যিকিরের মধ্যে শামিল। শুধু স্মরণ বা ইয়াদ হিসেবে যখন যিকির ব্যবহৃত হবে, তখন বুঝতে হবে, মনের মধ্যে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, কর্তৃত্ব, এখতিয়ার সম্পর্কে সঠিক ধারণার সৃষ্টি করা। আসমান-যমীন বা যাবতীয় সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা, মুখে আল্লাহর গুণগান করা এবং অপর মানুষের কাছে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা। যখনই কোন মজলিসে আল্লাহর বাণী পাঠ করা হয় বা তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তখন ফেরেশতাদের মজলিসে তার আলোচনা করা হয়। যে আল্লাহকে ইয়াদ করে, আল্লাহ তাকে ইয়াদ করেন।
যিকর ও কুরআন পাঠের মাধ্যমে বান্দা দুনিয়াতে নূর লাভ করবে। দুনিয়াতে নূর লাভ করার জন্য প্রয়োজন হল, কুরআনের অর্থ বুঝতে হবে, কুরআনের হুকুম-আহকাম পালন করতে হবে, কুরআনের ফয়সালার কাছে মাথানত করতে হবে, কুরআন যাকে মন্দ বলে তাকে মন্দ এবং কুরআন যাকে ভাল বলে তাকে ভাল মনে করতে হবে। যখন কুরআনের সাথে ঈমানদার ব্যক্তির সম্পর্ক এ ধরনের হবে, তখন তার জীবন কুরআনের আলোয় আলোকিত হবে।
২. তাকওয়ার ফল ও বরকত অবর্ণনীয়। যিনি আল্লাহকে ভয় করে যিন্দেগী যাপন করেন তিনি দুনিয়ার যিন্দেগীতে বেশুমার ফযীলত লাভ করেন এবং আখিরাতের যিন্দেগীতে উৎফুল্ল ও আনন্দিত হবেন। আল্লাহ মুত্তাকী বান্দাকে বে-ইনতেহা মহব্বত করেন এবং তার বিক্ষিপ্ত কাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করেন।
যিকির খুব ব্যাপক শব্দ। আল্লাহর স্মরণ, নামায, কুরআন তিলাওয়াত সব কিছুই আল্লাহর যিকিরের মধ্যে শামিল। শুধু স্মরণ বা ইয়াদ হিসেবে যখন যিকির ব্যবহৃত হবে, তখন বুঝতে হবে, মনের মধ্যে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, কর্তৃত্ব, এখতিয়ার সম্পর্কে সঠিক ধারণার সৃষ্টি করা। আসমান-যমীন বা যাবতীয় সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা, মুখে আল্লাহর গুণগান করা এবং অপর মানুষের কাছে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা। যখনই কোন মজলিসে আল্লাহর বাণী পাঠ করা হয় বা তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তখন ফেরেশতাদের মজলিসে তার আলোচনা করা হয়। যে আল্লাহকে ইয়াদ করে, আল্লাহ তাকে ইয়াদ করেন।
যিকর ও কুরআন পাঠের মাধ্যমে বান্দা দুনিয়াতে নূর লাভ করবে। দুনিয়াতে নূর লাভ করার জন্য প্রয়োজন হল, কুরআনের অর্থ বুঝতে হবে, কুরআনের হুকুম-আহকাম পালন করতে হবে, কুরআনের ফয়সালার কাছে মাথানত করতে হবে, কুরআন যাকে মন্দ বলে তাকে মন্দ এবং কুরআন যাকে ভাল বলে তাকে ভাল মনে করতে হবে। যখন কুরআনের সাথে ঈমানদার ব্যক্তির সম্পর্ক এ ধরনের হবে, তখন তার জীবন কুরআনের আলোয় আলোকিত হবে।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)