আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৫০- নবীজীর সাঃ যুদ্ধাভিযানসমূহ

হাদীস নং: ৩৯৫১
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৭৯
- নবীজীর সাঃ যুদ্ধাভিযানসমূহ
২২১১. মক্কা বিজয়ের যুদ্ধ। এ যুদ্ধটি রমযান মাসে সংঘটিত হয়েছে
৩৯৫১। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম (ﷺ) রমযান মাসে রোযা অবস্থায় (মক্কা অভিমুখে) সফর করেছেন। অবশেষে তিনি উসফান নামক স্থানে উপনীত হলে একপাত্র পানি দিতে বললেন। তারপর দিনের বেলাই তিনি সে পানি পান করলেন যেন তিনি লোকজনকে তাঁর রোযাবিহীন অবস্থা দেখাতে পারেন। এরপর মক্কা পৌঁছা পর্যন্ত তিনি আর রোযা পালন করেননি। বর্ণনাকারী বলেছেন, পরবর্তীকালে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলতেন সফরে কোন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রোযা পালন করতেন আবার কোন কোন সময় তিনি রোযাবিহীন অবস্থায়ও ছিলেন। তাই সফরে (তোমাদের) যার ইচ্ছা সে রোযা পালন করতে পার, আর যার ইচ্ছা সে রোযাবিহীন অবস্থায়ও থাকতে পার। (সফর শেষে আবাসে তা আদায় করে নেবে)।
كتاب المغازى
باب غَزْوَةِ الْفَتْحِ فِي رَمَضَانَ
4279 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «سَافَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ، فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ عُسْفَانَ، ثُمَّ دَعَا بِإِنَاءٍ مِنْ مَاءٍ، فَشَرِبَ نَهَارًا لِيُرِيَهُ النَّاسَ، فَأَفْطَرَ حَتَّى قَدِمَ مَكَّةَ» قَالَ: وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ: «صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي السَّفَرِ، وَأَفْطَرَ فَمَنْ شَاءَ صَامَ وَمَنْ شَاءَ أَفْطَرَ»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে মক্কার যে সফরের উল্লেখ রয়েছে এটা মক্কা বিজয়ের সময়কার সফর ছিল- যা অষ্টম হিজরীর রমযান মাসে হয়েছিল। এতে তিনি প্রথমে রোযা রাখতে থাকলেন, কিন্তু যখন উসফান নামক স্থানে পৌছলেন, (যা মক্কা মুকাররমা থেকে ৩৫/৩৬ মাইল সম্মুখে একটি ঝর্ণা ছিল।) এবং সেখান থেকে মক্কা কেবল দুই মনযিলের দূরত্ব রয়ে গেল, আর এ আশংকা দেখা দিল যে, নিকটবর্তী সময়েই কোন প্রতিরোধ অথবা যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। তাই তিনি তখন রোযা রাখা উপযোগী মনে করলেন না এবং নিজেই রোযা ছেড়ে দিলেন এবং অন্যদেরকে দেখিয়ে পানি পান করে নিলেন- যাতে কারো জন্য রোযা ছেড়ে দেওয়া কঠিন মনে না হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ বাস্তব কর্ম দ্বারা জানা গেল যে, যে পর্যন্ত রোযা ছেড়ে দেওয়ার তেমন কোন কারণ ও যুক্তিসিদ্ধতা না থাকে, সে পর্যন্ত রোযা রেখে যাওয়াই উত্তম। এ জন্যই তিনি 'উসফান' পর্যন্ত রোযা রেখে গিয়েছেন। কোন বিশেষ কারণ ও যুক্তিসিদ্ধতা ছাড়াও যদি সফরে রোযা ছেড়ে দেওয়া উত্তম হত, তাহলে তিনি সফরের শুরু থেকেই রোযা ছেড়ে দিতেন।

এ ঘটনা সম্পর্কেই হযরত জাবের রাযি. থেকেও একটি বর্ণনা মুসলিম শরীফে এসেছে। সেখানে এ অতিরিক্ত সংযোজনও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এভাবে ঘোষণা দিয়ে রোযা ছেড়ে দেওয়ার পর এবং সবাইকে দেখিয়ে পানি পান করার পরও কিছু লোক রোযা অব্যাহত রাখল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বিষয়টি জানতে পারলেন, তখন বললেন: 'এরা হচ্ছে অবাধ্য ও গুনাহগার'। কেননা, তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় প্রকাশ পাওয়ার পরও এর বিপরীত কাজ করেছে- যদিও না জেনে অথবা ভুল বুঝাবুঝির কারণে করেছে। কেননা, নৈকট্যশীলদের সামান্য ভুলও অপরাধ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)