মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২১- শিকার ও জবাইয়ের পশুর বিধান

হাদীস নং: ৪১৫৭
- শিকার ও জবাইয়ের পশুর বিধান
৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আক্বীকার বর্ণনা
৪১৫৭। হযরত আবু রাফে' (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাসান ইবনে আলীকে যখন হযরত ফাতেমা (রাঃ) প্রসব করিলেন, তখন আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে তাহার কানে নামাযের আযানের ন্যায় আযান দিতে দেখিয়াছি। —তিরমিযী ও আবু দাউদ, ইমাম তিরমিযী বলিয়াছেন, এই হাদীসটি হাসান ও সহীহ্।
كتاب الصيد والذبائح
وَعَن أبي رافعٍ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أذَّنَ فِي أُذُنِ الحسنِ ابنِ عليٍّ حِينَ وَلَدَتْهُ فَاطِمَةُ بِالصَّلَاةِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ. وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَيْثُ حسن صَحِيح

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. শিশুর ডান কানে আযান এবং বাম কানে ইকামতের শব্দগুলি বলা মোস্তাহাব। ঘরের বাহিরে দাড়াইয়া আযান দেওয়া, যাহা আমাদের সমাজে প্রচলিত রেওয়াজ চলিয়া আসিতেছে। উহার কোন আসল নাই।

২. হযরত আবু রাফি রাযি.-এর এ হাদীসে হযরত হাসানের কানে কেবল আযান দেওয়ার উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু অপর এক হাদীস থেকে- যা কানযুল উম্মালে মুসনাদে আবু ইয়ালার বরাতে হযরত হুসাইন ইবনে আলী রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে, বুঝা যায় যে, হুযুর (ﷺ) নবজাতকের ডান কানে আযান ও বাম কানে ইকামত দেওয়ার শিক্ষা ও উৎসাহ দিয়েছেন। সাথে সাথে এই বরকত ও প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছেন যে, এর কারণে সন্তান এক ধরনের রোগ থেকে নিরাপদ থাকে- (যা শয়তানের প্রভাবের কারণেও হয়।)

এসব হাদীস থেকে জানা গেল যে, পরিবারের লোকদের উপর নবজাতকের প্রথম হক ও অধিকার এই যে, সর্বাগ্রে তার কানকে এবং কানের মাধ্যমে তার মন-মস্তিষ্ককে আল্লাহর নাম ও তাঁর তওহীদ এবং ঈমান ও নামাযের দাওয়াতের সাথে পরিচিত করে তুলতে হবে। এর সর্বোত্তম পদ্ধতি এটাই হতে পারে যে, তার কানে আযান ও ইকামতের বাক্যগুলো শুনিয়ে দেওয়া হবে। আযান ও ইকামতের মধ্যে সত্য দ্বীনের মৌলিক শিক্ষা ও আহ্বান অত্যন্ত ফলোদ্দীপক পদ্ধতিতে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এ দু'টি জিনিসের এই তাছীর ও প্রভাব বিভিন্ন হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে যে, এর কারণে শয়তান দূরে পালিয়ে যায়। এ জন্য এটা সন্তানের হেফাযতেরও একটি তদবীর ও প্রক্রিয়া।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জন্মের সময় নবজাতক মুসলমান সন্তানের কানে আযান ও ইকামত দেওয়ার তা'লীম দিয়েছেন। আর যখন হায়াত শেষে মৃত্যু এসে যায়, তখন তাকে গোসল দিয়ে এবং কাফন পরিয়ে তার জানাযার নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এভাবে তিনি যেন একথা জানিয়ে দিয়েছেন যে, মু'মিনের জীবন আযান ও নামাযের মধ্যবর্তী সময়ের জীবন। আর এ জীবন এভাবে কাটাতে হবে, যেভাবে আযানের পর নামাযের অপেক্ষা ও এর প্রস্তুতিতে সময় কাটে। তাছাড়া এ কথাও বুঝা যায় যে, মুসলমান সন্তানের প্রথম হক ও অধিকার এই যে, জন্মের সাথে সাথেই তার কানে আযান দিতে হবে, আর সর্বশেষ হক এই যে, তার জানাযার নামায পড়তে হবে।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান