মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২০- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৮৫১
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৮৫১। হযরত আবু সায়ীদ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহকে (রাহঃ) প্রতিপালক হিসাবে, ইসলামকে দ্বীন হিসাবে এবং মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে রাসূল হিসাবে সন্তুষ্টচিত্তে মানিয়া লয়, তাহার জন্য জান্নাত অবধারিত। এই কথাগুলি শ্রবণ করিয়া আবু সায়ীদ (রাঃ) অত্যধিক আনন্দিত হইয়া বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! উপরোক্ত কথাটি আমার সম্মুখে পুনরাবৃত্তি করুন; তখন হুযূর (ﷺ) পুনরায় উহা বলিলেন। অতঃপর তিনি বলিলেন, এতদ্ভিন্ন আরও একটি বস্তু আছে, যাহার দ্বারা আল্লাহ্ তাঁহার বান্দাকে জান্নাতের মধ্যে এক শত সোপান (সিঁড়ি) বুলন্দ করিবেন এবং প্রত্যেক দুই সিঁড়ির মধ্যবর্তী ব্যবধান আসমান ও যমীনের দূরত্বের সমান। আবু সায়ীদ জানিতে চাহিলেন, ঐ বস্তুটি কি ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ? উত্তরে তিনি (তিনবার) বলিলেন, আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ, আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ, আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ। —মুসলিম
كتاب الجهاد
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ: «من رَضِي بِاللَّه رَبًّا وَالْإِسْلَام دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ» . فَعَجِبَ لَهَا أَبُو سَعِيدٍ فَقَالَ: أَعِدْهَا عَلَيَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَعَادَهَا عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ: «وَأُخْرَى يَرْفَعُ اللَّهُ بِهَا الْعَبْدَ مِائَةَ دَرَجَةٍ فِي الْجَنَّةِ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ» . قَالَ: وَمَا هِيَ يَا رَسُولَ الله؟ قَالَ: «الْجِهَاد فِي سَبِيل الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ الله» . رَوَاهُ مُسلم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

প্রকাশ থাকে, যে ব্যক্তি মনে প্রাণে আল্লাহু তা'আলাকে নিজের রব এবং সায়্যিদিনা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিজের রাসূল ও ইসলামকে নিজের দীন বানাবে, তাঁর জীবনও ইসলামী হবে। সে স্বীয় প্রভুর নির্দেশ পালনকারী এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুগত হবে। এ রূপ বান্দাদেরকে তিনি সুসংবাদ প্রদান করেছেন যে, তাঁদের জন্য আল্লাহ্ তা'আলার নিকট জান্নাতের ফায়সালা হয়ে গেছে, জান্নাত তাঁদের জন্য ওয়াজিব হয়ে গেছে। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যবান মুবারক থেকে এ সুসংবাদ শুনে সীমাহীন খুশী হন। (সম্ভবত এজন্য যে, আল্লাহ্ তা'আলার দয়া ও করুণায় এ সম্পদ তাঁর অর্জিত হয়েছিল)। তিনি (আনন্দে ও আবেগের অবস্থায়) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট নিবেদন করলেন, হুযূর! পুনরায় বলুন। তিনি পুনরায় বলেছিলেন এবং এতদসঙ্গে অতিরিক্ত বললেন, আরেকটি কাজ এরূপ যার সম্পাদনকারীকে শত উঁচু দরজা দান করবেন। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা)-এর জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এটা আল্লাহর পথে জিহাদ, আল্লাহর পথে জিহাদ, আল্লাহর পথে জিহাদ।

উত্তরে তিনি তিনবার বললেন, الجهاد في سبيل الله এতে প্রত্যেক আগ্রহান্বিত ব্যক্তি বুঝতে সক্ষম হবেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হৃদয় মুবারকে জিহাদের কীরূপ মর্যাদা, ভালবাসা ও আগ্রহ ছিল। প্রকাশ থাকে যে, আখিরাত, জান্নাত ও জাহান্নাম সম্বন্ধে কুরআন ও হাদীসে যা কিছু বলা হয়েছে, তাঁর পূর্ণ রহস্য সেখানে পৌঁছেই জানা যাবে। আমাদের এ জগতে এর কোন উপমা ও দৃষ্টান্ত বিদ্যমান নেই। কেবল অন্তর দিয়ে আমাদের মেনে নেওয়া ও বিশ্বাস করে নেওয়া উচিত যে, আল্লাহ্ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বলেছেন তা সত্য ও সঠিক। যথা সময়ে তা প্রকাশ পাবে। ইন্‌শাআল্লাহ্ এটা আমরাও দেখব।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মিশকাতুল মাসাবীহ - হাদীস নং ৩৮৫১ | মুসলিম বাংলা