মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১৯- রাষ্ট্রনীতি ও আদালত-বিচার অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৭৩২
- রাষ্ট্রনীতি ও আদালত-বিচার অধ্যায়
২. প্রথম অনুচ্ছেদ - প্রশাসনিক কর্মস্থলে কাজ করা এবং তা গ্রহণের দায়িত্বে ভয় করা
৩৭৩২। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ও আবু হুরায়রা (রাঃ) তাঁহারা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন : যদি কোন বিচারক (ইজতেহাদপূর্ণ) প্রচেষ্টা দ্বারা সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, তাহার জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার রহিয়াছে। পক্ষান্তরে কোন বিচারক ইজতেহাদের পরও ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছিলে তাহার জন্য একটি পুরস্কার রহিয়াছে। — মোত্তাঃ
كتاب الإمارة والقضاء
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَبِي هُرَيْرَةَ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا حَكَمَ الْحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ فَأَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ فَأَخْطَأَ فلهُ أجرٌ واحدٌ»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. দ্বিগুণ পুরস্কার এই জন্য যে, একটি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছিবার প্রচেষ্টার জন্য এবং অপরটি নির্ভুল সিদ্ধান্তের জন্য। আর দ্বিতীয় অবস্থায় কেবলমাত্র প্রচেষ্টার জন্য পুরস্কার পাইবে।

২. এ হাদীস থেকে একটি বড় মূলনীতি এই জানা গেল যে, যদি হাকিম ও মুজতাহিদ কোন বিষয় ও মাসআলায় সত্যকে জানার যথাসাধ্য চেষ্টা করে, তখন সে যদি সঠিক পরিণতিতে পৌঁছতে সক্ষম না হয় তবু সে আল্লাহর নিকট প্রতিদান ও পুরস্কারের যোগ্য হবে। কেননা, সত্য ও সঠিক বিষয় জানার তার নিয়ত ছিল। আর এ জন্য যে চিন্তা-ভাবনা, পরিশ্রম ও চেষ্টা করেছে। এজন্য সে আদিষ্ট ছিল। তবে একথা সুস্পষ্ট যে, এর সম্পর্ক এ বিষয়ে যোগ্য লোকদের সাথে রয়েছে। অযোগ্য লোকদের ইজতিহাদ করার কেউই অনুমতি দিতে পারে না।

যে ব্যক্তি প্রাচীন বা আধুনিক চিকিৎসা বিদ্যা অর্জন করেনি, সে যদি চিকিৎসালয় খুলে বসে যায় এবং রোগীদের চিকিৎসা করে তবে সে অপরাধী ও জেলখানার যোগ্য হবে। আমাদের ভাষায় যথার্থ উপমা হচ্ছে- "অর্ধ চিকিৎসক প্রাণের শংকা আর অর্ধ মোল্লা ঈমানের শংকা।" অন্য হাদীসে বিশদভাবে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও যোগ্যতা ছাড়া ফায়সালা করে, সে দোযখের যোগ্য।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান