মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১৯- রাষ্ট্রনীতি ও আদালত-বিচার অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৭১৫
- রাষ্ট্রনীতি ও আদালত-বিচার অধ্যায়
তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৭১৫। হযরত মুআবিয়া (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হযরত মুআবিয়াকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেনঃ হে মুআবিয়া। যদি তুমি কোন দিন শাসক পদে নিযুক্ত হও, তবে আল্লাহকে ভয় করিবে এবং শাসন পরিচালনায় ইন্‌সাফ (অর্থাৎ, ন্যায়নিষ্ঠা) রক্ষা করিয়া চলিবে। মুআবিয়া বলেন, হুযুরের এই উক্তির কারণে সেই দিন হইতে সর্বদা আমার এই ধারণা বদ্ধমূল হইয়াছিল যে, একদিন আমি নিশ্চয়ই এই দায়িত্বে নিয়োজিত হইব। শেষ পর্যন্ত এই পরীক্ষায় উপনীত হইলাম। (অর্থাৎ, শাসনভার গ্রহণ করিতে হইল।)
كتاب الإمارة والقضاء
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا مُعَاوِيَةُ إِنْ وُلِّيتَ أَمْرًا فَاتَّقِ اللَّهَ وَاعْدِلْ» . قَالَ: فَمَا زِلْتُ أَظُنُّ أَنِّي مُبْتَلًى بِعَمَلٍ لِقَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم حَتَّى ابْتليت

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে রাষ্ট্রীয় শাসকদের জন্য এ বাণীই রয়েছে যে, তাঁরা আল্লাহ্-ভীতি এবং ন্যায় ও ইনসাফের সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। আলোচ্য হাদীস থেকে এটাও জানা গেল যে, সম্ভবত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর একথা প্রকাশিত হয়েছে যে, এক সময় মু'আবিয়া নির্দেশদাতা ও শাসক হবেন। সুতরাং হযরত 'উমর (রা) ও হযরত উসমান (রা)-এর খিলাফতকালে তিনি সিরিয়ার গভর্নর ছিলেন। এরপর হযরত হাসান (রা)-এর সাথে সন্ধির পর এমন এক সময় এল যে, তাঁকে গোটা ইসলামী রাষ্ট্রের আমীর ও নেতা মেনে নেয়া হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মিশকাতুল মাসাবীহ - হাদীস নং ৩৭১৫ | মুসলিম বাংলা